-
লেখক: গুণময় দাস
“আমার জীবনই আমার সাহিত্য।”—তুর্গিয়েনেফ
যে সমস্ত প্রতিভাধর সাহিত্যিকের রচনাসম্ভারে রুশ জাতীয় সংস্কৃতির গৌরব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তুর্গিয়েনেফ। লেনিন এঁকে “স্বনামধন্য রুশ লেখক” বলে অভিহিত করেছেন।
সামন্ত-ভূমিদাস প্রথা থেকে বুর্জোয়া-ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে এক বিরাট পটপরিবর্তন হল, সেই এক সমগ্র ঐতিহাসিক যুগের রুশ জনজীবনের সার্থক প্রতিফলন দেখা যায় তুর্গিয়েনেফ-এর রচনায়। এই বিরাট শিল্পী-রিয়ালিস্ট রুশ সমাজ-আন্দোলনের যে সব উজ্জ্বল চিত্র এঁকেছেন তাদের সঞ্চারকাল ঊনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ‘ছাত্র-চক্র’ থেকে শুরু করে ১৮৭৪-১৮৭৬ খৃষ্টাব্দের ‘জনগণের কাছে যাও’ আন্দোলনের সময় পর্যন্ত ৷
গভীর স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তুর্গিয়েনেফ, এবং তারই উদ্দেশে পরিপূর্ণরূপে নিয়োজিত করেছিলেন আপন শিল্পক্ষমতাকে।
-
‘তাহলে আপনারা বলছেন ভালোমন্দের স্বাধীন বিচারশক্তি মানুষের নেই, সব হচ্ছে পরিবেশের ব্যাপার, মানুষ পরিবেশের ক্রীড়নক। কিন্তু আমার মনে হয় সব হল দৈবের হাতে। নিজের বিষয়ে বলি শুনুন...’
বললেন আমাদের সকলের মাননীয় বন্ধু ইভান ভাসিলিয়েভিচ একটি আলোচনার উপসংহারে। ব্যক্তির উন্নয়নের জন্য আগে দরকার পরিবেশ বদলানো, যে অবস্থায় লোকে আছে সে অবস্থাটা বদলানো, এই নিয়ে চলেছিল আমাদের কথাবার্তা। সত্যি বলতে, ভালো কা মন্দের বিচারশক্তি অসম্ভব- এমন কথা কেউ বলে নি, কিন্তু ইভান ভাসিলিয়েভিচের অভ্যেস ছিল, আলোচনা প্রসঙ্গে নিজের মনেই যে সব ভাবনা উঠেছে তারই জবাব দেওয়া এবং সেই উপলক্ষে নিজের জীবনের নানা ঘটনার কথা বলা। মাঝে মাঝে গল্পতে তিনি এত মত্ত হয়ে
-
পুলিস ইনস্পেক্টর ওচুমেলভ[১] হেঁটে যাচ্ছিলেন বাজারের মধ্যে দিয়ে। গায়ে তাঁর নতুন ওভারকোট, হাতে পাটুলি এবং পিছনে এক কনেস্টবল। চুলের রঙটা তাঁর লাল, হাতের চালুনিটা ভর্তি হয়ে গেছে বাজেয়াপ্ত-করা গুজবেরিতে। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই...বাজার একেবারে খালি ক্ষুদে ক্ষুদে দোকান আর সরাইখানার খোলা দরজাগুলো যেন একসার ক্ষুধার্ত মুখ-গহ্বরের মতো দীনদুনিয়ার দিকে হাঁ করে আছে। ধারে কাছে একটি ভিখিরি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নেই।
হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘কামড়াতে এসেছ হতচ্ছাড়া, বটে? ওকে ছেড়ো না হে। কামড়ে বেড়াবে সে আইন নেই আর। পাকড়ো পাকড়ো! হেই!’
কুকুরের ঘ্যান ঘ্যান ডাকও শোনা গেল একটা। ওচুমেলভ সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, পিচুগিন দোকানীর কাঠগোলা থেকে বেরিয়ে এসে একটি
-
I
IT WAS a dark autumn night. The old banker was walking up and down his study and remembering how, fifteen years before, he had given a party one autumn evening. There had been many clever men there, and there had been interesting conversations. Among other things they had talked of capital punishment. The majority of the guests, among whom were many journalists and intellectual men, disapproved of the death penalty. They considered that form of punishment out of date, immoral, and unsuitable for Christian States. In the opinion of some of them the death penalty ought to be replaced
-
লেখক: আবুলহাসান (জন্ম ১৯০৬)
[সোভিয়েত আজেরবাইজানের বয়োজ্যেষ্ঠ গদ্যলেখক। শ্রমিকদের জীবনের গল্প এবং নতুন সমাজতান্ত্রিক মনোভাব ও নীতিবোধ সম্পর্কে গল্পগুলির জন্য তিনি সুপরিচিত। তাঁর ‘চড়াই’ (গ্রামের কৃষির যৌথীকরণ সম্বন্ধে), ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’ (সোভিয়েত শাসনের জন্য আজেরবাইজানের জনগণের সংগ্রাম সম্বন্ধে), ‘সাদাগেত' (আধুনিক গ্রামের জীবন সম্পর্কে ‘বন্ধুত্বের দূর্গ’ (পিতৃভূমির মহাযুদ্ধের সময়ে সেভাস্তোপোলের বীরোচিত প্রতিরক্ষা সম্বন্ধে) উপন্যাসগুলি যথাযোগ্য মর্যাদা পায়। ছোট গল্প ‘বুলবুলি গান গাও!’ যুদ্ধের বিষয়ে—গোলন্দাজ বাহিনীর একটা ছোট দলের বীরোচিত কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে।]
‘ফা-য়া-র!’
দূরপাল্লার কামানগুলির চাকা দারুণভাবে নড়ে উঠল আর একসঙ্গে তাদের লম্বা নল থেকে দ্রুত বেরিয়ে এল অগ্নিধারা। দারুণ আওয়াজে পাহাড়গুলি কেপে উঠল, বনটা দুলে উঠে সরসর মর্মর আওয়াজ
-
সারা গালচিনো জেলায় কুন্দকার মিস্ত্রি গ্রিগরি পেত্রভের নাম ওস্তাদ কারিগর হিসেবে যেমন, পাঁড় মাতাল ও পয়লা নম্বরের হতচ্ছাড়া বলেও তেমনি। সেই পেত্রভ তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চলেছে জেমস্তভো হাসপাতালে। ত্রিশ ভেস্ট রাস্তা তাকে ঘোড়ার গাড়িটা চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে, আর রাস্তা ভয়াবহ, এমনকি ডাক হরকরাও এই রাস্তার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে যায়, কাঁড়ের রাজা কুন্দকার গ্রিগরির কথা ছেড়েই দিচ্ছি। হাড়-কাঁপানো হিমেল বাতাসের ঝাপটা তার মুখে এসে পড়ছে। তুষার পাপড়ির ঘূর্ণীতে চারদিক ছেয়ে গেছে, তুষার আকাশ থেকে পড়ছে না মাটি থেকে উঠে আসছে বোঝা ভার। মাঠ বন টেলিগ্রাফের থাম কিছুই ঠাওর করা যাচ্ছে না। ঝাপটাটা যখন জোর হচ্ছে গ্রিগরি
-
A GLOOMY winter morning.
On the smooth and glittering surface of the river Bystryanka, sprinkled here and there with snow, stand two peasants, scrubby little Seryozhka and the church beadle, Matvey. Seryozhka, a short-legged, ragged, mangy-looking fellow of thirty, stares angrily at the ice. Tufts of wool hang from his shaggy sheepskin like a mangy dog. In his hands he holds a compass made of two pointed sticks. Matvey, a fine-looking old man in a new sheepskin and high felt boots, looks with mild blue eyes upwards where on the high sloping bank a village nestles picturesquely. In his hands
-
ইভান্ পেত্রোভিচ, পাভলভ, (১৮৪৯-১৯৩৬) আমাদের দেশে এখনও অপরিচিত বললেই চলে। তাঁর ‘কন্ডিশন্ড্-রিফ্লেক্স’ কথাটি অল্পাধিক জানা আছে অনেকের কিন্তু এর সঠিক তাৎপর্য এবং চিকিৎসা-বিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান ও প্রধানত মনোবিজ্ঞানের উপর পাভলভের এই ‘কন্ডিশন্ড্-রিফ্লেক্স’ আবিষ্কারের প্রভাব সম্বন্ধে আমাদের দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিরাও সম্পূর্ণ সজাগ নন।
মনোবিজ্ঞান এই সেদিনও দর্শনশাস্ত্রের আওতার মধ্যে আটকা ছিলো। সত্যিকারের বিজ্ঞানের পর্যায়ে আসবার ও স্বাতন্ত্র্য লাভের চেষ্টা দেখতে পাই ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে। এই সময় জার্মানীতে ওয়েবার, মুলার, হেল্মহোজ প্রভৃতি ফিজিওলজিষ্টরা দর্শন ও শ্রবণইন্দ্রিয় বিষয়ক বহু নতুন তথ্য আবিষ্কার করেন, ইংলণ্ডে “Expression Of The Emotions In Men And Animals” বইখানি এই সময় প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে জার্মানীতেই ভোকনার
-
‘আচ্ছা, মেঘগুলো সব গেল কোথায়?’ বলল ল্যুবাশকা।
ঘাসের ওপর শুয়ে শুয়ে সে নীল আগুনে পোড়া আকাশটাকে দেখছিল। পরিষ্কার ফাঁকা আকাশ। শুধু ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে একটা তপ্ত গোলক—সূর্য। আজ দু’দিন ধরে এই চোখ ধাঁধানো গোলকটায় মেঘের ছায়া পড়েনি।
গুমোট। গরম। তপ্ত হাওয়ায় তালু জ্বলে যায়। পুড়ছে, পুড়ছে। ফ্যাকাশে নীল আগুনে পুড়ছে উঁচু আকাশটা। পুড়ছে একদিন, দু’দিন, দু’সপ্তাহ। সাদা মেঘগুলো যেন দানা বাঁধতে-না-বাঁধতেই সে আগুনে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে।
‘অমন মনমরা কেন ওগুলো, অমল চুপচাপ?’ বলল ক্ষেতের গম শিষগুলোকে লক্ষ করে।
গমগাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে একেবারে নিশ্চল। গম, ঘাস, গাছপালা—সবকিছুই। এতটুকু খসখসানি নেই।
‘হবে না মনমরা!’ পাশ দিয়ে যাচ্ছিল শুরা মাসি, আমার
-
অপরূপ একরাতে নাম-করা কেরানি ইভান দুমিত্রিচ্ চেরভিয়াকভ[☆]স্টলের দ্বিতীয় সারিতে বসে অপেরা গ্লাস দিয়ে 'লা ক্লশে দ্য কর্ণেভিল্' অভিনয় দেখছিলেন। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাঁর মনে হচ্ছিল, মরজগতে তাঁর মতো সুখী বুঝি আর কেউ নেই। এমন সময় হঠাৎ... ‘হঠাৎ’ কথাটা বড়ো একঘেয়ে হয়ে পড়েছে। কিন্তু কী করা যায় বলুন, জীবনটা এতই বিস্ময়ে ভরা যে কথাটা ব্যবহার না করে লেখকদের গত্যন্তর নেই! সুতরাং, হঠাৎ, ও'র মুখখানা উঠল কুঁকড়ে, চক্ষু শিবনেত্র, শ্বাস অবরুদ্ধ...এবং অপেরা গ্লাস থেকে মুখ ফিরিয়ে সিটের ওপর ঝুঁকে পড়ে—হ্যাঁচ্চো! অর্থাৎ হাঁচলেন। হাঁচার অধিকার অবশ্য সকলেরই আছে, এবং যেখানে খুশি। কে না হাঁচে—চাষী হাঁচে, বড়ো দারোগা হাঁচে, এমন
-
A STILL August night. A mist is rising slowly from the fields and casting an opaque veil over everything within eyesight. Lighted up by the moon, the mist gives the impression at one moment of a calm, boundless sea, at the next of an immense white wall. The air is damp and chilly. Morning is still far off. A step from the bye-road which runs along the edge of the forest a little fire is gleaming. A dead body, covered from head to foot with new white linen, is lying under a young oak-tree. A wooden ikon is lying on
-
SHORTLY after finding his wife in flagrante delicto[1]Fyodor Fyodorovitch Sigaev was standing in Schmuck and Co.'s, the gunsmiths, selecting a suitable revolver. His countenance expressed wrath, grief, and unalterable determination.
"I know what I must do," he was thinking. "The sanctities of the home are outraged, honour is trampled in the mud, vice is triumphant, and therefore as a citizen and a man of honour I must be their avenger. First, I will kill her and her lover and then myself."
He had not yet chosen a revolver or killed anyone, but already in imagination he saw three
উৎস
- পরিচয়
- প্রক্রিয়াধীন
- আজেরবাইজানের গল্প-সংগ্রহ
- বৃষ্টি আর নক্ষত্র
- ইউক্রেনের লোককথা
- সোনার পেয়ালা
- রাঙা পাল
- কাজাখ লোককাহিনী
- স্নেগোভেৎসের হোটেলে
- সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দেশে দেশে
- রূপের ডালি খেলা
- উক্রাইনীয় উপকথা
- সোমেন চন্দ গল্পসঞ্চয়ন
- তাজিক লোককাহিনী
- বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর
- সেকেলে ফ্যাসিবাদ
- তানিয়া
- আয়ত দৃষ্টিতে আয়ত রূপ
- মনে রেখো আমাদের, হে বাংলাদেশ
আর্কাইভ
লেখক
- আন্তন চেখভ (১৩)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেকজান্ডার ওয়ার্থ (১)
- আলেক্সান্দর গ্রিন (৩)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- ইভান ইয়েফ্রেমভ (১)
- ইভান তুর্গেনেভ (১)
- ইলিয়া এরেনবুর্গ (১)
- ইয়াকভ আকিম (১)
- কনস্তানতিন পাউস্তোভস্কি (৮)
- কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ (৪)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গোপাল হালদার (১)
- চিঙ্গিস্ আইৎমাতভ্ (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- নিতাই দাস (১)
- পাভেল লিডভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৭৮)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- মাৎভেই তেভেলেভ (১০)
- রণেশ দাশগুপ্ত (২)
- লেভ তলস্তয় (২)
- শাহীন রহমান (১)
- সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১)
- সাদ্রিদ্দিন আয়নি (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
- সোমেন চন্দ (৫)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.