দুঃসাহসী অভিযানের সঙ্গী
ছোটবেলায় বহু রহস্যময় অভিযানের গল্প পড়ে আমাদের সবারই ইচ্ছা হয় সেসব অভিযানে অংশ নিতে। বিদেশে কিশোর-কিশোরীদের সে ধরনের অভিযানের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ। সামার ক্যাম্প থেকে শুরু করে পর্বতারোহণ, রোমাঞ্চকর আরও অনেক ধরনের অভিযানের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশে কিশোর-কিশোরীদের সে সুযোগ নেই। স্কুল থেকে বাসা, আর বাসা থেকে স্কুলের মাঝেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ। তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রম আছে। এ দেশের পর্বতারোহীরা তাদের সেই অভিযানের শখ পূরণ করছেন পর্বতারোহণের মতো এক রহসম্যয় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। তাদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য আমাদের দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানা এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী নারী নিশাত মজুমদারের সাথে আলাপ হচ্ছিল।
সাদিয়া সুলতানার কাছে তার প্রথম পর্বতারোহণ কীভাবে শুরু এবং যাত্রার সময়কার নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে চাই। ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব অভিযান-পাগল। অন্য দশজনের মতো তার জীবনও ছিল বাড়ি আর স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি সব সময়ই তার মা আর নানির কাছ থেকে গল্পের বই পড়ার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। অনেক দুঃসাহসী অভিযানের বই পড়তেন। যখন ক্লাস সিক্স-সেভেনে, সে সময়ই তার শখ হয় পর্বতারোহণের। সাংবাদিক ফজলুল ইসলামের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ইনাম আল হক ও অন্যান্য পর্বতারোহীর সাথে। ২০০৪ সালে তিনি পর্বতারোহণের ট্রেনিং নেন। তারপর শুরু হয় পর্বতারোহণের মতো কঠিন রহস্যময় অভিযানের জীবন। তিনি বলেন, পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে একা যাওয়া যায়, আবার দলবদ্ধভাবেও যাওয়া যায়। তিনি সব অভিযানই করেছেন বিভিন্ন দলের সাথে। বিভিন্ন অভিযানে সঙ্গী হয়েছেন বিভিন্ন পর্বতারোহীরা। ২০০৪ সালে 'এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকিং' ছিল তার প্রথম দলগত অভিযান। সে অভিযানে দলনেতা ছিলেন ইনাম আল হক। অন্য সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন এম এ মুহিত, কাজী শামসুজ্জামানসহ কয়েকজন।
সাদিয়া বলেন, পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সাফল্য নির্ভর করে দলনেতা ও সঙ্গীদের ওপর। অভিযানের ক্ষেত্রে দলনেতার ওপর তা অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ভালো সঙ্গী না হলে পর্বতারোহণ খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এটি অন্য সব অভিযান থেকে ব্যতিক্রম। এ অভিযানে জীবনের নিরাপত্তাও নির্ভর করে সঙ্গীর ওপরই। সঙ্গীর হাতেই থাকে সহযাত্রীর জীবন। ভালো সঙ্গীর সাথে একটি রহস্যময় অভিযানের স্মৃতি, আনন্দ সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকে। ২০০৬ সালে নারী দিবসে তিনি নিশাত মজুমদারসহ আটজন মিলে কেওক্রাডং অভিযানে অংশ নেন। তাদের গাইড ছিলেন একজন আদিবাসী মং মেয়ে। শুধু মেয়েরা মিলে এক পর্বতারোহণের অভিযান। এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, তাদের পর্বতারোহীদের মাঝে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা নেই। সে সময় তিনি, নিশাত মজুমদার ও দলের অন্য সবাই মিলে এক পরিবার বা বলতে গেলে তার চেয়েও আপন। এই পর্বতারোহী সঙ্গীরা এমন অনেক আচরণ, অনুভূতির কথা জানে এবং বোঝে, যা তার পরিবারও বোঝে না। অনেক উঁচুতে পর্বতে ভিন্ন পরিবেশ। এই ভিন্ন পরিবেশ অপরিচিত। তাদের মন-মানসিকতা মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়। তাই তারা এ সময় এমন অনেক আচরণ করে, যা পরিবার কখনো জানেও না, কিন্তু পর্বতারোহী সঙ্গীরা ঠিকই জানে। তারা কী পরিবেশে রেগে যায়, কখন খুশি হয়, সবই জানে। তাই এই পর্বতারোহী সঙ্গীদের সাথে এক আত্মার সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে। সকালের ব্যায়াম করা থেকে শুরু করে সব সময়ই একজন আরেকজনকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন।
সাদিয়া জানান, মাঝে কিছুদিন বাদ দেয়ার পর ২০১২ সালে আবার অভিযানে অংশ নেন। সে সময় হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ আইল্যান্ড পিক জয়ের উদ্দেশ্যে বের হন। সে যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন এম এ মুহিত, বিপ্লব, শেখর প্রমুখ। তিনি অভিযানে একটু পিছিয়ে পড়েছিলেন। শেষ দিনে শেষ রাত থেকে যাত্রা শুরু করে দুপুর পার হয়ে গেলে চূড়ার কাছাকাছি এসে পৌঁছান। ততক্ষণে অন্যরা পৌঁছে গেছে, আর তাকে অনুপ্রেরণা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments