- মাৎভেই তেভেলেভ
- ১৪৪
এতো সবে আরম্ভ
১
বুড়ো ভাসিল য়াৎসিনা ছ মাস হাসপাতালে ছিল। প্রতিদিনই তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ডাক্তাররা আর কিছুই করতে পারছিল না। য়াৎসিনা তখন তার গাঁয়ে ফিরে যাবার অনুমতি চাইল, ভেরখভিনাতেই সে মরতে চায়।
মরতে সে ভয় পায় না, স্বর্গরাজ্যের উপর আস্থা রেখেই সে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।
ভাসিল ভাবতে লাগল, ‘সারা জীবন এত দুঃখকষ্ট ভোগ করেছি—না আছে ঘরবাড়ি, না আছে নিজের জমিজমা, গোরুঘোড়া,—এর ক্ষতিপুরণ নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও ঘটবে... সারা জীবন তো কেবল অজানা অচেনাদের দ্বারে দ্বারে কাজ মেগে বেড়িয়েছি…’
‘কিন্তু তবু সে ওস্তাদ কাঠুরে। অমন ওস্তাদ বড় একটা দেখা যায় না। ভাসিল য়াৎসিনার সঙ্গে গাছ কাটায় পাল্লা দিতে পারে সাব্-কার্পেথিয়ান পাহাড়ে এমন আর কে আছে?!
‘মেরী মা’র কোন দেবদূত নিশ্চয়ই এসব টুকে নিয়ে হিসেব করে রেখেছে। হঠাৎ একদিন সে বলে উঠবে: “দেবমাতা, পাসেকি গ্রামের এই ভাসিল য়াৎসিনা লোকটি জীবনে কী দুঃখকষ্টই না পেয়েছে!” তারপর দেবদূত আরো বলবে, “দেশে সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হবার পর য়াৎসিনাকে বাঁধা কাজ দেওয়া হয়, আর দেওয়া হয় দেড় হেক্টার জমি, এমন কি একটা বাড়িও। তাই জীবনের শেষ দিকে বেচারী একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবার সুযোগ পায়…”
‘য়াৎসিনা তখন নিজেই অনুমতি নিয়ে উঠবে।
‘সে বলবে, “ভগবানের নাম করে বলছি, জীবন সত্যিই এখন অনেক সহজ হয়ে এসেছে। কিন্তু য়াৎসিনার একটি মেয়ে আছে, তার নাম আন্না। সবাই জানে সৌন্দর্যের অভাবে মেয়েটির বিয়ে হচ্ছে না। সে অভাব অবশ্য য়াৎসিনার চোখে ধরা পড়ে না, তবে অন্যেরা বলে। হতে পারে হয়ত সত্যিই ওর কোন সৌন্দর্য নেই—সুঁটকো মুখ, চোখদুটো দেখে মনে হয় এইমাত্র বুঝি কেঁদে উঠল, এমনি লাল। অন্যেরা এজাতীয় দুর্ভাগ্যকে চাপা দেওয়ার জন্য যৌতুক দেয়। য়াৎসিনাও তার সারা জীবন এই যৌতুকের কথাই ভেবেছে…”
‘শেষ পর্যন্ত একটি যোগ্য পাত্র পাওয়া গেছে মনে হল। ইভান শেকেতা। বাড়ি তার চোর্নয়ে গাঁয়ে। বাবা তার য়াৎসিনারই বন্ধু আন্দ্রেই, মারা গেছে। ইভান বেশ লম্বা চওড়া শক্তসমর্থ সুদর্শন ছেলে, কিন্তু তারও কোন বাড়ি ঘরদোর নেই। ভগবান যখন কাঠের কলে কিছু অর্ডার পাইয়ে দেন, ইভান শেকেতা তখন কাঠ কাটতে যায়। তা নাহলে পাহাড়ের গায়ে ভেড়া চরায় নয়ত ধনী কর্তা মিকলা ভার্গার বাড়িতে ছুটকো ছাটকা কাজ করে। তবে সব কাজই অন্যের জন্য।
‘বুড়ো শেকেতা বেঁচে থাকতে দুই বন্ধুতে একটি বোঝাপড়া হয়েছিল। ঠিক ছিল য়াৎসিনার মেয়ে যদি যৌতুক হিসেবে ছোট্ট একটুকরো জমি, একটা বাড়ি আর একটা গরু দিতে পারে, তবে ইভান তাকে বিয়ে করবে। ইভান নিজেও তখন তার স্বীকৃতি জানিয়েছিল। হয়ত বাবার মতে অমত করবে না, এই ভেবেই রাজী হয়েছিল, কিম্বা হয়ত অন্যের বাড়িতে থেকে থেকে সে তখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি পাখিরাও নিজের বাসায় থাকে।
‘যা হোক, য়াৎসিনা তখন যৌতুকের জন্য আবেদন নিবেদন সুরু করল। কী চেষ্টাই না করল, কত সব অচেনা জায়গায় ঘুরে বেড়াল! কিন্তু কিছুই ফল হল না হাজার চেঁচামেচি কর, মাটির গায়ে আঁচড় কাট কিছুতেই লাভ হবে না! সোভিয়েত সরকার না এলে ভাসিল য়াৎসিনার হয়েছিল আর কি! আন্নাকে তবে সে কী দিয়ে যেত? কিন্তু এখন সে তার যৌতুকের জন্য দেড় হেক্টার জমি আর একখানা বাড়ি পেয়েছে—সোভিয়েত সরকার দিয়েছে। এসবই তো আন্নারই। পাছে মেয়ের যৌতুক ভেস্তে যায়, সেই ভয়েই তো য়াৎসিনা যৌথখামারে যোগ দেয়নি। দেবদূত হয়ত একথাটা জানে না যে, যৌথখামারে যোগ দিতে হলে নিজের জমি দিতে হয়। জমিই যদি রইল না তবে আর মেয়ের বিয়ের যৌতুক দেবে কী করে?...’
এইসব ভাবতে ভাবতেই য়াৎসিনা চলেছে আন্নার ভাড়া করা ঘোড়ার স্লেজে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
মাৎভেই তেভেলেভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments