- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
মুরগীর ছানা
মুরগী তার বাচ্চাকে ডেকে বলল, এই ছোঁড়া, অমন করে খোঁড়াচ্ছিস কেন রে?
বাচ্চা বলল, একটা কাঁটা ফুটেছে মা।
কেন, দেখে পথ হাঁটতে পার না। কেবল দস্যিপনা!
হ্যাঁ, দস্যিপনা! কাঁটাগুলো কেমন করে চোরের মতন লুকিয়ে থাকে, আর দেখ না দেখ, কুটস করে ফুটে বসে। ওদের দেখা যায় নাকি? বাচ্চা নাকী সুরে বলল।
না, দেখা যায় না! কই, আমাদের পায়ে তো ফোটে না।
বাচ্চা এবার সুযোগ পেয়ে মাকে চেপে ধরল, তোমাকে ক’দিন বলেছি মা, আমি চোখে ভালো দেখতে পাই না, আমাকে একটা চশমা এনে দাও। তা তুমি কিছুতেই দেবে না।
আহা-হা, কি কথার ছিরি! মুরগীরা আবার চশমা পরে কোনো দিন?
তবে ওরা পরে কেন? ওই-যে ও-বাড়ির ছোট্ট বাচ্চাটা, তার চোখেও এই এত্তো বড় একটা চশমা। আঃ, কি সুন্দর দেখতে! কেন, আমায় তুমি একটা দিতে পার না?
মা বলল, হারে পাগলা, ও যে মানুষের বাচ্চা। ওরা তো পরবেই। আর আমরা হচ্ছি মুরগী, আজ আছি কাল নেই। কথায় বলে মুরগীর প্রাণ! ওদের যখন খুশী হবে সাবাড় করে দেবে। আমাদের আবার চশমা। তোর কথা শুনে হাসব না কাঁদব!
কথাটা বলে ফেলেই মুরগী জিভ কাটল। ছি ছি, এইটুকুন বাচ্চার কাছে কথাটা বলা ঠিক হয়নি। আছে নিশ্চিন্তে থাকুক, যে ক’টা দিন না জানে ভালো। আগে থেকেই শুনিয়ে লাভ কি?
বাচ্চাটা বাচ্চা হলে কি হবে, বিষম টনটনে! একটা কথাও ওর কান এড়ায় না। কোথায় কি ঘটছে না ঘটছে, চশমা না থাকলে কি হবে, সবই সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। মা ভাবে, আহা, অবোধ শিশু, কিছুই বোঝে না। কিন্তু সে এরই মধ্যে অনেক কিছুই জেনে নিয়েছে। সাবাড় করা কাকে বলে, পুরোপুরি না বুঝলেও কিছু কিছু সে বুঝল। একদিন একটা মোরগকে ওরা কেটেছিল। উঃ, কি তার চেঁচানি। তারপর কতক্ষণ ঝটপট করে মোরগটা সেই-যে পড়ে রইল আর উঠল না। বাচ্চা পিট পিট করে সব কিছুই দেখছিল। তার বিষম ভয় করছিল। তারপর ক’দিন সে আর ঠিকমত ঘুমোতে পারেনি। এর নামই বোধ হয় সাবাড় করে দেওয়া।
মুরগীকে জিভ কাটতে দেখেই বাচ্চা বুঝল মা যেন কি কথা বলতে গিয়েও চেপে গেল। ব্যস আর তাকে পায় কে, কারা সাবাড় করে, কেমন করে সাবাড় করে আর কেনই বা সাবাড় করে? উহু, না বললে কিছুতেই ছাড়বে না সে! কি ছেলে বাবা, মায়ের কানের পোকা একেবারে খসিয়ে ছাড়ল।
একটু একটু করে বাচ্চাটা কথা আদায় করে নিল। বলব না, বলব না, করতে করতেও মাকে কিছু কিছু বলতেই হলো। একবার একটু বেফাঁস কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেলে আর কি উপায় আছে। বাচ্চা আগে যা জানত আর এখন মার মুখে যা শুনল দুটোতে যোগ করে নিয়ে মোটামুটি ব্যাপারটা বুঝল। আগে মনে করেছিল, ওই মোরগটা বুঝি কপাল দোষে অমন করে সাবাড় হয়ে গেল। আর এখন বুঝল, কপাল টপাল কিছু নয়। মোরগ-মুরগী যত আছে, সবারই এই একই দশা ঘটবে। দুদিন আগে আর পরে। তার মানে, সে আর তার মা, তারাও এ থেকে বাদ যাবে না। কি সর্বনেশে কথা! এমন কথা তো সে কোনো দিনই ভাবতে পারেনি।
চিন্তাটা ভারী হয়ে তার মাথার মধ্যে ঝুলতে লাগল। এক মুহূর্ত রেহাই দেয় না। এই একই কথা কত রকম করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সে তার মার কাছে শুধোতে লাগল। মা বলল, রাখ বাছা, এসব কথা অতবেশী ভাবতে নেই। ভাবতে গেলেই জ্বালা। অদেষ্টে যা আছে, তাই হবে।
হুঃ, মার যেমন কথা! ভাবতে নেই বললেই কি আর না ভেবে থাকা যায়? তার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments