সাময়িকী
বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর
বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর হলো আমাদের নিজস্ব নির্মাণ—যেখানে ইতিহাস, সাহিত্য, এবং সংস্কৃতির গভীরতম স্তর থেকে উঠে আসে মৌলিক কণ্ঠস্বর। এখানে থাকে সেই সব মৌলিক লেখা, যা শুধু বাংলাপুরাণেই প্রকাশ হয়। সেই সব লেখকের লেখনীর মায়াজালে, প্রতিস্বর হয়ে ওঠে বাংলাপুরাণের আত্মার প্রতিধ্বনি—যা পাঠকের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে সংবেদন, প্রশ্ন, এবং প্রত্যয়।
-
সংবিধান হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বপ্রথম সংবিধান সম্পর্কে মহামতি লেনিন মন্তব্য করেছিলেন যে—এ যাবৎ সব সংবিধানই শাসক শ্রেণির স্বার্থকে সুরক্ষা প্রদান করেছে। সোভিয়েত সংবিধানই প্রথম কোনো সংবিধান যা শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকে সংহত করতে ভূমিকা রাখবে। সোভিয়েত সংবিধান হবে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান লাভ করে, যা ছিল বাংলা ভাষায় লেখা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রথম কোনো সংবিধান। পাকিস্তান আমলে সংবিধান প্রণয়নে প্রায় নয় বছর লেগেছিল, যদিও সেটি আড়াই বছরের বেশি কার্যকর ছিল না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ(মোজাফ্ফর) কিছু পরিবর্তন ও সংশোধনের সুপারিশসহ
-
[দুবাংলায় ছোটোকাগজ অসংখ্য, পছন্দেরও কমতি নেই—তালিকা দীর্ঘ, আবার প্রিয় সম্পাদক, প্রিয় কবি, প্রিয় গল্পকার, প্রিয় প্রবন্ধকার কিংবা চিত্রকর অনেকেই রয়েছেন; তবুও কেন জানি বিশেষ করে সেইসকল দিনের কথা মনে হয়, যখন ছোটো ছিলাম, মিশনারী স্কুলে পড়তাম, পঁচিশে ডিসেম্বর এলে বাবা দিতেন নতুন বছরের ডায়েরি আর শিশুবার্ষিকী, বাবা আজ নেই তবু সেসকল স্মৃতিমধুর দিনগুলি শীতের আবেশে ছড়িয়ে থাকে, ছড়িয়ে থাকে ছোটোকাগজ করার মূল প্রেরণাশক্তি দেয়াল পত্রিকার গল্পও। বন্ধুরা কে কোথায় ছড়িয়ে গেছে যার যার আপন কর্মে, বছরের কোনো কোনো দিনে কদাচিৎ দেখা হয়, এভাবেই বহমানতার ভেতর দিনগুলি। ছেলেবেলায় যে সপ্তবর্ণা দিয়ে পথচলা, সেই সময়ের পর অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে, নির্মাণ হয়েছে
-
ব্রাহ্মণ ব্রহ্মার মুখ হইতে হইয়াছিল, যখন হইয়াছিল, তখন হইয়াছিল, এখন তা অন্যেও যেরূপে হয়, ব্রাহ্মণও সেইরূপেই হয়, তবে আর ব্রাহ্মণত্ব রহিল কি করিয়া? যদি বল, সংস্কারে ব্রাহ্মণ হয়, চণ্ডালকে সংস্কার দাও, সে ব্রাহ্মণ হোক; যদি বল, বেদ পড়িলে ব্রাহ্মণ হয়, তারাও পড়ুক। যদি জন্মের প্রক্রিয়াই মানুষের মধ্যে দূরত্ব/বৈষম্য সৃষ্টি করার মূল ভিত্তি হয়, তবে বর্তমানে প্রক্রিয়া যখন সবার জন্য সমান—তখন সেই দূরত্ব/বৈষম্য ঘুঁচে যাওয়া কেন স্বাভাবিক বাস্তবতা হবে না?
‘প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন’ বইটিতে লেখক এরকম অনেক বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছেন, প্রশ্ন করেছেন এবং পাঠককে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি প্রান্তিকতা ও বৈষম্যের ধারণার মূল জায়গায় আঘাত করতে চেয়েছেন। এই ধারাবাহিক
-
শত বছর পূর্বে রাশিয়ায় ঘটে এক বিশ্বকাঁপানো ঘটনা, যা মানব সভ্যতার গতিপথ পাল্টে দেয়। দুনিয়াটা আর অতীতের ধারাবাহিকতায় অক্ষুণ্ন থাকে না, ছেদ ঘটায়। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করার এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে রুশ দেশের মেহনতি মানুষ। শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বহু যুগের অন্যায়-অবিচার-জুলুম-নিপীড়ন-ভেদাভেদ-অমর্যাদা-অধিকারহীনতার অবসান হয়। গোটা বিশ্বকে এক নয়া উন্নত মানবিক সভ্যতার পথ দেখায় তারা, যার নাম 'সমাজতন্ত্র'। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় এই সমাজতন্ত্র কায়েমের মহাকর্মযজ্ঞ দুনিয়া কাঁপানো ‘রুশ বিপ্লব’ রূপে খ্যাত। অতীতে নানা দেশে আরও অনেক বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু এসব বিপ্লব অধিকাংশ মানুষের ওপর মুষ্টিমেয়ের শোষণ-শাসন-নিপীড়নের অবসান ঘটায়নি। কেবল এসবের ধরন
-
কমিউনিস্টদের প্রধান শত্রু হলো সাম্রাজ্যবাদ, লুটেরা পুঁজিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, সামন্তবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। মার্কসবাদী বিশ্লেষণ মতে, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় মৌলবাদ কেবল সাংস্কৃতিক প্রবণতা নয়; বরং এগুলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতিয়ার, যা মানুষের চেতনা বিভক্ত করে, শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে দুর্বল করে। কমিউনিস্টরা পরকাল বা কল্পিত স্বর্গের প্রত্যাশায় নয়—বরং বাস্তব পৃথিবীকে মানুষের মুক্তির উপযোগী করে তুলতেই সংগ্রাম করে। কমিউনিস্টরা এই পৃথিবীকে সবার জন্য বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সমাজ সংষ্কার করে, রূপান্তরের পথে অগ্রসর হয়। তারা বস্তুবাদী, সেক্যুলার ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত।
কমিউনিস্ট পার্টি শ্রেণি সংগ্রামের পার্টি, বিপ্লবের পার্টি। এই পার্টি পেশাদার বিপ্লবী তৈরি করে, যারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিজ্ঞানসম্মত তত্ত্ব ধারণ করে সমাজের
-
লেখক, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সত্যেন সেন (১৯০৭-১৯৮১) কোনোটি বাদ দিয়ে কোনোটি করেননি। প্রয়োজনে সব কাজগুলো তিনি একই সঙ্গে করেছেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯২১ সালে মাহাঙ্গু বানিয়া বা বাউ-এর সঙ্গে তিনি টঙ্গীবাড়িতে এক জনসভায় যোগদান করে তাঁর জীবনের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে যায়। বাউ-এর মাধ্যমেই তিনি বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৪ সালে কলেজে পড়াকালে যোগ দেন বিপ্লবী দল যুগান্তর-এ। সে সময় ‘নবশক্তি’ পত্রিকায় কিছু কিছু কবিতা লিখেছিলেন বলেও জানা যায়। তারপরেই ১৯৩১ সালে ২৪ বছর বয়সে রাজনৈতিক কারণে জেল জীবন শুরু হয় অস্ত্রের মধ্যে তাঁর চিঠি পাওয়ার অপরাধে। তারপর জেল-বাহির-জেল এভাবে কেটে যায়। ১৯৬৮ সালের শেষভাগ পর্যন্ত প্রায় ৭৪
-
দ্য জাকার্তা মেথড: ওয়াশিংটন’স অ্যান্টি-কমিউনিস্ট ক্রুসেড অ্যান্ড দ্য মাস মার্ডার প্রোগ্রাম দ্যাট শেপড আওয়ার ওয়ার্ল্ড (The Jakarta Method: Washington's Anticommunist Crusade and the Mass Murder Program that Shaped Our World)
লেখক: ভিনসেন্ট বেভিনস (Vincent Bevins)
প্রকাশক: পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (PublicAffairs)
প্রকাশকাল: মে ২০২০
নিজেকে সমাজতন্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া যে কাউকে জীবনের কোনো না কোনো সময় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্নটি হলো, ‘সমাজতন্ত্রের নামে এ পর্যন্ত কত মানুষের প্রাণ গেছে?’ উত্তরে তারা একথা বলতে পারেন যে সোভিয়েত ধাঁচের রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের সঙ্গে জেরেমি করবিনের মতো হাল আমলের রাজনীতিবিদদের উপস্থাপিত গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পার্থক্য প্রায় ঠিক ততটাই, যতটা পার্থক্য রয়েছে প্রায় দেখতে একই রকম
-
রোকেয়া যতটা উচ্চারিত, তার খুব সামান্যই পঠিত এবং গৃহীত। কারণ আজও তিনি নানা খণ্ডীকরণের খপ্পড়ে অবরুদ্ধ। ‘মুসলিম নারী শিক্ষার অগ্রদূত’, ‘নারী জাগরণের প্রতীক’, ‘মুসলিম সমাজ সংস্কারক’, ‘ইসলামী নারীবাদী’, ‘আমূল নারীবাদী’, ‘বিশিষ্ট মুসলিম লেখিকা’ ইত্যাদি নানা পরিচয়ে রোকেয়ার সংকোচন ঘটেছে। তার কালের জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সামগ্রিকভাবে রোকেয়ার মূল্যায়ন এখনও অনুপস্থিত।
এই কারণেই বোধ হয় ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত শামসুন নাহার মাহমুদ রচিত ‘রোকেয়ার জীবনী’ গ্রন্থের ভূমিকায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক পণ্ডিত অধ্যাপক সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন—“কিন্তু রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাস্তবিক যে কত বড় ছিলেন, তাহা বাহিরের লোকেদের কাছে অজানা রহিয়া গেল। এই অজানার অন্ধকার আমাদের আদৌ কাটেনি বরং রোকেয়া দিবস, রোকেয়া পদক, রোকেয়ার
-
বাংলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার (৭+ বছর বয়সী) ৭৭.৯ শতাংশ। স্বাক্ষরতা আর শিক্ষা যেদুইটি আলাদা বিষয় তা বলাই বাহুল্য। একাডেমিক পাসে কিছু বিষয়ের প্রারম্ভিক ধারণাসহ স্বাক্ষরজ্ঞান তৈরি হয় মাত্র, কিন্তু শিক্ষা এক বিস্তৃত বিষয়, যা অর্জন ও প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থ-রাজনৈতিক অসৎ প্রভাব প্রবল। এখানে বহুধারার বিপরিতিমুখী সাংঘর্ষিক বহুকারণের শিক্ষা সিলেবাস বর্তমান। যা আমাদের মনোজগতকে এমনকি অন্ততঃ কিছু মৌল বিষয়ের প্রতিও ঐক্যমত তৈরিতে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যে বাধা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে; যার কারণ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নানা বাঁক। যা আমাদের প্রগতির পথকে আরো দীর্ঘ এবং
-
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাস। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা মাত্রই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। প্রায় দুইশ বছরের লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে এবং ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলেও ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। এই প্রভাব সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও চিন্তার গভীরে সক্রিয় রয়েছে—যা সমকালীন তাত্ত্বিক পরিভাষায় কলোনিয়ালিটি (Coloniality) বা ঔপনিবেশিকতা নামে পরিচিত। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কলোনিয়ালিটিকে বোঝা যায় একটি ঐতিহাসিক উৎপাদন সম্পর্ক, শ্রেণি শোষণ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিক রূপ হিসেবে। ঔপনিবেশিক
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- গদ্য
- সমাজতন্ত্র
- সাম্যবাদ
- স্মৃতিকথা
- অস্ত্র
- আন্দোলন
- প্রযুক্তি
- বিজ্ঞান
- ছোটগল্প
- নদী
- গণতন্ত্র
- কিশোর
- প্রাচীন
- শিশুতোষ
- উদ্ভাবন
- জ্যোতির্বিদ্যা
- দর্শন
- প্রতিস্বর
- পুঁজিবাদ
- মার্কসবাদ
- লেখক
- সমালোচনা
- জীবনী
- নির্বাচন
- আলোচনা
- বই
- বিশ্ববিদ্যালয়
- মুদ্রণ ও প্রকাশনা
- কবিতা
- বিয়োগান্তক
- সমসাময়িক
- নারীবাদী
- ভাষণ
- বিপ্লব
- মধ্যপ্রাচ্য
- সংঘর্ষ
- অনুবাদ
- মুক্তিযুদ্ধ
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- ইংরেজি
- পাকিস্তান
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
- ভারত
লেখক
- অমিত রঞ্জন দে (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (২)
- এহসান হায়দার (২)
- কল্লোল বনিক (১)
- গোলাম মোরশেদ খান (৪)
- গ্রেস ব্ল্যাকলি (১)
- চন্দন লাহিড়ী (১)
- নজরুল ইসলাম (১)
- পারভেজ হোসেন (১)
- প্রমা ইসরাত (১)
- বিকাশ সাহা (২)
- ভার্জিনিয়া উলফ (১)
- মনি হায়দার (১)
- মিশেল ফুকো (১)
- মোহাম্মদ মাসুম (২)
- শাহীন রহমান (৩)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (১)
- সুপা সাদিয়া (১)
- সৈয়দ তোশারফ আলী (১)
- হরবোলা (২)
- হাসান তারেক (৪)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.