- ইউরি ইয়াকভলেভ
- ১৯৭৩
- ১১৭
উর্স আর কেট
লকড়ি-গুদামটায় উঠে উর্সের কাছে ঘেঁষবে এমন কোনো ছেলের কথা আমি শুনিনি। কিন্তু একটি মেয়ের কথা জানি, কেট—সে এটা পারে। উর্সকে সে ভয় পায় না। কাঁটা-তারের তল দিয়ে সে ঢোকে, উর্স কিন্তু খেঁকিয়ে আসে না, ডাকে না ভাঙা-ভাঙা গলায়, কামড়ে ছেঁড়ে না তার ফ্রক। দু’জনের মধ্যে বেশ ভাব—রোগা সরু ঠেঙে কেট আর দক্ষিণ রাশিয়ার পাহারাদার কুকুর উর্স।
ছেলেপিলেরা বলে, কেট কী একটা মন্ত্র জানে। সেটা বাজে কথা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তাতে নাক কুঁচকে ওঠে তার কেউ মিথ্যে কথা বললে সে বরাবরই নাক কোঁচকায়।
উর্স দেখতে প্রকাণ্ড। গায়ের লোম তার ঝুলে ঝুলে থাকে নোলকের মতো। কপালের নোলকগুলো পড়ে চোখর ওপর। চোখের সামনে অনবরত ওরকম নোলক দুললে নিশ্চয় দেখতে অসুবিধা হয়। কিন্তু কেট বলে, ওটা দরকার মাছি তাড়াবার জন্যে। কুকুর আর অন্যান্য জীবজন্তুর কথা কেট সবই জানে—সার্কাসে জন্তুজানোয়ারের খেলা দেখাবে নে। নামটাও সে নিয়েছে সার্কাসী কায়দায়—কেট। আসলে ওর নাম কিন্তু কাতিয়া।
ছেলেপিলেরা বলে, ও বেড়ে উঠেছে বনের মধ্যে, নেকড়ে-মা ওকে পালে। সে কথা ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। চুপ করে রইল। হ্যাঁ-ও বলে না, না-ও বরে না। থাকে সে মাসির কাছে, কেউ কিছু জানে না তার মায়ের কথা। বাপের কথাও। হয়ত মাসি ওকে ছিনিয়ে এনেছে নেকড়েনীর কাছ থেকে?
যে-কোনো নেকড়ের চেয়েও উর্স ভয়ঙ্কর। চোখ ওর ঠাণ্ডা, ভেজা-ভেজা ছেদক দাঁতগুলো আঙুলের মতো লম্বা। একবার এক চোরের প্যান্ট ছিঁড়ে দেয় সে, কামড়ও বসায় জবর। ভয়ঙ্কর হিংস্র কুকুর। কিন্তু কেট বলে সে নাকি ভারি ভালো।
আমি বলি: ভালো আবার কোথায় যাবে খুশি তাকে টুকরো-টুকরো করে দেয় যে! কেট বলে, লোকে ওকে হিংস্র করে দিয়েছে; তেমন লোক তো আছে।
‘আচ্ছা, এমন লোক আছে যারা ওকে ভালো করে দিতে পারে?’
এক পা দিয়ে আরেক পা চুলকে কেট বলল, ‘কে জানে। হয়ত আছে।’
‘আর তুই ওকে ভালো করে দিতে পারিস না, কেট?’
কেট মাথা নাড়ল, ‘আমার সঙ্গে ওর ভাব হতে পারে। তবে অন্যের ওপর সে হিংস্রই থাকবে।’
‘কিন্তু কী করে হিংস্র করে দিলে উর্সকে?’
‘জানি না...হয়ত খেতে না দিয়ে।’
আমি ভাবলাম কেট চুপি-চুপি উর্সকে খাওয়ায়, উর্সও তাই কৃতার্থ হয়ে ওকে কাছে আসতে দেয়। কিন্তু ব্যাপারটা দেখা গেল অন্যরকম। খাওয়া উর্স পেত নিয়মমতোই।
কেটের সঙ্গে আমার ভাব দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে। ওকে বসানো হয় আমার পাশেই। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুই কী ভাবে পড়িস, ঠোঁট নেড়ে নেড়ে নাকি আঙুল দিয়ে দিয়ে?’
‘আঙুল দিয়ে,’ কবুল করলে কেট।
‘আঙুলগুলো মুঠো করে রাখিস,’ পরামর্শ দিলাম আমি।
‘তুই ঠোঁট কামড়ে থাকিস,’ উপদেশ দিলে কেট।
এখন অবিশ্যি আমরা পড়ি বড়োদের মতোই—চোখ দিয়ে।
কেটের নিজের কোনো কুকুর ছিল না, এমন আশাও ছিল না যে কোনো দিন হবে। উর্সের ওপর তার টান পড়ল। লকড়ি-গুদামটার কাছে গিয়ে তাকিয়ে থাকত তার দিকে। উর্স কিন্তু ভ্রুক্ষেপও করলে না। কেট তখন মরচে-পড়া কাঁটা তারটার কাছে গিয়ে এমনভাবে তাতে টান মারলে যে একেবারে ঝন-ঝন করে উঠল। দুই লাফে উর্স এসে গেল পাশেই। লোমের নোলকগুলোর তল থেকে চক-চক করে উঠল চোখ, বেরিয়ে এল হিংস্র হলদেটে ছেদক দাঁত। র্গ-র্গ করে উঠল উর্স... লাফিয়ে পালিয়ে আসতে পারত কেট, কিন্তু দাঁড়িয়েই রইল সে: চওড়া-চওড়া তার হাই বুট, মুগুরের মতো পা, হাঁটুর কাছে মোজা রিপু করা। ঠাণ্ডায় নীল-হয়ে-আসা মুখখানা সে নিযে এল কাঁটা-তারের কাছেই, কথা বললে উর্সের সঙ্গে। প্রথমটা সে কান দেয় নি, গর্জে উঠল। তারপর দাঁত বন্ধ করল।
দেখা গেল কুকুরকে শুধু খাওযালেই হয় না, তার সঙ্গে কথাও বলতে হবে।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
ইউরি ইয়াকভলেভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments