সেরকো

মূল রুশ থেকে অনুবাদ: হীরেন্দ্রনাথ সান্যাল

অনুবাদ সম্পাদনা: অর্দ্ধেন্দু গোস্বামী

একজনের একটা কুকুর ছিল। তার নাম সেরকো। কুকুরটা বুড়ো হয়েছে—থুত্থুরে বুড়ো। লোকটি তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল। সেরকো তখন মনের দুঃখে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াতে লাগল।

‘বছরের পর বছর মনিবের সেবা করেছি, তার বাড়ি-ঘর পাহারা দিয়েছি। আর আজ আমার এই বুড়ো বয়সে আমায় এক টুকরো রুটি দিতেও সেই মনিবের কষ্ট হয়! আমায় সে তাড়িয়েই দিল!’

এমনি সে ঘুরতে ঘুরতে ভাবছে।... হঠাৎ দেখতে পেল একটা নেকড়ে আসছে। নেকড়েটা তার কাছে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছো কেন হে?’

সেরকো জবাব দিল, ‘মনিব আমায় তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই।’

নেকড়ে বলল, ‘তাহলে এমন একটা কিছু করতে হবে, যাতে মনিব আবার তোমাকে ফিরিয়ে নেয়?’

সেরকো খুশি হয়ে উঠল, ‘ভাই, তাই করো। এ উপকারের বদলে আমিও নিশ্চয়ই তোমার উপকার করব।’

নেকড়ে বলল, ‘তবে শোনো। যখন দেখবে তোমার মনিবেরা ফসল কাটতে বেরিয়েছেন, আর মনিব-গিন্নি তাঁর খোকাটিকে ঝোপের ছায়ায় শুইয়ে দিয়েছেন, তখন তুমি খোকার পাশ দিয়ে চলে যাবে—তা হলেই বুঝতে পারব খোকা কোথায় রয়েছে। আমি গিয়ে খোকাকে ধরব। তুমি তাকে কেড়ে নিতে আসবে। আর আমিও তখন যেন ভয় পেয়েছি এমন ভাব দেখিয়ে খোকাকে ছেড়ে দেব।’

মনিবেরা ক্ষেতে ফসল কাটতে বেরোলেন। মনিব-গিন্নি তাঁর খোকাটিকে ঝোপের ছায়ায় শুইয়ে দিলেন। তারপর নিজেও ফসল কাটতে লেগে গেলেন। তাঁর মনে কোনো সন্দেহই জাগেনি। হঠাৎ কোথা থেকে তেড়ে এল নেকড়ে। ছেলেটিকে কামড়ে ধরে সে মাঠের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে চলল। নেকড়েকে ধরার জন্যে সেরকো তার পেছনে ধাওয়া করল। আর এদিকে মনিব ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন, ‘হে-ই সেরকো!’

সেরকো নেকড়েকে ধরে ফেলল। ছেলেটিকে কেড়ে নিয়ে সে মনিবের সামনে এনে শুইয়ে দিল। তখন মনিব থলে থেকে রুটি আর খানিকটা চর্বি বের করে বললেন, ‘খাও সেরকো! আমার খোকাকে তুমি রক্ষা করেছ, তোমাকে এই খাবার দিচ্ছি, খাও!’

সন্ধ্যেবেলায় তাঁরা মাঠ থেকে ফিরলেন। সেরকোকেও সঙ্গে করে নিয়ে এলেন। বাড়ি পৌঁছে মনিব বললেন, ‘বেশ খানিকটা পুডিং তৈরি করো তো গিন্নি। আর হ্যাঁ, চর্বি দিতে মায়া করো না কিন্তু।’

পুডিং তৈরি হল। মনিব সেরকোকে নিয়ে খাবার টেবিলের ধারে বসিয়ে নিজেও তার পাশে বসলেন। বললেন, ‘পুডিংটা টেবিলে দাও তো গিন্নি, রাতের খাবার সেরে নেওয়া যাক।’

মনিবগিন্নি পুডিংটা এনে টেবিলে ধরে দিলেন। মনিব একগাদা পুডিং তুলে নিয়ে একটা পাত্রে রাখলেন। পাছে গরম গরম খেতে গিয়ে সেরকোর মুখ পুড়ে যায়, সেজন্যে মনিব তাতে ফুঁ দিতে লাগলেন।

সেরকো তখন ভাবছে, ‘নেকড়ে আমার এই যে উপকার করল, যেমন করে হোক এর বদলে আমাকেও নেকড়ের উপকার করতে হবে।’

এদিকে হল কী—মনিব ঠিক করলেন তাঁর বড় মেয়ের বিয়ে দেবেন। সেরকো মাঠে গেল। নেকড়েকে দেখতে পেয়ে বলল, ‘রবিবার সন্ধ্যেবেলা তুমি আমাদের সবজি বাগানে এসো। আমি তোমাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাবো। তুমি আমার যে উপকার করেছিলে, আমি তখন তার প্রতিদান দেব।’

নেকড়ে রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করে রইল। তারপর সেরকো যেখানে বলেছিল সেখানে গিয়ে হাজির হল। এদিকে ঠিক সেই দিনেই বিয়ের হৈ-হল্লা চলছিল। সেরকো নেকড়েকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে খাবার টেবিলের তলায় লুকিয়ে রাখল। তারপর টেবিলের ওপর থেকে ভোদ্কার বোতল আর বেশ খানিকটা মাংস মুখে করে সে নেকড়ের কাছে টেনে নিয়ে গেল। অতিথিরা কুকুরটাকে মারতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মনিব মাঝে পড়ে বললেন, ‘সেরকোকে মেরো না। ও আমার উপকার করেছে। আমিও তার বদলে, সেরকো যতদিন বেঁচে থাকবে, তাকে আদর যত্নে রাখব।’

সেরকো তখন টেবিল থেকে সবচেয়ে ভালো ভালো মাংসের টুকরোগুলো তুলে নেকড়ের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice