-
নোবেল পুরস্কার একটি আন্তর্জাতিক বার্ষিক পুরস্কার। ১৮৯৫ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল-এর করে যাওয়া একটি উইল অনুসারে পুরস্কারটি ১৯০১ সাল থেকে প্রচলন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। এ পুরস্কারকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯০১ থেকে ২০১৬, এ পর্যন্ত মোট পাঁচ দম্পতি এই সম্মানিত পুরস্কারটি অর্জন করেছেন—
১। মারি কুরি-পিয়ের কুরি: তেজষ্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯০৩ সালে হেনরি বেকরেল-এর সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এই দম্পতি। ১৯১১ সালে মারি কুরি দ্বিতীয়বার নোবেল পান রসায়নে।
২। আইরিন জুলিয়ট কুরি-ফ্রেডেরিক জুলিয়ট:
-
এক শতক আগে, বার্লিনে, ১৯১৫ সালের ২৫ নভেম্বর, আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তারপর অনেক বছর পর্যন্ত খুব কমসংখ্যক পদার্থবিদ এটা বুঝতে পারতেন। তবুও ১৯৬০ সাল থেকে, পরবর্তী বিতর্কিত দশকগুলোতে অধিকাংশ সৃষ্টিতত্ত্ববিদগণ অসম্পূর্ণ বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বকেই কৃষ্ণ-গহ্বরসহ পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব ব্যাখ্যার সবচেয়ে ভালো তত্ত্ব হিসেবে বিবেচনা করতেন।
এবং এখনো, তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব (থিওরি অফ ন্যাচারাল সিলেকশন), মৌলের পর্যায় সারণি, (দ্য পেরিওডিক টেবল অব দ্যা এলিমেন্টস), এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বের তরঙ্গ-কণা’র দ্বৈততার মতো বিজ্ঞানের সাড়া জাগানো বিষয়গুলো অনেকে সহজে বুঝলেও গুটিকয় বিশেষজ্ঞ ছাড়া খুব কমসংখ্যক মানুষ সাধারণ আপেক্ষিকতা বোঝে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে, তবুও
-
প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক লিউসিপ্পাস (আনু, খ্রি. পূ. ৪৯০-৪৫০) কে অণুবাদের আবিষ্কর্তা হিসেবে স্বীকার করা হয়।[১]তিনি ছিলেন অণুবাদের প্রধান প্রবক্তা বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস (খ্রি. পূ. ৪৬০-৩৭০) এর শিক্ষক। সকালে লিউসিপ্পাসের অনুবাদের চিন্তা ততটা তাত্ত্বিক হয়ে না ওঠলে ও তাঁর অনুমান ছিল অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে ডেমোক্রিটাসই তাঁর পারমাণবিক প্রতীতির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর তত্ত্বানুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত।[২]তারা এত ক্ষুদ্র যে তাদের আর বিভাজন করা যায় না। এই সমস্ত কণা শাশ্বত, অপরিবর্তনযোগ্য ও ধ্বংসের অতীত। বিভিন্ন পদার্থের কণার আকার, আয়তন, অবস্থান ও অন্যান্য ধর্ম পৃথক পৃথক। এই সমস্ত কণা বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে
-
পরীক্ষার হলে খাতায় লিখতে লিখতে আজকে সুমির মনে হচ্ছে, ঘড়ির কাঁটা কীভাবে এত দ্রুত ঘুরছে। এখন তার আরও তিনটা উত্তর দিতে হবে এদিকে যতবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে বুঝছে মিনিটের কাঁটাটা যেন দৌড়নো শুরু করেছে। পাঁচ মিনিট গেল মনে করে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে আর দেখছে প্রায় পঁচিশ মিনিটই চলে গেছে। তার ইচ্ছা করছে কোনভাবে ঘড়ির গতিটা যদি ধীর করে দিতে পারত। কবে শুনেছিল আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ সূত্র থেকে পাওয়া এক অবাক করা তথ্য হল, গতিশীল অবস্থায় ঘড়ির কাঁটা নাকি স্থির ঘড়ির চেয়ে ধীরে চলে, একেই বলে সময়ের ধীরতা বা টাইম ডায়লেশন (Time Dilation)। এর অর্থ তখন বা এখনও ঠিক বুঝতে না
-
লেখক: পাভেল পার্থ
পরিবেশ ও প্রতিবেশ
বাংলাদেশের নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের নিশান ও ইশারাগুলো বোঝার নিয়তে একটা প্রাথমিক জায়গা থেকে চলতি আলাপখানির বিস্তার শুরু হচ্ছে। নিম্নবর্গের চিন্তাপদ্ধতির প্রতিবেশীয় মেজাজ ও এর জটিল বিন্যস্ত দার্শনিকতার বৈচিত্র কোনোভাবেই এই এক বিঘত আলাপ তলে জারি করা সম্ভব নয়। এর জন্য যে প্রস্তুতি ও চর্চা দরকার তা চলতি আলাপের শরীর কি মগজে খুব একটা নাই। আলাপখানি নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের ঐতিহাসিকতা ও এর সংগ্রামী বিকাশমানতার প্রতি আজন্ম দায়বদ্ধ ও নতজানু হয়েই এখানে সামিল হয়েছে। রাষ্ট্রের ইতিহাস কাঠামো ও প্রবল চিন্তাপদ্ধতি থেকে এর নাভীমূল কি পত্রপল্লব আন্দাজ করা সম্ভব নয়। এর জন্য অন্যতম মৌলিক শর্ত দেশ ও
-
বকপাখির ছদ্মবেশধারী ধর্ম জ্যেষ্ঠ-পাণ্ডব যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য কী? উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, মানুষ অহরহ মৃত্যু দেখে কিন্তু আপন মৃত্যুর কথা ভুলে থাকে। হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ মনুষ্যজাতির ক্ষেত্রে অভিধাটি প্রযোজ্য। মানুষ ব্যাপক প্রজাতিবিলুপ্তির তথ্য জানে এবং নিজেও অবিরাম প্রজাতিবিলুপ্তি ঘটিয়ে চলেছে। কিন্তু নিজের বিলুপ্তি কখনো ভাবে না।
প্রজাতি বিলুপ্তি একটি জীবতাত্ত্বিক বাস্তবতা তথা প্রকৃতির আমোঘ নিয়ম। এই ধ্বংসের মধ্যেই নিহিত সৃষ্টির বীজ এবং বৈচিত্র্যের ভিত্তি। জীবকুলের উৎপত্তির পর ভূ-তাত্ত্বিক কালপর্বে অজস্র প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে। পৃথিবীতে উৎপন্ন প্রজাতির মাত্র ১.৬ শতাংশ আজ বেঁচে আছে। মানবজনমের আগে বারবার গণবিলুপ্তি ঘটেছে। সর্বশেষ ৬.৫ কোটি বছর আগে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল সামুদ্রিক প্লাংকটন, মেরুদণ্ডীর
-
লেখক: ডা. মো. তোফায়েল হোসেন
আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যার প্রতিপাদ্যে দেখা যাচ্ছে দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে এবং এ কারণে রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। চায়ে চিনি কম পড়লে আমরা চিনি দেই, তরকারীতে নুন কম পড়লে আমরা লবণ দেই, মোটর সাইকেল বা গাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের অভাব পড়লে আমরা পেট্রোল-অকটেন ভরাই, মবিলের দরকার হলে মবিল দেই, ফুটা দিয়ে তেল পড়লে আমরা ফুটা ঠিক করাই, গাড়ির চাকার হাওয়া লিক করলে ছিদ্র সনাক্ত করে ঠিক করাই।
আয়রন কোথায় থাকে? আয়রন হিমোগ্লোবিনের হিম অণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। এ ছাড়া আয়রন মায়োগ্লোবিনের অংশ। বিভিন্ন কোষকলায় এনজাইম হিসাবে কাজ করে। জমা থাকে ফেরিটিন ও হিমোসাইডেরিন আকারে অস্থিমজ্জায়, লিভার
-
লেখক: মুহম্মদ আশরাফউজ্জামানযাদের জীবন আছে তাদের আমরা জীব বলি। বাকিরা জড়। এখন জীবন কি সেই প্রশ্নে আলোচনা স্থগিত রেখে এইটুকু মোটা দাগে বলা যায় জীব-জড় মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ গঠন করে। জীবদের আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় উদ্ভিদ ও প্রাণি। উদ্ভিদ ও প্রাণি যেমন এক অপরের উপর নির্ভরশীল তেমনি তারা উভয়েই জড়জগতের উপর ও নির্ভরশীল। তাই আমরা বলতে পারি যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার সার্বিক অবস্থাটাই হলো পরিবেশ। আমরা এটাও লক্ষ করবো যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আছে। প্রকৃতি এই ভারসাম্য রক্ষা করে। চট করে বিনষ্ট হতে দেয় না।জীববিজ্ঞান পড়তে গেলে আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে বেশ
-
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা সম্ভব কি না, অথবা এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, সে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এমন আরও একটি ধারাবাহিক বিতর্ক ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ হলো, যে কোন বিতর্কের অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো বাদ দিলে এই বিতর্কে বিজ্ঞান শিক্ষা, সমাজে বিজ্ঞান চেতনার বিস্তার এবং সাধারণভাবে এগুলোর সাথে মাতৃভাষায় শিক্ষার সম্পর্কের প্রশ্নটি উঠে এসেছে দারুণভাবে। এই বিতর্কটির সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল দেশে এবং বিদেশে অগ্রগণ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার সাথে জড়িত ব্যক্তিত্বদের পর্যবেক্ষণজাত মতামত এবং পরামর্শ।
শুরুটা হয়েছিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর একটা প্রশ্ন থেকে, বাঙলায় সেটা দাঁড়াবে এমন: তো ছেলে-মেয়েরা, বিজ্ঞানকরার সময়ে
-
রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছোট্ট রুবাইয়াৎ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে মা তার কিভাবে ম্যাচবক্স থেকে একটা কাঠি বের করে সেটা বক্সটার একপাশে ঘষে দিতেই কাঠিটার মাথায় আগুন ধরে গেল। সে আগুন আবার চুলোর কাছে নিয়ে ধরতেই চুলোয় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো।
রুবাইয়াৎ মাকে প্রশ্ন করলো—আগুন জ্বলে কেমন করে, আম্মু? মা বললো—যাও, রাফসান ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করো। যদি ভাইয়া বলতে না পারে তাহলে আমি বলবো, কেমন?
রুবাইয়াৎ দৌড়ে রাফসান ভাইয়ার কাছে গেল। দেখলো সে পড়াশুনায় ব্যস্ত, সামনের মাসেই তার বড়সড় একটা পরীক্ষা আছে কিনা। তবুও তাকে সাহস করে প্রশ্ন করে বসলো রুবাইয়াৎ—আচ্ছা ভাইয়া, আগুন জ্বলে কেমন করে?
পড়াশুনায় বাধা পড়ায় রাফসান প্রথমে বিরক্ত
-
আইনস্টাইন-রবীন্দ্রনাথ সংলাপ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। সে সম্পর্কে কৌতুহল থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। দুজনেই বিশ্ব ইতিহাস বিখ্যাত। একজন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক আরেকজন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্য প্রতিভার অন্যতম। বয়েসের দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বড়। আইনস্টাইনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্ভবত কয়েকবার দেখা হয়েছিল। দুইবারের সাক্ষাৎ ও কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছিল। টেপ রেকর্ডে নয়। দোভাষী দিমিত্রি মারিয়ানফ যেভাবে লিখে রেখেছিলেন, সেইভাবেই তা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই বার্লিনের উপকণ্ঠে কাপুথে। পরেরবার একই বৎসর ১৯ আগস্ট বার্লিনে। দুইবারই রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের অতিথি। আইনস্টাইন বলেছেন জার্মান ভাষায়, রবীন্দ্রনাথ ইংরেজিতে। প্রথমবারের সংলাপ, যা দোভাষী রেকর্ড করেছিলেন তাই-ই ছাপা হয়েছিল একই বৎসরে আগস্ট মাসে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়।
-
রোগ যেন প্রাণী জগতের, বিশেষ করে মানব জাতির জীবন কাব্যের এক মহাভিলেন। প্রতিরোধক, প্রতিষেধকের যাবতীয় ক্রিয়া-করণ অনুসরণ করার পরও এর থেকে নিস্তার তো মেলেই না অধিকন্তু টুটি চেপে সে বিনির্মাণ করে জীবন কাব্যের ট্রাজিক পরিণতি। কখনও সে রূপ ধারণ করেছে জ্বর সর্দি, কখনও বা যক্ষা, কলেরা, ক্যান্সার ইত্যাদি। কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, কৃষক, আমলা, কামলা, রাজন, সন্ন্যাসী, মৌলানা, যাজক যেন কিছুতেই কোন জাত-পাতের, ধর্ম-কর্মের, শ্রেণি-পেশার ধার সে ধারে না এমনই এক শক্তিধর। সে সমস্ত রোগের কারণ আজ আমাদের অনেকের কাছে অজানা না থাকলেও এ নিয়ে মানুষের মধ্যে যুগে যুগে রচিত হয়েছে বিভিন্ন ধোঁয়াশাময় গাল-গল্পের, ব্যাখ্যা নিয়ে ঘটেছে বহুমুখী দ্বন্ধ-সংঘাত। তবুও
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.