তানিয়া
[জনৈক রাশিয়ান বীর কিশোরীর মর্মস্পর্শী কাহিনী]
১৯৪১ সাল। ডিসেম্বর মাসের শুরু। জার্মানেরা পেট্রিশ্চেভ অঞ্চলের ভেরিয়া শহরের নিকট একজন সৈনিকের প্রাণদণ্ড দিলো। সে ছিলো একজন আঠারো বছরের তরুণী।
তরুণীটি কে? কোথেকে সে এসেছিলো? পেট্রিশ্চেভের এ শোকাবহ ঘটনা ঘটাবার আগে ভেরিয়ার একজন সৈনিকের সঙ্গে তরুণীর সাক্ষাৎ হয়েছিলো। সৈন্যদের দ্বারা তৈরী একটি পরিখার ভেতর গোপনে তারা আশ্রয় নিয়েছিলো। তরুণী তার নাম বলেছিলো তানিয়া। তারপরে আর স্থানীয় সৈনিকেরা কেউ তাকে দেখতে পায়নি। কিন্তু তারা জানতো, বেশী দূরে নয়, কাছাকাছি কোথাও দুঃসাহাসী এবং সুকৌশলী মেয়ে তানিয়া তাদের মতো সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
সে সময়ে মস্কো নগরীর চরমতম দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে।
১৬ই নভেম্বর আমাদের রাজধানীতে যে আক্রমণ শুরু হয়েছিলো তা অপ্রতিহত গতিতে চলছে।
ইয়াখরোমা অবরোধ করে সেরাপখোভে বোমা ফেলে খাসিরা জারাস্ইকে পৌঁছে ভলগা খালের পাড় বেয়ে শত্রুসৈন্য মস্কোর উপকণ্ঠে এসে দাঁড়ালো। শত্রুর সাঁড়াশী আক্রমণের সামনে নগরী আতংকিত প্রহর গুণছিলো।
গোলিতাসিনো এবং স্কোদনিয়ার আশেপাশের জেলাগুলি তখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মস্কোতে শোনা যাচ্ছে কামান গর্জনের আওয়াজ।
সে যাহোক, এসব সামরিক জয়ের জন্য শত্রুকে বেশ চড়াদাম দিতে হয়েছে। জেনারেল জুকভের নেতৃত্বাধীনে সোভিয়েট সৈন্যদল প্রবল প্রতিবন্ধক রচনা করে রুখে দাঁড়ালো। অগ্রগতির সময় জার্মানদের প্রচণ্ড ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে তাদের সর্বপ্রকারের উদ্যম নিঃশেষিত হয়ে এলো এবং তারা ভগ্নোদ্যম হয়ে পড়লো। নভেম্বরের আক্রমণ শিথিল হয়ে এলো। তখন লাল ফৌজের সর্বাধিনায়ক জেনারেল জোসেফ স্তালিন আকস্মিক আক্রমণ করে এক আঘাতে নিশ্চিহ্ন করে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এই সৈনিকেরা তখন শত্রু অধিকৃত জেলাগুলোতে কাজ করছিলো। তারা শত্রুদেরকে বিভ্রান্ত এবং নাজেহাল করার কাজে লাল ফৌজকে সাহায্য করতো। তারা পথে পথে গুলি ছুঁড়তো যাতে করে শব্দ শুনে জার্মানেরা তাদের গরম ঘরগুলো থেকে বেরিয়ে আসে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিতো। রাস্তা ভেঙ্গে দিতো। অল্প-স্বল্প শত্রু সৈন্যকে নাগালের মধ্যে পেলে আক্রমণ করে বসতো। এমনকি ফ্যাসিষ্ট হেডকোয়ার্টারেও তারা হানা দিতো এবং সোভিয়েট সেনাবাহিনীর জন্য গোয়েন্দাগিরি করে বেড়াতো।
ফ্রন্টের বিছিন্ন সৈন্যদলকে সাহায্য করার জন্য কিছু সংখ্যক অকুতোভয় স্বেচ্ছাসেবককে পাঠানো হয়েছিলো মস্কো থেকে। তখনই তানিয়া ভেরিয়া জেলাতে এসে হাজির হল।
জার্মানেরা যৌথচাষীদের সব খাবার বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছিলো।
এদের মধ্যে দোভাষীটা ছিলো সবচেয়ে বেশী লোভী। সে ছিলো জার্মান ইউনিটের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত একজন। সে-ই নাগরিকদেরকে চূড়ান্তভাবে অসম্মান করতো। জোয়ান বুড়ো বিচার না করে নির্দয়ভাবে প্রহার করতো।
একরাতে জার্মানদের যুদ্ধক্ষেত্রের সবগুলো টেলিফোন লাইন কেটে দিলো। এবং তার কিছু পরে যে আস্তাবলে সতেরোটি জার্মান সৈন্য বাহিনীর ঘোড়া থাকতো সেটি একেবারে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিলো।
পরের রাতে আবার গ্রামে এলো একজন সৈনিক। যে আস্তাবলটির মধ্যে শত্রুর পদাতিক বাহিনীর দুশোরও বেশী ঘোরা থাকে সে আস্তাবলটির মধ্যেই ঢুকে পড়লো। সৈনিকটির মাথায় হ্যাট, গায়ে ফারের জ্যাকেট, পরনে মোটা পাতলুন এবং পায়ে ফেলটের বুট। কাঁধে ঝুলানো একটি থলে। ভেতরে ঢুকেই রিভলভারটা হাত থেকে বুকে ব্লাউজের তলায় ঢুকিয়ে রাখলো। থলে থেকে একটি গাসোলীনের বোতল টেনে বের করে আনলো। বোতলের ভেতরকার তরল পদার্থটুকু চারদিকে ছিটিয়ে দিয়ে দেশলাই ঘষে আগুন জ্বালাবার জন্য এক মুহূর্ত থামলো।
ঠিক সেই মুহুর্তে একজন সান্ত্রী তার উপর ঝাঁকিয়ে পড়ে হাত দুটো চেপে ধরলো। ধাক্কা দিয়ে সান্ত্রীকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছিলো, তারপর রিভলবার উঁচিয়ে ধরেছিলো কিন্তু গুলি করতে পারেনি।
হেঁচকা টানে তার হাত থেকে রিভালবার ছিনিয়ে নিয়ে সাবধানী ঘন্টা বাজিয়ে দিলো সান্ত্রী।
সৈনিককে একটি ঘরে নেয়া হলো। সেখানে সকলে অবাক হয়ে আবিষ্কার করলো সে একটি মেয়ে। একেবারে কম বয়েসী। দীর্ঘায়ত চেহারা। গাত্রবর্ণ জলপাইয়ের মত। চোখের ভুরু জোড়া কালো। কালো ক্লিব
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments