আমার কৈফিয়ত
১৯৪২ সালের লাহোরের “আদবে-লতিফ” উর্দু মাসিকের বার্ষিক সংখ্যায় আমার “কালো সেলোয়ার” নামক একটি গল্প প্রকাশিত হয়, অনেকে একে অশ্লীল বলে মনে করে থাকে। আমি তাদের ভ্রান্তধারণা দূরীভূত করার উদ্দেশ্যে এই প্রবন্ধ লিখছি।
গল্প লেখা আমার পেশা। গল্প লেখার স্টাইল আমি সম্যক অবগত আছি এবং ইতিপূর্বে এই বিষয়বস্তু নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প লিখেছি। এদের একটি গল্পও অশ্লীল নয়। আগামীতেও গল্প লিখব, তা অশ্লীল হতে পারে না।
গল্প বলার প্রথা বাবা আদমের আমল থেকে প্রচলিত। আমার মতে, এই গল্প বলা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এবং এর পট পরিবর্তন হতে থাকবে। মানুষের নিজের আবেগ ও অনুভূতিকে প্রকাশ করার ও অন্যকে জানানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পতিতাদের সম্পর্কে আমি অনেক কিছু লিখেছি, আগামীতেও অনেক লেখা হবে। আমাদের সামনে যা কিছু বিদ্যমান সবকিছুকে নিয়ে গল্প লেখা যায়। পতিতা আমাদের সামনে হাজার বছর ধরে বিদ্যমান আছে এবং পতিতাদের কথা আসমানী কেতাবে পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু আজকাল পতিতাদের কথা শুধুমাত্র পবিত্র কেতাব বা পয়গম্বরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং সংবাদপত্র, সাময়িকী ও পুস্তকে পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে; তাই এসব পত্র-পত্রিকা বা পুস্তক পাঠের জন্য আগরবাতি জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না; বরং তাদের কাহিনী পড়ার পর এই পত্র-পত্রিকা বা পুস্তিকা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে পারেন।
আমি একজন রক্ত-মাংসের গড়া মানুষ। আমি উপরোল্লিখিত পত্র- পত্রিকা ও সাময়িকীর একজন লেখক। পত্র-পত্রিকায় লেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বক্তব্য রয়েছে। আমি যা দেখি এবং যে দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখি তা হুবহু অন্যদের কাছে উপস্থাপিত করি। যদি দুনিয়ার সকল লেখক পাগল হন তাহলে আমি তাঁদেরই একজন। “কালে৷ সেলোয়ার” গল্পের পটভূমি একটি পতিতার কুটির। এই কুটিরে বিবাহিত৷ তরুণীদের বাড়ীর ন্যায় বৈচিত্র্য নেই। দিল্লীতে পতিতাদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় বহু কুটির নির্মিত হয়েছে। আমার সুলতান৷ এমনি এক কুটিরে বাস করে। নর্তকীদের বাড়ীর ন্যায় রাতে জোনাকিদের মেলা বসে না বরং সুলতানার কুটিরে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা ছিল। যেহেতু এই বিজলী বা বাড়ী বিনামূল্যে সুলভ নয় এবং ভাড়া দিতে হয় তাই সুলতানাকে কায়িক পরিশ্রম করতে হত।
যদি সে বিবাহিতা হত তাহলে তার বাড়ী ভাড়ার প্রয়োজন হত না বরং সব কিছু বিনামূল্যে পেত। কিন্তু সুলতানার বিয়ে হয়নি বরং সে একজন মহিলা। যখন তাকে বিজলীর ভাড়া, ঘর ভাড়া আদায় করতে হয় এবং খোদা বখসের ন্যায় পীরভক্ত ভবঘুরে তার উপর ভর করেছে; এমতাবস্থায় উক্ত মহিল৷ আর কোন মতেই সংসারী থাকতে পারে না, যার! আমাদের বাড়ী আলোকিত করে আছেন।
আমার সুলতান৷ পতিতালয়ের একজন মহিলা, তার পেশা পতিতাবৃত্তি। পতিতালয়ের মেয়েদের সকলেই চেনে। কেননা, প্রত্যেকটি শহরে পতিতালয় রয়েছে। প্রত্যেক শহরে ময়লা আবর্জনা ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নাল৷ নর্দমা রয়েছে। আমরা শ্বেতপাথরের নির্মিত বাথরুম, সাবান, লেভেণ্ডার প্রভৃতির কথা আলোচনা করি; কিন্তু নালা, নর্দমার কথা কেউ আলোচনাই করি না।
অথচ এইসব নালা আমাদের দেহের ময়লা হজম করে। আমরা যদি মন্দির ও মসজিদ নিয়ে তর্ক করতে পারি তাহলে সে সব পানশালার কথা কেন উল্লেখ করতে পারি না যেখান থেকে ফিরে অনেকে মসজিদ ও মন্দিরগামী হয়ে পড়ে। আমরা যদি আফিম, ভাঙ্গ, চরস এবং মদ্যশালার কথা আলোচনা করি তাহলে ঐসব পতিতার কুটিরের কথা কেন উল্লেখ করতে পারি ন৷ যেখানে সবরকম নেশার ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে।
নেশাগ্রস্তদের আমরা ঘৃণা করি, তাদের দেখলে নাকে রুমাল দি। কিন্তু নেশাখোরদের অস্তিত্বকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আমাদের দেহ থেকে যে ময়লা ও দূষিত পদার্থ দৈনিক নির্গত হয় তা অস্বীকার করার জো নেই। পেটের অসুখ, উদরাময়, কোষ্ঠবদ্ধতা ও ব্যথা-বেদনার জন্য প্রতিষেধক ওষুধ রয়েছে;
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments