ডেঁটো-পাঁঠী
এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বাজারে গিয়ে বুড়ো একটা পাঁঠী কিনল। বাড়ি নিয়ে এসে রাতে ঘুমাল, পরের দিন বুড়ো ছেলেকে বললে পাঁঠীটা চরিয়ে আনতে। ছোকরা পাঁঠী চরায়, চরাল একেবারে সন্ধে পর্যন্ত। সন্ধেয় তাকে নিয়ে চলল বাড়ি। এল বেড়ার দরজা পর্যন্ত, বুড়ো সেখানে তার লাল বুট পরে দাঁড়িয়ে। শুধাল: ‘পাঁঠী আমার, ছাগলীটি, জল খেয়েছিস তুই, ঘাস খেয়েছিস?’
‘না দাদু, কিছু, খাই নি, দাই নি: কেবল সাঁকো দিয়ে যাওয়া, পাতা খুঁটে নেওয়া, খালের পাড়ে ছোটা, একফোঁটা জল জোটা—ওইটুকুনি ভোজন, ওই তেষ্টা মিটন।’
ছেলের ওপর রেগে গেল বুড়ো, দিল তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে ৷ পরের দিন ছোটো ছেলেকে পাঠাল। ছাগল চরায় সে, চরাল একেবারে সন্ধে অবধি। সন্ধেয় বাড়ি চলল, এল বেড়ার দরজা পর্যন্ত, বুড়ো সেখানে তার লাল বুট পরে দাঁড়িয়ে। শুধাল:‘পাঁঠী আমার, ছাগলীটি, জল খেয়েছিস তুই, ঘাস খেয়েছিস?’
‘না দাদু, কিছু, খাই নি, দাই নি: কেবল সাঁকো দিয়ে যাওয়া, পাতা খুঁটে নেওয়া, খালের পাড়ে ছোটা, একফোঁটা জল জোটা—ওইটুকুনি ভোজন, ওই তেষ্টা মিটন।’
এ ছেলেটাকেও তাড়িয়ে দিল বুড়ো।
পরের দিন পাঠাল তার বুড়িকে।
ছাগল নিয়ে গেল বুড়ি, চরাল সারা দিন ধরে, সন্ধেয় বাড়ি নিয়ে এল ; বুড়ো ওদিকে তার লাল বুট পরে বেড়ার দরজায় দাঁড়িয়ে। শুধাল: ‘পাঁঠী আমার, ছাগলীটি, জল খেয়েছিস তুই, ঘাস খেয়েছিস?’
‘না দাদু, কিছ, খাই নি, দাই নি: কেবল সাঁকো দিয়ে যাওয়া, পাতা খুঁটে নেওয়া, খালের পাড়ে ছোটা, একফোঁটা জল জোটা—ওইটুকুনি ভোজন, ওই তেষ্টা মিটন।’
বুড়িকেও তাড়িয়ে দিল বুড়ো।
চার দিনের দিন নিজেই সে ছাগলী নিয়ে গেল। সারা দিন চরাল, সন্ধেয় বাড়ির পথ ধরল, নিজে গেল আগে আগে, লাল বুট জুতো পরে দাঁড়াল বেড়ার দরজায়, শুধাল: ‘পাঁঠী আমার, ছাগলীটি, জল খেয়েছিস তুই, ঘাস খেয়েছিস?’
‘না দাদু, কিছু, খাই নি, দাই নি: কেবল সাঁকো দিয়ে যাওয়া, পাতা খুঁটে নেওয়া, খালের পাড়ে ছোটা, একফোঁটা জল জোটা—ওইটুকুনি ভোজন, ওই তেষ্টা মিটন।’
রেগে গেল বুড়ো, কামারশালায় গিয়ে ছুরি শানাল, কাটতে গেল পাঁঠীকে। কিন্তু পাঁঠী তার হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে গেল বনে। বনে ছাগলী দেখতে পেল খরগোশের এক কুঁড়ে, ঢুকল ভেতরে, লাকিয়ে রইল চুল্লির তাকের ওপরে।
বাড়ি ফিরল খরগোশ, দেখে কে যেন বসে আছে। খরগোশ জিগ্যেস
করল:
‘কে আমার কুঁড়েঘরে?’
আর ছাগলী ওদিকে চুল্লির তাকে বসে বসে আওড়ায়:
আমি ডেঁটো-পাঁঠী,
কেনা তিনটে পয়সায়,
পেটের লোম ফরসা।
চাঁট মারব ক্ষুরে,
শিং বেঁধাব ফুঁড়ে,
হোক না তুই ধাড়ি,
মারব লেজের বাড়ি—
অমনি পাবি অক্কা!
ভয় পেয়ে গেল খরগোশ, পালাল কুঁড়ে থেকে, বসে রইল গাছের তলে। বসে বসে কাঁদে। হঠাৎ এল ভালুক, জিজ্ঞেস করলে:
‘কাঁদছিস কেন রে দৌড়-খোশ খরগোশ?’
‘না কেঁদে কী করি বলো গো ভালুক, কুঁড়েতে আমার বসে আছে যে এক ভয়ংকর জন্তু!’
ভালুক বললে: ‘আমি ওকে ভাগিয়ে দেব!’
ছুটে ঢুকল সে ভেতরে: ‘কে রে এই খরগোশের কুঁড়েয়, কে?’
আমি ডেঁটো-পাঁঠী,
কেনা তিনটে পয়সায়,
পেটের লোম ফরসা।
চাঁট মারব ক্ষুরে,
শিং বেঁধাব ফুঁড়ে,
হোক না তুই ধাড়ি,
মারব লেজের বাড়ি—
অমনি পাবি অক্কা!
ভয় পেয়ে গিয়ে ভালুক পালাল কুঁড়ে থেকে।
বললে, ‘না ভাই দৌড়-খোশ খরগোশ, ভাগাতে পারব না, বাপরে, ভয় করছে!’
ফের খরগোশ এসে বসল গাছের তলে, কাঁদতে থাকল। হঠাৎ এল নেকড়ে, শুধাল: ‘কী জন্যে কাঁদছিস রে দৌড়-খোশ খরগোশ?’
‘না কেঁদে কী করি বলো নেকড়ে—ছেয়ে-ধেবড়ে, কুঁড়েতে আমার বসে আছে যে এক ভয়ংকর জন্তু।’
নেকড়ে বললে: ‘আমি ওকে ভাগিয়ে দেব!’
‘কী তোমার সাধ্যি। কত চেষ্টা করল ভালুক, পারল না, তুমি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments