-
মার্কসতত্ত্বের একটি সাধারণ এবং সর্বাঙ্গীণ পরিচয় আমরা লাভ করতে পারি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘কেপিটেলে’ সন্নিবিষ্ট মার্কস ও এঙ্গেলসÑএর মুখবন্ধগুলি হইতে। একটি পণ্য কি কারণে অপর একটি পণ্যের সহিত বিনিময় হয়, অথবা একটি বিশেষ পরিমাণের মুদ্রায় বাজারে বিক্রয় হয়, প্রতিদিনের এই ঘটনাটির পশ্চাতে যে রহস্য লুক্কায়িত রহিয়াছে তাহার উদ্ঘাটন মার্কসের পূর্বে দুই হাজার বৎসর সম্ভবপর হন নাই। এরিস্টটল ইহার উত্তর দিতে চেষ্টা করিয়াছেন; এডাম স্মিথ এবং রিকার্ডো অনেকখানি অগ্রসর হইয়াও সফল হন নাই। এই দুই হাজার বৎসরে অনেক রকমের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আবিষ্কার সম্ভব হইয়াছে; কিন্তু পণ্যে মূল্যরূপের (value form) মতো একটি ক্ষুদ্র প্রতিদিনের প্রত্যক্ষের বিষয় সম্বন্ধে বিচার ও বিশ্লেষণে যত সহজ,
-
হেগেল বিশ্ব ইতিহাসের দর্শন রচনা করিয়াছেন। এই আলোচনায়ই তাহার দর্শনের মর্ম সহজে ফুটিয়া উঠিয়াছে। কি করিয়া আত্মা (spirit) সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়, তাহা দেখানোই বিশ্ব ইতিহাসের কার্য। বিশ্ব ইতিহাসেই ‘প্রজ্ঞার’ (reason) উদয় হয়; ইহারই ভেতরে ‘প্রজ্ঞা’ তাহার বিকাশ ও স্বতস্ফূর্ততার পথ খুঁজিয়া লয় এবং পরিশেষে আত্মোপলব্ধির আনন্দে সার্থক হয়। হেগেল লিখিত ইতিহাস পর্যালোচনায় এই মূল কথাটি মনে রাখিতে হইবে।
ইতিহাসকে দেখা হইয়াছে তিন রকমে (১) মৌলিক ইতিহাস (Original History) (২) ভাবমূলক ইতিহাস (Reflective History) (৩) দার্শনিক ইতিহাস (Philosophical History). হিরোটাস এবং থুসিডিডস্ লিখিয়াছেন প্রথম শ্রেণীর ইতিহাস। তাঁহাদের রচনা সম-সাময়িক তথ্য এবং ঘটনাদি বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাহারা এমন জিনিস রচনা করিয়াছেন
-
আঠারো শতকে বস্তুবাদের পরে জার্মানিতে জন্ম লইল ভাববাদ ইহাকে সাধারণত বলা হয় স্পেকুলেটিভ ফিলসফি। হেগেল এই দর্শনের জন্মদাতা। বস্তুবাদী অপেক্ষা ভাববাদীদের বিচার পদ্ধতি উন্নততর ছিল। বস্তুবাদীরা সকল বস্তুকেই মনে করিত অপরিবর্তনীয়। এই শ্রেণীর দার্শনিকেরা বস্তুর পরিবর্তনকে স্বীকার না করিয়াই তত্ত্ব-নির্মাণ করিত। কিন্তু যে ভাববাদের কথা আমরা উল্লেখ করিলাম তাহা বস্তু এবং তথ্যকে বিচার করিল অন্যদৃষ্টিতে। ভাববাদীরা তাহাদের বিচারে লক্ষ্য রাখিত বস্তুর উদ্ভব, বিকাশ এবং বিনাশের দিকে। বস্তুবাদী দার্শনিকেরা সকল জিনিসকেই ভাবিত অজড়, অনড়, সকল জিনিসেরই যে রূপান্তরের সম্ভাবনা থাকিতে পারে তাহা ইহারা বুঝিয়া উঠিতে পারি না। বস্তুবাদীদের এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিচাররীতি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করিলেন ঊনবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ভাববাদী দার্শনিকেরা সকল
-
আঠারো শতকের ফারসী বস্তুতন্ত্রীদের মত ছিল, সমাজকে নিয়ন্ত্রণ এবং শাসন করে জনমত (public opinion); এই জনমত সমাজ-পরিবেশের সৃষ্ট, ইহার প্রকাশ হয় রাষ্ট্র-বিধির ভিতর দিয়া। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক হইতেই এই মত বর্জিত হইতে লাগিল।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক Guizot বলিলেন, অধিকাংশ লেখক সমাজের বিকাশের মূল খুঁজিয়া বাহির করিয়াছেন রাষ্ট্রনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভিতরে। ইহাদিগকে বিচারের মূল বিসয় না করিয়া গোড়ায় সমাজকে বুঝিবার চেষ্টা করিলেই বুদ্ধিমানের কাজ হইত। তিনি ইহাও বলিয়াছেন, রাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠাগুলি কারণ হিসাবে কাজ করিবার পূর্বে অন্য কতকগুলি কারণ হইতে ইহাদের উদ্ভব হইয়াছে। সমাজকে ইহারা নিয়ন্ত্রণ করে বটে, কিন্তু প্রথমত সমাজই ইহাদিগকে জন্ম দিয়াছে। ঐতিহাসিকের দৃষ্টি সর্বপ্রথম আকর্ষন করিবে সমাজের বিভিন্ন পরিবর্তন, স্তর এবং
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
আর্কাইভ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.