ঢাকায় সহমরণ

‘সহমরণ’-ধাইয়ের পাড়া বিক্রমপুরের একখানি ক্ষুদ্র গ্রাম। সুধন্যচন্দ্র দাস দেখুর বাড়ি উক্ত ধাইয়ের পাড়া গ্রামে। সুধন্য ওলাউঠায় আক্রান্ত হইয়া হঠাৎ মৃত্যু-মুখে পতিত হয়। সুধন্যের মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে তাহার পুণ্যবতী পত্নীরও ওলাউঠার ন্যায় ভেদ হইতে থাকে। কালের শাসনে সুধন্যের জীবন বায়ুটুকু অনন্তে মিলিয়া গেলে, তদীয় সাধ্বী পত্নী আত্মজীবনে হতাশ হইয়া পড়িল। হৃদয়ের দেবতার অনুগমন করিবার নিমিত্ত অভাগিনীর অন্তরাত্মা বুঝিবা বড়ই ব্যাকুল হইয়াছিল। তাই পতিব্রতা রমণী আপন ৫/৬ ক্ষুদ্র শিশুসন্তানটিকে জনৈকা আত্মীয়ার হাতে সমর্পণ করিয়া সকলের নিকট চিরবিদায় প্রার্থনা করিয়া লইল। পতির মৃতদেহ তখনও প্রাঙ্গণে শায়িত ছিল। সাধ্বী কম্পিত কলেবরে ধীরে যাইয়া তৎপার্শ্বে শয়ন করিল। ক্রমে রমণীর নয়নযুগল স্থির নিশ্চল হইয়া আসে, যেন পতির চিরবাঞ্ছিত চরণযুগলতন্ময়চিত্তে হৃদয়ে ধ্যান করিয়া সতী চিরশান্তি লাভ করিতেছে। দেখিতে দেখিতে সকল ফুরাইয়া গেল। মুহূর্ত মধ্যে পতিপ্রাণা পত্নীর জীবনকণিকা পতির অনুগমন করিয়া সেই, চির সম্মিলনক্ষেত্রে চলিয়া গিয়াছে। দম্পতির আত্মীয়বর্গ ইহাদের এই যুগল শব একই শ্মশানে ভস্মীভূত করিয়া সতী সাধ্বীর শেষ বাসনা পূর্ণ করিয়াছে। আজি কালিকার এই অধঃপতনের দিনেও সমাজ পট হইতে সতীর চিত্র একেবারে অর্হিত হয় নাই বলিয়াই আজিও হিন্দু সমাজের অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে।

ঢাকা প্রকাশ, ১০ মে ১৯০৩

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice