-
এই বইখানির নাম যদি দেওয়া হত 'রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তা', তা হলেও অসংগত হত না। কারণ এই গ্রন্থে যে প্রবন্ধগুলি সংকলিত হল তার প্রায় সবগুলিই রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তা-বিষয়ক। কিন্তু তাঁর ভারতচিন্তা চিন্তামাত্রই নয়। তাতে প্রেরণা আছে, পথের নির্দেশও আছে। যে পথের নির্দেশ পাওয়া যায় তাঁর ভারতচিন্তায়, তাকে তিনি নিজেই বলেছেন 'ভারতপথ'। তিনি নিজেও ছিলেন সে পথের পথিক, আর তাঁর স্বজাতিকেও সে পথে প্রেরণা দেবার সাধনাই করে গিয়েছেন সারাজীবন। তাই বইটির নাম দেওয়া গেল 'ভারতপথিক রবীন্দ্রনাথ'। দৃশ্যতঃ প্রথম প্রবন্ধের নাম-অনুসারেই গ্রন্থের নামকরণ হয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, সর-প্রবন্ধেরই মূলে রয়েছে ওই একই কথা।
রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তার দুটি প্রধান দিক্। এক দিকে ভারতসত্তার মহাভাষ্য, অপর
-
লেখক: তাপসী বন্দ্যোপাধ্যায়
যাগটা উদারিকরণের। নিবাস এক অগাধ ভুবনগ্রামে। ভাবনার ডানা যত্রতত্র বিহারী। স্থানিক-দূরত্বকে বেঁধে ফেলি হাতের মুঠোয়, আবার সময় পলায়নপর সেই বন্ধনী খুলে। জীবনের এই আকাশপাতাল অমিল অথবা মিল্লিশ্ নিয়ত ধরা দিচ্ছে সৃষ্টির বিচিত্র পথে। আর সাহিত্যের ক্ষেত্রটি এপথে সর্বাধিক প্রশস্ত ও ফলস্ত। এই উত্তর-আধুনিক কালে সাহিত্যের মূল্যায়নে নানা 'বাঁধি বোল' আর 'বাঁধা ওজন'-এর বাড়-বাড়ন্ত। ঔপনিবেশিক্ষতার বাঁধনমুক্ত এইসব সাহিত্যের মূল্যায়নকর্তারা আসলে নানা তত্ত্বকথার আধারে প্রত্যাশা করেছেন অবাধ স্বাধীনতা। নির্মাণ থেকে বিনির্মাণ কিংবা পুনর্নির্মাণ এসবই এখন সাহিত্যের উপভোক্তার কুক্ষিগত। এমনকি সাহিত্যের আস্বাদনে স্রষ্টার ওপর নির্ভরতারও দায়মুক্ত আজ পাঠক। একালের পাঠক প্রবল দাপটে সৃষ্টিকর্তার অধিকারকে অস্বীকার করে পুনঃপাঠ প্রক্রিয়ায় নিমগ্ন হয়।
-
মিখাইল খাইল বাখতিন (১৮৯৫-১৯৭৫)-এর নাম বাঙালি পাঠক-পাঠিকার অচেনা নয়। তাঁর বেশ কিছু বই ও লম্বা প্রবন্ধ রুশ থেকে ইংরিজিতে অনুবাদ হয়েছে (এখনও অবধি বাঙালির কাছে ইংরিজিই জগতের জানালা)। গত কয়েক বছরে তাঁকে নিয়ে বাঙলাতেও ছোটো-বড়ো বই, পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা ইত্যাদি বেরিয়েছে।
যাঁদের নিয়ে বাখতিন লিখেছিলেন—ফিওদর দস্তয়েভস্কি ও অন্যান্য ইওরোপীয় লেখক—তাঁদের কেউ কেউ আমাদের চেনা, কিন্তু ভালোমতো জানা নন। এমনকি ফরাসি বা রুশ সাহিত্য নিয়ে যাঁরা নিয়মিত চর্চা করেন, মূলেই পড়ে থাকেন, তাঁদের সকলেই যে ঐসব লেখকের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ—এমনও বলা যায় না। এছাড়া ধ্রুপদী ও মধ্যযুগীয় লাতিন কাব্যও বাখতিন-এর আলোচনায় আসে। সে তো আরও অকূল পাথার। ইংরিজি তর্জমায় একবার বা দুবার
-
মানুষের আচরণে অসংগতি-অশোভনতার অন্ত নেই, এই বিচিত্র অসংগতির প্রতিক্রিয়ায় আমাদের মনে যে বিরক্তি ক্রোধ প্রভৃতি আবেগের উদয় হয় তারও অন্ত নেই। এই আবেগগুলি নির্ভর করে দ্রষ্টার মানসিক অবস্থা কিংবা মননভঙ্গির উপরে। এসব আবেগের মধ্যে একমাত্র কৌতুকানুভূতিই আমাদের পক্ষে বিশেষভাবে প্রীতিকর। তাই স্বভাবতই এই কৌতুকবোধকে সাহিত্যের উপজীব্য বলে স্বীকার করা হয়েছে। এই কৌতুককে আশ্রয় করে যে সাহিত্যরসের উদ্ভব হয় তারই নাম হাস্যরস। ভারতীয় আলংকারিকদের মতে হাস্যরসসৃষ্টি সাহিত্যরচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের আদিপর্ব থেকেই হাস্যরস সৃষ্টির প্রয়াস দেখা যায়। সংস্কৃত সাহিত্যে যে হাস্যরসের সাক্ষাৎ পাই এবং অলংকারশাস্ত্রে যার বর্ণনা দেখা যায়, মধ্যযুগের বাংলাসাহিত্যে তারই অনুবর্তন চলে। উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.