কাহিনী

শির্দাক আর ইয়ার্তিগুলাক

যদি তুই হোস ওস্তাদ,

চুরি চামারিতে চালাক,

জানিস, ইয়ার্তিগুলাক

আসবেই খেতে দাওয়াদ।

ইয়ার্তিগুলাকের এই গানটা গাইছিল ইয়ার্তিগুলাক নিজেই। তার মেজাজ আজ শরিফ। তার মানে, কোনো একটা শয়তানকে শিক্ষা দিয়েছে।

ইয়ার্তিগুলাক যাচ্ছিল গেয়ো পথ ধরে আর তার গান শোনাচ্ছিল পাখির ডাকের মতো।

হঠাৎ সে চুপ করে গেল। রাস্তার ধারে ঢিপির ওপর দাঁড়িয়েছিল তার চেয়ে আধমাথা খাটো একটি মানুষ।

‘সেলাম!’ ছোটো মানুষটিকে দেখে অবাক হয়ে বললে ইয়ার্তিগুলাক।

‘সেলাম।’

‘শোনো দোস্ত! আমি হলাম ইয়ার্তিগুলাক, কিন্তু তুমি কে?’

‘আমার নাম শির্দাক,’ বললে ছোটো মানুষটি।

‘তার মানে তুমি সুতির চুড়ো টুপি?’

‘তাই বটি।’

‘তা যাচ্ছ কোথায়?’

‘ছাগল বেচতে।’

‘কিন্তু ছাগল কই?’

“একজন আমায় এসে বললে, ছাগলের সঙ্গে ছাগলছানা বদলাবদলি করব কিনা। ছানাটাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে। বললাম ‘বদলাব’।”

‘আর ছাগলছানা বদলালে মোরগের সঙ্গে, মোরগ ডিমের সঙ্গে, ডিম সুঁইয়ের সঙ্গে... ও গল্প আমার জানা।’

শির্দাক বললে, “মোরগ আমি ডিমের সঙ্গে বদলাই নি। ওটা বদলেছি খরগোশছানার সঙ্গে, আর খরগোশছানাকে এই টুপির সঙ্গে যাকে সবাই বলে ‘শির্দাক’।”

‘তার মানে তুমি ছাগলের বদলে টুপি পেলে শুধু তাই নয়, নামও বদলালে।’

‘তা ঠিক বলেছ ইয়ার্তিগুলাক। গির্দেনেকের চেয়ে শির্দাক নামই বরং ভালো।’

এখানে ছোটো দুটি মানুষের আলাপে মধ্যস্থতা করতে হবে দোভাষীকে, পাঠকদের বোঝাতে হবে যে তুর্কমেন ভাষায় গির্দেনেক মানে বেঁটেবঙ্কু।

‘তা শির্দাক, তোমার কি মনে হচ্ছে যে নাম বদলিয়ে তুমি খানিকটা লম্বাই হয়ে গেলে?’ জিগ্যেস করলে ইয়ার্তিগুলাক।

‘সেই তো ব্যাপার, তাইতো মনে হচ্ছে,’ কবুল করলে শির্দাক। ‘এসো মেপে দেখি।’

পিঠোপিঠি দাঁড়াল তারা। শির্দাক টের পাচ্ছিল যে সে খাটো, তাই টান হয়ে পায়ের আঙুলের ওপর দাঁড়িয়ে হয়ে উঠল সমান সমান।

‘দেখলে তো!’

‘সব দেখি!’ জবাব দিলে ইয়ার্তিগুলাক।

হেসে উঠে ওরা বসল একটু জিরিয়ে নিতে।

শির্দাক বললে, ‘ইয়ার্তিগুলাক, শুনেছি তুমি ঘুরে বেড়াতে খুব ভালোবাসো, তাহলে বলো তো এমন জায়গা আছে কি যেখানে তুমি আমি, বেঁটেখাটো লোকেরা পুতুল খেলতে পারি? সব পুতুলই ভারি বড়ো বড়ো। এমন একটা বাইসাইকেল পেলে হয়, যাতে সিটে বসে প্যাডেলে পা পৌঁছবে।’

‘বরং মোটর গাড়ি করে যাওয়া ভালো। আরো ভালো হয় এরোপ্লেনে। অনেক তাড়াতাড়ি,’ বললে ইয়ার্তিগুলাক।

‘তবে বাইসাইকেলে কাউকে ঝামেলায় ফেলতে হয় না, আপত্তি করলে শির্দাক।


শির্দাক আর দুর্দিলি

ছোট্ট একটা ছেলে কাঁদছিল। বয়সে কিছু বড়ো ছেলেরা তার ধনুক ভেঙে ফেলেছে।

‘বীর বাহাদুর খেলতে চাস আর কাঁদছিস ছিঁচকাঁদুনির মতো!’ চটে উঠল শির্দাক।

ছোট মানুষটি আস্তিনে চোখের জল মুছে চেয়ে দেখতে লাগল চারিদিকে।

‘আমি এখানে,’ পায়ের আঙুলের ওপর উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বললে শির্দাক।

‘আরে। কী আশ্চর্য জিনিস! একেবারে সত্যিকার মানুষের মতো। আর টুপিটা, আর কী টুপি!’ ভাঙা ধনুকের কথা ভুলে গিয়ে খুশি হয়ে উঠল ছেলেটা।

‘আমি জিনিস নই, আমার নাম শির্দাক।’

‘শির্দাক?’

‘হ্যাঁ, শির্দাক। তোর নাম কী?’

‘দুর্দিলি,’ চোখ চকচক করে উঠল ছেলেটার, কতরকম পুতুলই না হয়: কথা কইছে, নড়ছে, আবার বকছেও! ‘তোমায় হাতে তুলে নেব?’

‘নে!’ অনুমতি দিলে শির্দাক, মেলে ধরা হাতে উঠে বসল।

ছোটো মানুষটিকে ভালো করে দেখার জন্যে দুর্দিলি তাকে তুলে ধরল চোখের কাছে আর শির্দাক লাফালাফি করে গান ধরল:

এক-যে ছিল শির্দাক।

এক-যে ছিল দুর্দাক।

ছিল তারা, ছিল বেশ

দোস্তি হল শেষমেষ।

‘সত্যি তো দোস্তি পাতাই!’ প্রস্তাব দিলে দুর্দিলি, তারপর একটু ভেবে যোগ করলে, ‘যদি তুমি সত্যিকার কেউ হও।’

‘সত্যিকার!’ শির্দাক লাফিয়ে উঠল এক পায়ে, তারপর অন্য পায়ে।

‘পড়ে যাবে যে!’ ভয় পেয়ে গেল দুর্দিলি।

‘আমার কিছুই হবে না!’ দুষ্টুমি করে হৈচৈ লাগাল

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice