দুই কিপটের গল্প
সমরখন্দ এক বাই থাকত, আর এক বাই থাকত পাহাড় এলাকায়। যে পাহাড়ী এলাকায় থাকত সে ছিল আশ্চর্য কিপ্পণ। তার ছিল কতকগুলো ভেড়ার পাল, কতকগুলো ঘোড়ার পাল, কয়েকজন খেতিমজুর আর তিন বউ। সমরখন্দের বাইও কম যেত না তার কাছে কিপটেমিতে: ধনসম্পত্তি তারও কম ছিল না: টালির তৈরী বাড়ি, ঘোড়ার পাল, ভেড়ার পাল। কিন্তু সে এমনকি গরীব মানুষকে একটুকরো রুটিও দিত না, কখনও ভিক্ষা দিত না, দিনমজুর রাখত না, সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করত।
সমরখন্দের বাইয়ের স্ত্রী যুবতী, তার মোটেই ভালো লাগে না বাইয়ের এই কিপটেমি। সে প্রতিজ্ঞা করল যে তার স্বামী মরে গেলে সে আবার বিয়ে করবে এক উড়নচণ্ডিকে।
বাই মরে গেল শেষে। ছেলেমেয়ে ছিল না তার, সব ধনসম্পত্তি পেল তার স্ত্রী। এক জুয়াড়ীকে বিয়ে করল সে, তাকে রেশমী পোশাক পরিয়ে তার হাতে দিল অনেক টাকা খরচ করার জন্য। জুয়াড়ী তো খুব টাকা ওড়াতে লাগল বন্ধুদের সঙ্গে মদ খেয়ে, স্ফূর্তি করে। বাইয়ের মাথাটা কেটে রেখে দিয়েছিল তার বউ, প্রতিদিন খাওয়াদাওয়া সারা হলে সে আর তার নতুন স্বামী দু’জনে মিলে লাঠি দিয়ে মাথাটাকে মারে আর বলে: ‘তোমার সম্পত্তি তুমি নিজে ভোগ কর নি, দেখ আমরা কেমন ভোগ করছি।’
এমনি ভাবে বেশ স্ফূর্তিতে কাটতে লাগল তাদের দিন।
যে বাই পাহাড়ী এলাকায় থাকত সে একদিন শহরে এল দরকারে। বাজারে কতকগুলো ভেড়া বেচে সে কিনল একটা ভেড়ার মাথা যেটা পচতে আরম্ভ করেছে, কিনল পচা শাকসবজী তরকারী, পোকাধরা চাল, শক্ত বাসী রুটি, হলদে হয়ে যাওয়া শসা, এ সব কিনে বাড়ীর পথ ধরল। কিন্তু সন্ধ্যের আঁধার নামায় শহরেই রাতটা কাটাবে ঠিক করল। কাছেই একটা বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিল সে। সে হল সেই মৃত বাইয়ের বাড়ি। অতিথির পোশাক-আশাক নোংরায় ভর্তি, জুতো ছেঁড়াখোঁড়া, এমন কি কুকুরেরও তার সঙ্গে বসে খেতে ঘেন্না হবে। কিন্তু বাড়ির মালিক স্বামী-স্ত্রী সমাদর জানিয়ে ঘরের ভিতর নিয়ে গেল অতিথিকে, নরম বিছানায়, রেশমী কম্বলের উপর শুতে দিল। বিভিন্ন রকমের খাবার দাবার এনে রাখল তার সামনে। মৃত বাইয়ের মাথাটাও আনা হল। স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞাসা করল, ‘মাথাটা এখন পিটাব নাকি খাবার পরে?’
‘খাবার পরে,’ বলল স্বামী।
খাওয়াদাওয়া সারল তারা, তারপর মাথাটায় লাঠি পিটতে লাগল আর বলতে লাগল, ‘যারা নিজেরা জীবন থাকতে নিজের ধন ভোগ করে না তাদের এমনি দশাই হয়।
অবাক হল অতিথি। সকালবেলায় যখন অতিথির সামনে চা আনা হল সে জিজ্ঞাসা করল, ‘মাথাটাকে পিটাচ্ছিলে কেন তোমরা?’
‘আমি ঐ বাইয়ের স্ত্রী ছিলাম’, বলল মেয়েমানুষটি, ‘সমরখন্দের সবচেয়ে ধনী ছিল সে, কিন্তু এক কপর্দকও খরচ করত না সে। তখন আমি প্রতিজ্ঞা করি ও মরলে বিয়ে করব এক উড়নচণ্ডীকে। সে মরলে এই মাতালটাকে বিয়ে করি। প্রতিদিন বাড়িতে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসে ও ভোজ হয় প্রতিদিনই।’
তার কথা শুনে বাই যখন তাদের বাড়ি থেকে বেরোল যা কিছু সে বাজারে কিনেছিল সব ছুঁড়ে ফেলে দিল স্তেপে, বাড়ীতে ফিরে একটা ভেড়া কাটতে আদেশ দিল। তার এমনি পরিবর্তন দেখে তার বউয়েরা ভীষণ অবাক হল, জিজ্ঞাসা করতে লাগল কি হয়েছে তার। বাই বলল, ‘তোদের বাপমা চুলোয় যাক! তোদের জাতের একজনকে দেখলাম। আমি মরলে তোরাও মাতালকে বিয়ে করে আমার সব টাকাপয়সা উড়িয়ে দিবি। তার চেয়ে আমি নিজেই উড়োব আমার টাকা।’
সেই থেকে বাই অর্থ দান করতে লাগল বিদ্যালয় নির্মাণে, গ্রাম উন্নয়নে, গ্রামে সবার জন্য তৈরী করে দিল যাঁতাকল, তেলের ঘানি আরও অন্যান্য ভাল কাজে ব্যয় করল নিজের ধনসম্পত্তির অর্ধেক।
তাজিক লোককাহিনী, অনুবাদ: পূর্ণিমা মিত্র, আঁকিয়ে: ইল্যুস
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments