-
সুলেমানের প্রাসাদ ছিল ধনরত্নে পূর্ণ, কিন্তু তার মধ্যে সব থেকে বেশী মূল্য দিত খান একটা সোনার আংটিকে, সেটাকে কখনই সে খুলত না হাত থেকে। সেটা ছিল একটা জাদু-আংটি: যে সেটাকে পরত সেই গাছপালা জীবজন্তুর ভাষা বুঝতে আরম্ভ করত আর তাদের ওপর প্রভুত্ব অর্জন করত।
একবার শিকারে বেরিয়ে সুলেমান ঠাণ্ডা জলে মুখচোখ ধুয়ে নেবার জন্য নদীর কাছে গেল। অঞ্জলি ভরে জল তুলে নিতে যাবার সময়ে জাদু-আংটিটা খুলে পড়ে গেল হাত থেকে, ডুবে যেতে লাগল জলে। সুলেমান জলে ঝাঁপ দিতে যাবে রতনটা উদ্ধারের জন্য, হঠাৎ জলে দেখা দিল একটা বিশাল মাছ, মাছটা আংটিটা গিলে ফেলে লেজ নাড়িয়ে জলের গভীরে ডুব দিল।
ঐ
-
বহুদিন আগে এক জ্ঞানী লোক ছিল, নাম তার জিরেনশে-শেশেন। তার জ্ঞান সমুদ্রের মতই অসীম ও গভীর, সে কথা বলে যেত একটানা যেন বুলবুলির সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর। কিন্তু এত গুণী হওয়া সত্ত্বেও জিরেনশে ছিল সেই অঞ্চলের সব থেকে গরীব লোক। যখন সে নিজের মাটির ঘরে শুত তার পাদুটো বেরিয়ে থাকত ঘরের দরজার বাইরে। আর ঝড়বাদলার দিনে তার ঘরের দেওয়াল ছাতের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে অঝোরে জল ঢুকত।
একদিন জিরেনশে বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছে স্তেপভূমি পেরিয়ে। দিন ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে, তাই তারা জোরে ঘোড়া চালাচ্ছে যাতে আলো থাকতে থাকতেই রাত কাটাবার একটা জায়গা খুঁজে নেওয়া যায়। হঠাৎ তাদের পথের সামনে পড়ল চওড়া একটা নদী।
-
অনেকদিন আগে এক সদাচারী জ্ঞানী লোক ছিল। তার তিন ছেলে ছিল। লোকে বলে: শিকারীর ছেলে তীরে শান, দেয়, দর্জির ছেলে কাপড় কাটে। জ্ঞানী লোকটির ছেলেরা ছোট বয়স থেকেই বিভিন্ন জ্ঞানবিজ্ঞানের বই পড়েই সময় কাটায়। তাদের মধ্যে বড় যে ভাই সে তখনও ঘোড়ায় উঠে বসতে পারে না আর ইতিমধ্যে বিচার, পরামর্শ করার জন্য লোক আসে ভাইয়েদের কাছে।
একদিন তাদের কাছে দুজন লোক এল দুটি উট আর একটি উটের বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে ৷ তারা বলল: ‘আমাদের দু’জনেরই একটি করে উট আছে। উটদুটি সর্বদাই একসঙ্গে চরত মাঠে। কয়েকদিন আগে ওদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে দেখি দুটি সদ্যজাত উটশিশু, একটি জীবিত, অপরটি মৃত। এখন আমরা
-
অনুবাদ: রেখা চট্টোপাধ্যায়
ওকার উত্তরে সমস্ত অরণ্যময় জায়গাটাকে বরাবরই ‘দ্রেমুচি’[১]বলে উল্লেখ করা হয়।
এই অরণ্যের মধ্যে অনেক মাইল ধরে আর্কাদি গাইদার[২]এবং আমি ঘুরে বেড়িয়েছি। সেটা কিন্তু অনেক দিন আগেকার কথা—চতুর্থ দশকের গোড়ার দিকে।
ঘুরে বেড়াবার সময় একাধিকবার এই প্রাচীন কথা ‘দ্রেমুচি’ অরণ্য সম্বন্ধে আলোচনা করেছিলাম। রুশ ভাষার প্রয়োগনৈপুণ্য আমাদের অতিশয় আনন্দ দিয়েছিলো, কারণ বাস্তবিকই এই ঘন অরণ্যকে মনে হয়েছিল বুঝি গান গেয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক ধ্যানমগ্ন স্তব্ধতা শুধু যে অরণ্যের উপরই নেমে এসেছে তাই নয়, হ্রদ এবং গেরুয়া রঙের জলে ভরা মন্থর নদীগুলির উপরেও। তাদের তীরগুলোয় সারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে লিনিস গাছ, যেগুলোর অন্য
-
লেখক: মামেদকুলিজাদে (১৮৬৬-১৯৩২)
[বর্তমান আজেরবাইজান সাহিত্যের পথপ্রদর্শক, প্রাচ্যের সুপরিচিত পত্রিকা ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিনের’ স্রষ্টা ও সম্পাদক। তিনি রেখে গেছেন অমূল্য সাহিত্যসম্পদ ছোট গল্প, হাস্যরসিক প্রবন্ধ, বড় গল্প (‘হারিয়ে যাওয়া গাধা’ ইত্যাদি), নাটক (‘লাশ’, ‘কেমান্চা’ ইত্যাদি), উপন্যাস ‘দানাবাশা গ্রামে’ ইত্যাদি। এখন পর্যন্তও আজেরবাইজানের শ্রেষ্ঠ ছোট গল্প লেখক বলে স্বীকৃত। তীব্র সামাজিক বিরোধ হল তাঁর ছোট গল্পগুলির মূল বিষয়। ছোট গল্পগুলি সংক্ষিপ্ত, ভাবগর্ভ। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ছোট গল্প ‘ডাকবাক্স’—এক গরীব কৃষকের সম্বন্ধে হাস্যকর, বিষণ্ণ গল্প।]
সে দিনটা ছিল বারই নভেম্বর। শীত বেশ পড়েছে কিন্তু বরফ পড়া এখনও আরম্ভ হয় নি।
ডাক্তারবাবু ভেলি-খানের অসুস্থা স্ত্রীকে আর একবার বেশ ভাল করে পরীক্ষা করে বললেন যে
-
লেখক: আনোয়ার মামেদহানলি (জন্ম: ১৯১৩)
[সোভিয়েত আজেরবাইজানের বয়োজ্যেষ্ঠ লেখক। প্রথম বড় গল্প ‘জলাবর্ত’ প্রকাশ করেন ১৯৩৪ সালে। এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর ছোট গল্প সংকলনগুলি ‘বাকুর রাত্রি’, ‘শপথ’, ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ ইত্যাদি, নাটক ‘প্রাচ্যের প্রত্যুষ’, ‘আগুন’, প্রহসন ‘শিরবানের সুন্দরী’, ‘আইনা’, ‘বখতিয়ার’, ‘আপেল গাছ’, ‘লায়লা মজনু’ প্রভৃতি ফিল্মের চিত্রনাট্য। আনোয়ার মামেদহানলির গদ্যরচনা সূক্ষ্ম লিরিক, চড়া রোমান্টিকতা আর জীবনের বাস্তব সত্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আকারে ছোট ‘তুষার মূর্তি’ গল্পটিতে তাঁর লেখনীর অনেকগুলি বৈশিষ্ট্যই বর্তমান।]
একচল্লিশ সালের শীতকাল। কনকনে ঠাণ্ডা রাত। মনে হচ্ছিল যেন চারদিকের জীবিত মৃত সবকিছুই বরফে ঢাকা পড়ে জমে গেছে।
এই রকম এক ইউক্রেনের সীমাহীন তুষার ঢাকা মাঠের ওপর দিয়ে চলেছে একটিমাত্র
-
লেখক: আবুলহাসান (জন্ম ১৯০৬)
[সোভিয়েত আজেরবাইজানের বয়োজ্যেষ্ঠ গদ্যলেখক। শ্রমিকদের জীবনের গল্প এবং নতুন সমাজতান্ত্রিক মনোভাব ও নীতিবোধ সম্পর্কে গল্পগুলির জন্য তিনি সুপরিচিত। তাঁর ‘চড়াই’ (গ্রামের কৃষির যৌথীকরণ সম্বন্ধে), ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’ (সোভিয়েত শাসনের জন্য আজেরবাইজানের জনগণের সংগ্রাম সম্বন্ধে), ‘সাদাগেত' (আধুনিক গ্রামের জীবন সম্পর্কে ‘বন্ধুত্বের দূর্গ’ (পিতৃভূমির মহাযুদ্ধের সময়ে সেভাস্তোপোলের বীরোচিত প্রতিরক্ষা সম্বন্ধে) উপন্যাসগুলি যথাযোগ্য মর্যাদা পায়। ছোট গল্প ‘বুলবুলি গান গাও!’ যুদ্ধের বিষয়ে—গোলন্দাজ বাহিনীর একটা ছোট দলের বীরোচিত কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে।]
‘ফা-য়া-র!’
দূরপাল্লার কামানগুলির চাকা দারুণভাবে নড়ে উঠল আর একসঙ্গে তাদের লম্বা নল থেকে দ্রুত বেরিয়ে এল অগ্নিধারা। দারুণ আওয়াজে পাহাড়গুলি কেপে উঠল, বনটা দুলে উঠে সরসর মর্মর আওয়াজ
-
এক বাদশাহর কোন ছেলেমেয়ে ছিল না, স্ত্রীকে সর্বদা তিনি বলতেন, ‘ছেলের জন্ম দেবে তুমি, যদি মেয়ের জন্ম দাও তো তোমাকে ঐ মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কেটে ফেলার আদেশ দেব।’
কিন্তু বাদশাহর এমনি শাসানিতে বিশ্বাস হয় না তাঁর স্ত্রীর, তাই মন খারাপ করে না সে হাসিখুশী আমোদ-আহ্লাদে ডুবে থাকতে সে ভালবাসে। বিশেষ করে ভালবাসে সে নৌকায় চড়তে। একদিন তার লোকজনেরা তাকে নৌকায় নিয়ে বেরিয়েছে নদীতে, হঠাৎ নৌকাটা পড়ল ঘূর্ণির মাঝে। ভয়ে জ্ঞান হারাল বাদশাহর স্ত্রী। নিজের শয়নকক্ষে চোখ মেলেই আবার সেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণির কথা মনে পড়ল তার। স্বামীকে সে বলল, ‘নদীটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেবার আদেশ দিন আর এ ঘূর্ণির জায়গাটা মাটি
-
এক ছিল মেয়েমানুষ। অল্পবয়সে বিধবা হল সে ছোট ছোট তিনটি ছেলে নিয়ে। মেয়েমানুষটি অতি কষ্টে বড় করে তুলতে থাকে তাদের, সূতো কাটে, সেলাই করে। ছেলেরা যখন বড় হল তখন তার মাথার শেষ চুলটিও সাদা হয়ে গেছে।
একদিন বুড়ী মা ছেলেদের ডেকে বলল, ‘তোমরা বড় হয়েছ, আমার বয়স হয়েছে, আঙুলগুলো দূর্বল হয়ে পড়েছে আর সূতো কাটতে পারে না মোটে, ছুঁচের গর্তটা আর চোখে দেখতে পাই নে। এবার তোমরা নিজেরাই রোজগারের চেষ্টা কর।
‘মা গো, দেখ আমার কেমন মজবুত চেহারা, হাতে কত বল, খেতিমজুরের কাজ করে যা পাব সব এনে দেব তোমায়,’ বলল বড় ছেলে।
বুড়ী রুটি তৈরী করে রুমালে মুড়ে ছেলের
-
কোন এক সময় একজন লোক ছিল। তার স্ত্রী ছিল খুব সুন্দরী আর সাজগোজ করতে খুব ভালবাসত সে। তারপর অভাবে পড়ল তারা, পয়সাকড়ি নেই হাত মোটেই। একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, ‘বাজারে গিয়ে কিছু নিয়ে আসি খাবার জন্য।’
একটা সুন্দর পোশাক পরল সে, কানে দুল ঝোলাল, সুর্মা টানল ভ্রুতে, গালে একটা তিল আঁকল, তারপর বাজারে চলল কোমর নাচাতে নাচাতে হাসতে হাসতে। দেখে মাংসওয়ালা একটা ভেড়া কেটে ছাল ছাড়াচ্ছে। মেয়েমানুষটি তার দিকে একটা রূপার মোহর এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই মোহরের বদলে মাংস দাও আমায়।’
‘আরে মেয়ে ও মোহরের কোন দামই নেই!’ বলল মাংসওয়ালা।
‘মোহরটার হয়ত দাম নেই, কিন্তু আমার তো দাম আছে!’
-
সমরখন্দ এক বাই থাকত, আর এক বাই থাকত পাহাড় এলাকায়। যে পাহাড়ী এলাকায় থাকত সে ছিল আশ্চর্য কিপ্পণ। তার ছিল কতকগুলো ভেড়ার পাল, কতকগুলো ঘোড়ার পাল, কয়েকজন খেতিমজুর আর তিন বউ। সমরখন্দের বাইও কম যেত না তার কাছে কিপটেমিতে: ধনসম্পত্তি তারও কম ছিল না: টালির তৈরী বাড়ি, ঘোড়ার পাল, ভেড়ার পাল। কিন্তু সে এমনকি গরীব মানুষকে একটুকরো রুটিও দিত না, কখনও ভিক্ষা দিত না, দিনমজুর রাখত না, সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করত।
সমরখন্দের বাইয়ের স্ত্রী যুবতী, তার মোটেই ভালো লাগে না বাইয়ের এই কিপটেমি। সে প্রতিজ্ঞা করল যে তার স্বামী মরে গেলে সে আবার বিয়ে করবে এক উড়নচণ্ডিকে।
বাই
-
এক ছিল বুড়ো আর তার এক বুড়ী। তাদের এক ছেলে ছিল, নাম তার কাম্বার। খুবই কষ্টে দিন কাটে তাদের।
বুড়ী একদিন সূতো কেটে ছেলেকে বলল, ‘তুই বড় হয়েছিস, বাপ, এবার আমাদের সাহায্য কর। বাজারে যা, সূতো বেচে রুটি কিনবি।’
বাজারে গেলে ছেলেটা, সূতো বেচল, রুটি কিনতে যাবে, এমনসময় দেখে একটা কুকুর দৌড়াচ্ছে আর ছেলের দল তাড়া করছে তাকে, মেরে ফেলতে চাচ্ছে তারা কুকুরটাকে।
‘মেরো না কুকুরটাকে, ওটা দিয়ে দাও আমায়!’ বলল কাম্বার ছেলেদের।
‘এর জন্য দাম দাও, তাহলেই পাবে ওটাকে।’ বলল ছেলেরা।
সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো ছেলেদের দিয়ে দিল কাম্বার আর কুকুরটাকে নিয়ে বাড়ী ফিরল।
‘কি কিনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার
উৎস
- পরিচয়
- বৃষ্টি আর নক্ষত্র
- প্রক্রিয়াধীন
- ইউক্রেনের লোককথা
- রাঙা পাল
- কাজাখ লোককাহিনী
- তাজিক লোককাহিনী
- মনে রেখো আমাদের, হে বাংলাদেশ
- উক্রাইনীয় উপকথা
- সোমেন চন্দ গল্পসঞ্চয়ন
- সোনার পেয়ালা
- স্নেগোভেৎসের হোটেলে
- রূপের ডালি খেলা
- তানিয়া
- আয়ত দৃষ্টিতে আয়ত রূপ
- আজেরবাইজানের গল্প-সংগ্রহ
- বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর
- সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দেশে দেশে
- সেকেলে ফ্যাসিবাদ
আর্কাইভ
লেখক
- আন্তন চেখভ (১৩)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেকজান্ডার ওয়ার্থ (১)
- আলেক্সান্দর গ্রিন (৩)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- ইভান ইয়েফ্রেমভ (১)
- ইভান তুর্গেনেভ (১)
- ইলিয়া এরেনবুর্গ (১)
- ইয়াকভ আকিম (১)
- কনস্তানতিন পাউস্তোভস্কি (৮)
- কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ (৪)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গোপাল হালদার (১)
- চিঙ্গিস্ আইৎমাতভ্ (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- নিতাই দাস (১)
- পাভেল লিডভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৭৮)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- মাৎভেই তেভেলেভ (১০)
- রণেশ দাশগুপ্ত (২)
- লেভ তলস্তয় (২)
- শাহীন রহমান (১)
- সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১)
- সাদ্রিদ্দিন আয়নি (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
- সোমেন চন্দ (৫)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.