আদরের ছোটোরা

বইটি লিখেছেন প্রখ্যাত সোভিয়েত সাহিত্যিক এবং কবি কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ। তার কাছে যদি যেতে চাই, তাহলে আমাদের ট্রেনে, না, বরং বিমানে চাপা ভালো, কেননা যেতে হবে অনেক দূরে, সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণে, গরমের দেশ তুর্কমেনিয়ায়। আশ্চর্য জায়গা। শহরের রাস্তায় সেখানে দেখা যাবে নানা রঙের মোটরগাড়ির পাশেই গুরুগম্ভীর ভারবাহী উট কিংবা চোখ-ড্যাবডেবে গাধা। খেতে ফলে শুধু গম নয়, তুলোও, যা থেকে পরে বানানো হয় ছেলে-বুড়ো সকলের পরার মতো পোশাক-আশাকের কাপড়। আর বাগিচাগুলো কী নেই সেখানে! লালচে আপেল, বাদামি নাশপাতি, টসটসে পাকা কোয়া-ভরা ডালিম, থোপা থোপা আঙুর, খুবানি, বাদাম। লতাভুঁইয়ে পেকে ওঠে বড়ো বড়ো মিষ্টি বাঙি, পেটমুটো তরমুজ। তুর্কমেনিয়ায় ফলে যা কিছু স্বাদ, স্বাস্থ্যকর, তা ফলায় লোকে, তারাই তা বোনে, জল দেয়, যত্ন নেয়, এমনি-এমনি তো আর কিছু বাড়ে না। তারপর ফসল তোলে, সেটাও কম খাটুনির ব্যাপার নয়।

এইসব কথাই কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ বলেছেন তাঁর বইয়ে। কারাকুম মরুভূমির কাছে এক গ্রামে তাঁর জন্ম, সেখানেই কেটেছে বাল্যকাল। ছোটো থেকেই কায়ুম জেনেছেন কৃষি শ্রম কী জিনিস, খেতে, শবজি ভুঁইয়ে, বাগানের কাজে সাহায্য করেছেন বড়োদের। তিনি দেখেছেন লোকে শুকনো মরুভূমিতে নিয়ে এল জলভরা নতুন নদী—কারাকুম খাল, মরামাটি হয়ে উঠল সবুজ খেত, ফলন্ত বাগিচা। ছোটোদের সেই কথা বলারই ইচ্ছে হয়েছে তাঁর।

আজ পঁচিশ বছর ধরে আমাদের সমস্ত প্রজাতন্ত্রের, বিদেশেরও অনেক শিশু পড়ে আসছে কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভের হাসিখুশি কবিতা, মনকাড়া গল্প আর উপাখ্যান। তা পড়ে মনে হয় যেন নিজেরাই পৌঁছে গেছি সেই দেশে, তুর্কমেনিয়ায়। তার জন্যে আমাদের সবার বন্ধু, সুসাহিত্যিক কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভকে ধন্যবাদ।

সোনার পেয়ালা, কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ, অনুবাদ: ননী ভৌমিক আঁকিয়ে: গেওর্গি ইউদিন, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৯

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice