অক্টোবর বিপ্লব
১৯০৫ সালে রাশিয়ায় প্রথম বিপ্লব হয়েছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিপ্লব হয়েছিল ১৯১৭ সালে। রুশ দেশের পুরানো পঞ্জিকা অনুসারে দ্বিতীয় বিপ্লব হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। এই বিপ্লবে জারের পতন ঘটেছিল। নতুন পঞ্জিকার হিসাবে দ্বিতীয় বিপ্লব হয়েছিল মার্চ মাসে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিপ্লব বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, আর তৃতীয় বিপ্লব সোস্যালিস্ট বিপ্লব। মজুর শ্রেণির পার্টির অর্থাৎ বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে পুরানো পাঁজির হিসাবে এই বিপ্লব আরম্ভ হয়েছিল ২৫শে অক্টোবর তারিখে। তাই তাকে বলা হয় অক্টোবর বিপ্লব। নতুন পাঁজির হিসাবে বিপ্লব আরম্ভ হয়েছিল ৭ই নভেম্বর তারিখে, কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব নামটিই রয়ে গেছে। আমাদের দেশে আমরা নভেম্বর বিপ্লবও বলে থাকি। সোভিয়েত দেশের ও অন্যান্য দেশের লোকেরা তা বলেন না। তাঁরা বলেন অক্টোবর বিপ্লব।
রুশ দেশের মহান অক্টোবর বিপ্লব সমগ্র জগতের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। এই বিপ্লবের দ্বারা পৃথিবীর একটি দেশে অন্তত শ্রমজীবী জনগণ ক্ষমতার আসনে বসেছিলেন। এই একটি দেশেই মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ শেষ করে দেওয়ার কাজ প্রথম আরম্ভ হয়েছিল।
জগতে একের পর এক যে সাম্রাজ্যবাদের দৃঢ় বিন্যাস হয়েছিল তাতে প্রথম ভাঙন ধরিয়েছিল অক্টোবর বিপ্লব। বিরাট-বিশাল জারের সাম্রাজ্যে নিপীড়িত জাতিসমূহকে মুক্তির আস্বাদ শিখিয়েছে অক্টোবর বিপ্লব। অক্টোবর বিপ্লব হতেই ঔপনিবেশিক অধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ দেশগুলি মুক্তির প্রেরণা পেয়েছে। আমাদের ভারতবর্ষও এই প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ দেশগুলির বাইরে ছিল না।
অক্টোবর বিপ্লব সমস্ত জগৎকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। জগতের শোষিত ও নির্যাতিত মানুষেরা অক্টোবর বিপ্লবকে শুধু রাশিয়ার বিপ্লব মনে করেননি, তাঁরা মনে করেছেন অক্টোবর বিপ্লব তাঁদেরও বিপ্লব।
সব চেয়ে বড় কথা এই যে অক্টোবর বিপ্লবের কাজ। কমিউনিস্ট পার্টির (বলশেভিক পার্টির) অবিভক্ত নেতৃত্বে সাধিত হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি মজুর শ্রেণির বিপ্লবী পার্টি। এই বিপ্লবের সময় পার্টি সমগ্র শোষিত ও শ্রমজীবী জনগণকে মজুর শ্রেণির পেছনে জড়ো করতে সমর্থ হয়েছিল। এইভাবেই স্থাপিত হয়েছিল ভূতপূর্ব জারের বিশাল সাম্রাজ্যে দুনিয়ায় সর্বহারা শ্রেণির প্রথম একনায়কত্ব।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা শোষিত ও শাসিত আমাদের ভারতবর্ষ হিন্দুকুশ, হিমালয় ও সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত হলেও, রুশ বিপ্লবের সঠিক খবর যেন ভারতে না পৌঁছয় তার জন্যে ভারতের ব্রিটিশ শাসনকর্তারা নানাভাবে আটঘাট বেঁধে দিলেও, খবর যে এ দেশে পৌঁছায়নি এমন কথা বলা যায় না। ১৯১৮ সালে প্রথম মহাযুদ্ধের বিরতি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দেশের নানাস্থানে মজুরদের ধর্মঘট শুরু হয়ে গিয়েছিল। আরও পরে কৃষকদের সংগ্রাম ও আরম্ভ হয়েছিল, এখনকার উত্তর প্রদেশেই বেশি।
সুদূর অতীতে হিন্দুকুশের গিরিসংকট পার হয়ে কত কত জাতি ভারতে এসেছেন। রুশ বিপ্লবের প্রকৃত খবর যে সেভাবে আসতে পারত না, কিংবা আসেনি এমন কথা বলা যায় না। কিন্তু যুগের পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। রুশ বিপ্লবের পরের সময়ে মানুষ আর বার্তা বহন করে আনতেন না, তখন বার্তা নিয়ে আসছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বৈদ্যুতিক শক্তি। এর সমস্ত কলকবজা ছিল শোষক ও ধনিক শ্রেণির হাতে। কাজেই রুশ বিপ্লবের খবরগুলি ও তার পরবর্তী ঘটনাসমূহের বিবরণ সঠিক হতো না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা তাদের প্রয়োজন সাধনের উদ্দেশ্যে বিবরণগুলিকে মিথ্যার পোশাক পরিয়ে দিনের পর দিন নানা দেশে পাঠাতো।
তখনকার দিনে দেবনাগরী হরফের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তাই হিন্দি কাগজ আমি পড়তে পারতাম না। কেউ কেউ বলছেন অক্টোবর বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে হিন্দি কাগজে লেখা বার হতো। এই সম্বন্ধে “হ্যাঁ” কিংবা “না” কিছুই আমি বলতে পারবো না। কিন্তু, আমাদের বাংলাদেশের কাগজগুলি শুরুর দিকে অক্টোবর বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছে, এমন ঘটনার কথা আমার মনে পড়ে না। বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের পুস্তিকা বিপ্লবের বিরুদ্ধে লিখিত হয়েছিল। রুশ বিপ্লবের বিরুদ্ধে। অপপ্রচার যে কত রকমের হতো তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। প্রচার হতো
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments