বুদ্ধিমতী
ছিল দুই ভাই: একজন গরিব, আরেকজন বড়োলোক। বড়োলোক ভাইয়ের একবার কেমন যেন কষ্ট হল, গরিবটার ঘটি নেই, বাটি নেই, কিছু নেই, তাকে দিলে একটা দুধেলা গরু। বললে: ‘একটু একটু করে খেটে শোধ দিও।’
তা ছোটো ভাই তো একটু একটু করে খেটে শোধ দেয়। পরে কিন্তু গরুর জন্যে আফশোস হল বড়োলোকের, গরিবকে সে বলে: ‘গরু আমায় ফেরত দাও।’
গরিব বললে: ‘তোমার জন্যে যে ভাই খেটে শোধ দিলাম!’
‘ও কী আর খাটনি—কেবল লোক-হাসানি! আর গরুটা দেখেছ কেমন! দাও. দাও, ফেরত দাও!’
এত যে খাটল, তার জন্যে দুঃখ হচ্ছিল গরিবের: দিতে চাইল না।
বিচারের জন্যে গেল জমিদারের কাছে। আর কে ঠিক, কার দোষ, তা নিয়ে ভাবতে, মাথা ঘামাতে নিশ্চয় আলিস্যি হচ্ছিল জমিদারের। সে বলে দিলে: ‘আমার ধাঁধার যে জবাব দেবে গরু তার।’
‘তা বলো গো বাবু।’
‘শোনো: দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো পেট ভরে কিসে, কী সবচেয়ে জোরে ছোটে, কী সবচেয়ে মিষ্টি? কাল এস জবাব দিও।’
চলে গেল ভাইয়েরা। বাড়ি ফিরে ধনী ভাবে, ‘ধুর, এ আবার ধাঁধা নাকি! জমিদারের শুয়োরটার চেয়ে কিসে আর পেট ভরে ভালো, জমিদারের শিকারী কুকুরের চেয়ে কে আর বেশি ছোটে, টাকার চেয়ে মিষ্টি আর কী! গরুটা আমিই পাব।’
গরিব ঘরে এল; ভেবে ভেবে আর কুল পায় না, মুষড়ে পড়ে। এখন, তার ছিল এক মেয়ে—মারুসিয়া। সে তখন জিজ্ঞেস করে: ‘কী হল বাবা, মুষড়ে পড়েছ কেন? জমিদার কী বললে?’
‘ও, জমিদারবাবু এমন ধাঁধা দিয়েছে, মাথা ভাঙার যোগাড়!’
‘কী ধাঁধা?’
‘ধাঁধা হল সে এইরকম: কিসে সবচেয়ে ভালো পেট ভরে, কী সবচেয়ে জোরে ছোটে, কী সবচেয়ে মিষ্টি?’
‘আহ্, বাবা, সবচেয়ে পেট ভরায় মা-ধরণী, সবাইকেই তা খাওয়ায়, দাওয়ায়, সবার পেট ভরায়; সবচেয়ে জোরে ছোটে চিন্তা, মনে মনে যেখানে খুশি উড়ে যাওয়া যায়; সবচেয়ে মিষ্টি হল—ঘুম লোকে যত সুখেই থাক, ঘুমের জন্যে সে সবকিছু ছেড়ে দিতে রাজি।’
বাপ বললে, ‘বটে? তা ঠিকই বলেছিস। জমিদারকে আমিও তাই বলব।’
পরের দিন দুই ভাই গেল জমিদারের কাছে। জমিদার শুধাল: ‘কী, উত্তর পেলে?’
তাড়াতাড়ি জবাব দেবার জন্যে ধনীর আর তর সয় না, সেই বললে প্রথমে: ‘সবচেয়ে খিদে মেটে বাবু, আপনার শুয়োরে, সবচেয়ে জোরে ছোটে আপনার কুকুরগুলো, আর সবচেয়ে মিষ্টি—টাকা।’
‘এহ্, বাজে কথা!’ জমিদার বললে। ‘তা, তোমরা কী মত?’
‘আজ্ঞে বাবু, সবচেয়ে ভালো খিদে মেটায় মা-ধরণী, সবাইকেই খাওয়ায়, দাওয়ায়, সবারই পেট ভরে।’
‘ঠিক, ঠিক!' জমিদার বললে, ‘আর সবচেয়ে জোরে কী ছোটে?’
‘সবচেয়ে জোরে ছোটে ভাবনাচিন্তা, মনে মনে যেখানে খুশি উড়ে যাওয়া যায়।’
‘বটেই তো! আর কী সবচেয়ে মিষ্টি?’ জিজ্ঞেস করলে জমিদার।
‘সবচেয়ে মিষ্টি ঘুম। লোকে যত সুখেই থাক, ঘুমের জন্যে সে সব ছাড়তে রাজি।’
‘সব ঠিক!’ জমিদার বললে, ‘গরু তোমার। শুধু বলো তো বাপ: নিজেই ভেবে ঠিক করেছ নাকি কেউ বলে দিয়েছে?’
গরিব বললে, ‘আমার একটি মেয়ে আছে বাবু―মারুসিয়া। সেই আমায় বলেছে।’
জমিদার রেগে উঠল:
‘সে আবার কী! আমি এত বুদ্ধিমান, আর সাধারণ একটা মেয়ে—সে কিনা আমার ধাঁধার উত্তর দেয়! দাঁড়াও! এই রইল দশটা সেদ্ধ ডিম, মেয়েকে দেবে। এগুলোর ওপর সে মুরগি বসাক তা দিতে; তা থেকে এক রাতের মধ্যে বাচ্চা ফুটিয়ে তাদের খাওয়াক, তোমার মেয়ে যেন তাদের তিনটেকে কেটে ভাজে, আর আমি ঘুম ভেঙে উঠতেই তা নিয়ে আসবে। আমি বসে থাকব। না পারলে তোমার কপাল খারাপ।’
কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি যায় গরিব। এল বাড়িতে, মেয়ে শুধোয়: ‘কাঁদছ কেন বাবা?’
'না কেঁদে কী করি বাছা! জমিদার তোকে সেদ্ধ ডিম পাঠিয়েছে, বলেছে, ওগুলো তা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments