ঘুঙুর গলায় ছাগলছানা
ফুটো ভিস্তি
আর্সলান তাকিয়ে ছিল দাদুর দিকে। রহিম-আগা পাকা খুবানি পাড়ছিলেন গাছ থেকে। দাদু প্রকান্ড আর ফলগুলো ছোটো ছোটো। আর্সলান আরো দেখছিল একটা পিঁপড়েকে। পিঁপড়েটা ছোট্ট, কিন্তু মস্তো একটা শুকনো ঘাস সে বইছিল।
‘দাদু, দাদু!’ ডাকল আর্সলান।
নাতির কাছে এলেন রহিম-আগা।
পিঁপড়েটাকে দেখাল নাতি, ‘দেখেছ, কোথায় সে এত বড়ো জিনিসটা নিয়ে যাচ্ছে?’
দাদু হেসে হাত রাখলেন আর্সলানের মাথার ওপর।
‘জেনে রাখ রে বাছুর, পিঁপড়ে হল দুনিয়ায় সবচেয়ে খাটিয়ে জীব। ওই ঘাসটা কাজে লাগবে উইঢিবি বানাতে, কিংবা ওটা ওরা খাবে। শীত আসছে, হিমে জমে যাবে মাটি, কিন্তু পিঁপড়েদের ভয় নেই। বাড়িতে থাকবে গরমে, খেয়ে-দেয়ে।’
আর্সলান বললে, ‘তাহলে আমিও খাটব। বাড়ি থাকবে গরম। খাবার থাকবে।’
‘সাবাস বাছুর! ঠিক বলেছিস,’ তারিফ করলেন রহিম-আগা, ‘এই নে বালতি, যে খুবানিগুলো পড়ে আছে, কুড়িয়ে তোল।’
দাদু আর নাতি খাটতে লাগল একসঙ্গে।
আর্সলানের বালতি দেখে খুশি হয়ে উঠলেন রহিম-আগা: ‘বাহাদুর তুই বাছুর! প্রায় পুরো এক বালতি কুড়িয়েছিস। আজকের মতো যথেষ্ট। যা, হাত ধো গে, যাব আইগুল চাচির কাছে।’
‘কোথায় সে থাকে?’
‘সে এক গাঁয়ে।’
‘কোথায় সে গাঁ?’
‘গেলেই দেখতে পাবি।’
‘কিন্তু কী করে যাব?’
‘আমার মোটর বাইকে।’
‘লাল রঙা?’
‘লাল।’
‘কে চালাবে?’
‘আমি।’
‘আর আমি যাব দোলায়?’
‘তুই থাকবি দোলায়।’
নাতিকে সাইড-কারে চাপিয়ে দাদু তার পায়ের কাছে রাখলেন খুবানি ভরা বালতি, তাড়াতাড়ি ইঞ্জিন চালু করলেন, কেননা আর্সলানের প্রশ্ন ঝরছিল ফুটো ভিস্তি থেকে জলের মতো।
ওদের এগিয়ে দেবার জন্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন দাদী মেঙ্গলি-এজে। রহিম-আগাকে ইঞ্জিন বন্ধ করে শুনতে হল নাতিকে মোটর বাইকে নিয়ে যেতে হলে কিভাবে চলা উচিত তা নিয়ে নানা উপদেশ। আর্সলানের মা-বাবা শহরে পড়াশুনা করছে, ফলে দাদু আর নাতি, দুজনের ওপরেই কড়া নজর রাখতে হচ্ছে দাদীকে।
সব জিগ্যেসেরই জবাব থাকে না
রাস্তা গেছে যে খেতটার পাশ দিয়ে, সেখানে যষ্টিমধুর মূল তোলা হচ্ছিল। ট্র্যাক্টর যে লাঙলটা টেনে চলেছে সেটা তেমন নয় যা দিয়ে গম বা তুলোর খেত চষা হয়। এটা বিশেষ ধরনের লাঙল, তার একটা ফাল, মাটির গভীরে ঢুকে গিয়ে তা র মূলগুলোকে উপড়িয়ে আনছিল।
সেগুলোর গা থেকে মাটি ঝেড়ে পুঁছে ঢিপ করে রাখছিল শ্রমিকেরা।
‘মূলগুলো কেন?’ দাদুকে জিগ্যেস করল আর্সলান।
রহিম-আগা বললেন, ‘মানুষের উপকারে লাগবে। যষ্টিমধুর মূল দিয়ে নানান ওষুধ হয়, লজেন্সে, বিয়ারেও তা দেওয়া হয়। কাসির ওষুধ খেয়েছিস?’
‘খেয়েছি। মিষ্টি।’
‘তার কারণ ওটা যষ্টিমধু দিয়ে বানানো।’
‘আমাদের যষ্টিমধু?’
‘আমাদের।’
‘জানতাম না তো!’ অবাক হল আর্সলান।
মোটর বাইক ঢুকল ঝোপঝাড়ের দুর্ভেদ্য বনের ভেতর। শিগগিরই তা শেষ হয়ে দেখা দিল সমতল রাস্তা।
‘দাদু, দাদু!’ চেচিয়ে উঠল আর্সলান।
‘কী হল তোর?’ গতিবেগ কমিয়ে জিগ্যেস করলেন রহিম-আগা।
‘ওই পাহাড়টায় চলো-না।’
দূর থেকে দেখতে নীলাভ গিরিমালার দিকে চাইলেন রহিম-আগা।
‘না, দাদুভাই, ওখানে যাওয়া চলবে না। বড়োই উঁচু আর খাড়াই।’
‘পাহাড়ে ওটা কী, কালো-কালো?’
‘জুনিপার ঝাড় গজিয়েছে। জুনিপারের বন।’
‘কিন্তু কে ওগুলো পুঁতল?’
‘প্রকৃতি পুঁতেছে দাদুভাই।’
‘কিন্তু প্রকৃতি ওখানে উঠল কেমন করে?’
অবাক হয়ে মাথা ঘুরিয়ে হেসে উঠলেন রহিম-আগা, তারপর ফের স্পীড দিলেন।
মোটর বাইক থরথরিয়ে এমন ছুটল যে রাস্তা বরাবর ঝোপগুলো পরিণত হল একটা অবিচ্ছিন্ন সবুজ ডোরায়।
প্রাণের বন্ধু
রহিম-আগা গ্রামটায় রইলেন পুরো দুই দিন। আর এ দুই দিন আর্সলান ঢুঁ মেরে বেড়াল খোঁয়াড়ে। গরু ভেড়া সব চলে গেছে গ্রীষ্মের চারণ ক্ষেত্রে, পাহাড়ে আর স্তেপে। কিন্তু খোঁয়াড়ে থেকে গিয়েছিল একটা ছাগলী আর ছাই রঙের ছাগলছানা, কপালে শাদা চাঁদ।
ছাগলছানা দেখেই আর্সলান সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় তার কাছে। একগোছা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments