ঢাকা প্রকাশ
ঢাকার বাবুবাজারে প্রতিষ্ঠিত 'বাঙ্গলাযন্ত্র' নামে বাংলা মুদ্রণযন্ত্র বা প্রেস থেকে ঢাকাপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। বাঙ্গলাযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া গ্রামের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ব্রজসুন্দর মিত্র। প্রেস স্থাপনে তাকে আরও যারা সাহায্য করেন তাদের মধ্যে ঢাকার ধামরাইয়ের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দীনবন্ধু মৌলিক, মুন্সিগঞ্জের রাঢ়িখালের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ভগবানচন্দ্র বসু (বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পিতা), ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র বসু (বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর কাকা) ও মালাখানগরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রামকুমার বসু অন্যতম। কারও মতে ঢাকাপ্রকাশ প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ৭ই মার্চ বৃহস্পতিবার ১৮৬১ সালে, আবার কারও মতে তারিখটি ছিল, ৮ই মার্চ ১৮৬১।
সূত্র: উইকিপিডিয়া
-
যে ধর্ম স্বয়ং ভগবানের উপদিষ্ট; যাহা পরম যোগীগণের শত সহস্র বর্ষব্যাপী কঠোর তপস্যার ফল; যাহার জন্য সাম্রাজ্যাধিপতিগণও অনায়াসে বিষয় ভোগ তুচ্ছ করিয়া গভীর অরণ্যে প্রবেশপূর্বক গলিত পত্রাদি ভক্ষণ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা শ্রেয়োবোধ করিতেন; যে সারবান্ ধর্মকে বিনাশ জন্য কত শত দৈত্য রাক্ষস সমুদ্যত হইয়াও কিছু করিতে পারে নাই; যাহা অনন্তকাল হইলে অনন্ত লোকের সদগতির একমাত্র নিদান স্বরূপে বিরাজমান, সর্বজ্ঞ মহর্ষিদিগের ভষ্যিবাদিতা সাফল্য করিবার জন্যই যেন এই কলিকালে সেই ধর্মে লোক সমূহ আস্থাহীন হইয়া নানা অসৎপথে বিচরণ করিতেছে। মহাকাল পুরুষ মহাপ্রলয়ের হেতুভূত পাপরাশি সঞ্চিত করিবার জন্য জীবসমূহকে নিয়তই পাপের দিকে নানা প্রলোভন দ্বারা টানিতেছে, তাহারই কৌশলে সামান্য বুদ্ধি আধুনিক মানবের
-
‘ভীষণ দাঙ্গা’— বিগত রবিবার রাত্রি অনুমান ৯ ঘটিকার সময় স্থানীয় নবাবপুর পুলের উত্তর পারবর্তী মসজিদের নিকটে হিন্দু ও মুসলমানদিগের মধ্যে ভীষণ দাঙ্গা হইয়া গিয়াছে। সহোদরসম উভয় জাতির মধ্যে কেন পুনরায় এই বৈরিভাব সঞ্চারিত হইয়াছে, তাহার প্রকৃত কারণ আজিও আমরা জানিতে পারি নাই। বঙ্গ বিভাগের আন্দোলনকালে ঢাকার যে হিন্দু মুসলমানকে এক মাতৃগর্ভজাত সন্তানের ন্যায় গলাগলি ধরিয়া কাঁদিতে দেখিয়াছি, আজ সহসা কেন তাহাদের মধ্যে ভাবান্তর উপস্থিত হইল, ইহা বস্তুতই বিশেষ ভাবনার বিষয়। যাহা হউক, ঘটনার বিবরণ যতদূর জানিতে পারা গিয়াছে নিম্নে তাহা সংক্ষেপে বিবৃত হইল। রবিবার সন্ধ্যার পরে শ্রীশ্রী রক্ষাকালীর ভাসান উপলক্ষে শাঁখারি বাজার হইতে সংকীর্তনাদিসহ দেবীমূর্তি বাহির করা হইয়াছিল সংকীর্তনদল নবাবপুর
-
ঢাকার অন্তর্গত মুড়াপাড়া নিবাসী শ্রীযুক্ত বাবু প্রতাপচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ববঙ্গে কেবল যে একজন প্রধান জমিদার বলিয়াই বিখ্যাত এরূপ নহে ধার্মিকতা, সৎকার্য প্রিয়তা ও অজস্র দানশীলতার নিমিত্ত তিনি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ও সর্বধা সম্মানিত। ঢাকার হিন্দুধর্ম সভা তাহারই বিশেষ যত্ন উৎসাহ ও অর্থবলে অদ্যাপি জীবিত রহিয়াছে। তাহার সার্বক্ষণিক দানে এদেশের অনেক সৎকার্য অনুষ্ঠিত ও অনেক দৈন্য দশাপন্ন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত উপকৃত হইতেছে। তদ্বিষয়ক সবিস্তর বিবরণ অদ্যতন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য নহে। প্রতাপ বাবু গত ২৯ পৌষ নিজ বাটিতে মঠ প্রতিষ্ঠা, শিবস্থাপন ও তুলা পুরুষ দান প্রভৃতি হিন্দুধর্মানুমোদিত যে সমস্ত ব্যয় সাধ্য ধর্মক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিয়াছেন, তাহারই সবিস্তর বৃত্তান্ত প্রকাশ করা অদ্যকার প্রস্তাবের অভিপ্রেত। বস্তুত প্রতাপবাবু অতি সমারোহে
-
ঢাকাতে হিন্দু সাধারণের ধর্মানুষ্ঠান জন্য উপযুক্ত স্থান নাই। ঢাকেশ্বরীর বাড়ি সহরের অধিকাংশ লোকের পক্ষে অগম্য। অধিকাংশ লোকের সুবিধাজনক একটিও স্থান কেন নাই, তাহার উত্তর সর্বজনপরিজ্ঞাত। ঢাকায় বাসিন্দা ভদ্রলোক কেহ নাই। যাঁহাদিগকে ভদ্রলোক না বলিলে হয় ত রাগিয়া অগ্নিশর্মা হইবেন, এমন মৌখিক ভদ্র হয় ত ঘরে ঘরেই আছে। এই ভদ্র মহাশয়দিগের কার্যে শৌওকের শ্রীবৃদ্ধি, বেশ্যার বাড়ি হর্ম নিকেতন, আর বিড়ার কুত্তার বিবাহে লাক টাকা ব্যয় দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু যাহা করিলে সাধারণের ধর্মলাভ হয়, যদ্বারা ধার্মিক সমাজে চিরস্মরণীয় হওয়া যায়, এমন কার্য একটিও দেখিবার উপায় নাই । এই স্থানে এই ৫/৭ শত বৎসর মধ্যে কত সহস্র বড়লোক জন্মিয়াছে, কিন্তু তিন পুরুষ
-
‘সহমরণ’-ধাইয়ের পাড়া বিক্রমপুরের একখানি ক্ষুদ্র গ্রাম। সুধন্যচন্দ্র দাস দেখুর বাড়ি উক্ত ধাইয়ের পাড়া গ্রামে। সুধন্য ওলাউঠায় আক্রান্ত হইয়া হঠাৎ মৃত্যু-মুখে পতিত হয়। সুধন্যের মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে তাহার পুণ্যবতী পত্নীরও ওলাউঠার ন্যায় ভেদ হইতে থাকে। কালের শাসনে সুধন্যের জীবন বায়ুটুকু অনন্তে মিলিয়া গেলে, তদীয় সাধ্বী পত্নী আত্মজীবনে হতাশ হইয়া পড়িল। হৃদয়ের দেবতার অনুগমন করিবার নিমিত্ত অভাগিনীর অন্তরাত্মা বুঝিবা বড়ই ব্যাকুল হইয়াছিল। তাই পতিব্রতা রমণী আপন ৫/৬ ক্ষুদ্র শিশুসন্তানটিকে জনৈকা আত্মীয়ার হাতে সমর্পণ করিয়া সকলের নিকট চিরবিদায় প্রার্থনা করিয়া লইল। পতির মৃতদেহ তখনও প্রাঙ্গণে শায়িত ছিল। সাধ্বী কম্পিত কলেবরে ধীরে যাইয়া তৎপার্শ্বে শয়ন করিল। ক্রমে রমণীর নয়নযুগল স্থির নিশ্চল হইয়া আসে, যেন
-
৯ই চৈত্র অপরাহ্নে সর্বজন পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ ঢাকায় পদার্পণ করেন। ঢাকার পক্ষে পূর্ববঙ্গের পক্ষে সেই দিন বড়ই শুভ দিন গিয়াছে। কিন্তু ঢাকার শিক্ষিত সমাজের দূরদৃষ্ট-পুং বঙ্গীয় সমাজের দূরদৃষ্ট ঢাকাবাসীরা স্বামীজির আগমন সম্বন্ধে পূর্বে কোন আভাস পান নাই যাহা হউক স্বামীজি অনাহূত অবস্থায় ঢাকা আসেন নাই ইহাই সুখের বিষয়। রামকৃষ্ণ মিশন নামক কোন এক সমিতি তাহার আদর অভ্যর্থনার জন্য বিশেষ আয়োজন করিয়াছিলেন এবং তাঁহাদেরই উৎসাহ উদ্যোগে সশিষ্য স্বামীজি পরোলোকগত মোহিনীবাবুর গৃহ পবিত্র করিলেন অভ্যর্থনাপর্বের যবনিকা এখানেই পতন হইল।
বিবেকানন্দ ঢাকায় আসিলেন— ঢাকায় হুলস্থূল পড়িল না আশ্চর্যের বিষয় নয় কি? যিনি মার্কিন বিজয় করিয়া আসিলেন ইয়ুরোপীয় পণ্ডিতমণ্ডলীকে স্তম্ভিত করিয়া আসিলেন, বিদেশে স্বামী
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.