-
দাঁড়াও, পথিকবর।
এই দেশে ত তোমার জন্ম। একবার দাঁড়াও। একটু দাঁড়াও। তুমি ত সীমার নও। কারবালার যুদ্ধের পর ইমাম হোসেনের কাটা শির নিয়ে দামেস্ক নগরীর দিকে ধাইছ। হঠাৎ এসে পড়েছো। কেউ ত এদিকে আসে না। যখন এসে পড়েছ, একটু দাঁড়াও।
আমি জানি, কেন এমন বে-পথে তুমি এসেছ। বন-জঙ্গলের পথে কেউ হাঁটে না। কিন্তু বাঙলাদেশের মোহিনী মায়া সকলকে টেনে নিয়ে যায়। আর তোমার জন্ম ত এই বঙ্গে। তুমি বে-পথু হবে, তা আর আশ্চর্য কী?
কতো দরিদ্র আমাদের গ্রাম। কী আছে মানুষের সম্পদ? একটা খড়ো ঘর বা কুটির। এক চিলতে উঠান। হয়ত কয়েকটা কলাগাছ বা বাঁশগাছ বাস্তুর ধারে। দুনিয়ার দৌলত নেই। সেই
-
সে ভেসে চলেছিল।
পঞ্চভূত এখনও তার সহায় হয়নি। শুধু বাতাস আর জলের সাথে সে এগিয়ে চলেছে। স্রোতের টান মৃদু। বাতাসের আমেজ ঝিরিঝিরি ৷ বাইরের জগতে কোন তাড়াহুড়৷ নেই। আর যে ভাসছে, তার কাছে গতি এখন অর্থহীন। শ্লথ বা দ্রুত—কী আসে যায়। মহাকাল সামনে পড়ে আছে। বেসবুর হওয়ার প্রয়োজন অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। বুকে যখন বাতাস থাকে, তখন বাইরের বাতাসকে জমা খরচের হিসেবে আনা যায় ৷ আজ সব হিসেব-নিকেশ আগামী ইতিহাসের কাছে তুলে দিয়ে সে পরম নিশ্চিন্ত।
সে ভেসে চলেছে।
সটান চিৎশায়িত। মুখ আকাশের দিকে। চোখ নেই। দাঁড় কাক দু'তিন দিন ধরে তা খুবলে খুবলে খেয়ে শেষ করেছে। কারণ, চোখের মালিকের
-
পাটের গুদামে আগুন লেগেছিল। বিরাট টিনের শেডের নীচে হাজার হাজার গাঁট স্তূপ। কিভাবে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়, তা কেউ বলতে পারবে না। চারিদিকে আগুনের লকলকে জিভ যখন সব চেটেপুটে ছাই করে দিতে বেরিয়ে আসছিল, তখনই খবর পাওয়া যায়। ফায়ার ব্রিগেডে খবর পৌঁছতে বেশী দেরী হয়নি।
দমকল বাহিনী লড়ায়ে নেমে পড়েছিল যেন শত্রু পক্ষ আর এগুতে না পারে। কাছেই নদী। সুতরাং গোলাবারুদের অভাব হয়নি। হোস পাইপের ভেতর দিয়ে পানির ফোয়ারা কামানের গোলার মত ছিটিয়ে পড়ছিল।
কিন্তু এই শত্ৰু তো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। তাই ফায়ার ব্রিগেডের সৈন্যসামন্তরা স্থির করেছিল গুদামের চালের একদিক খুলে উপর থেকে পানি মারার বন্দোবস্তই যুক্তিযুক্ত।
কয়েকজন ফায়ারম্যান সিঁড়িযোগে চালে
-
স্বাধীনতার দামামার শব্দে উত্তরঙ্গ গোটা বাংলাদেশ।
বাড়ীর উঠানে ঢুকতেই মা হঠাৎ ঘোমটা টেনে বসল। ঝোপ দাড়ীওয়ালা কোন বেগানা মরদ অন্দরে ঢুকে পড়েছে। তৌবা !
লাতু তখনই হো হো শব্দে হেসে উঠল এবং দৌড়ে গিয়ে মাকে বুকে জড়িয়ে ধরল, সাথে সাথে উচ্চারণ “মা আমারে চিনত৷ পারলে না? আমি লাতু—।”
হাউমাউ কান্নাসহ সন্তানকে বুকে চেপে জননী কী যে বলতে লাগল বুঝা গেল না। এই নাটকীয় মঞ্চে তখন আরো দর্শক জুটে গেছে। লাতুর ছোট ছোট দুই বোন, বারো বছরের এক ভাই। তারা হকচকিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ মার কান্না, এক অপরিচিত মিলিটারী যদিও মুক্তিযোদ্ধা, অমন কোলাকুলি। সবই অভাবনীয়। তখনই বাপ জবেদ মিয়া কোথা থেকে যে
-
আর থোড়া অক্ত।
আর কিছু সময়।
অনন্তের সুড়ঙ্গে এই হামাগুড়ি আর কতক্ষণ দেওয়া যায়?
সোলেমান সারেঙের কাছে তখন কি প্রশ্ন বার বার ঘাই মেরেছিল, তা আজ জানার কথা নয়।
কারণ, মুহূর্ত নির্যাস হয়ে এলে অনেক ছবি, অনেক কথা, ঘটনা একাকার যে রূপপরিগ্রহ করে তা নিতান্ত অনুভবের ব্যাপার। ক্যামেরার লেস অতি দ্রুত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একই ফিল্মের সমতলে নানা ছাপ সংগ্রহ সহজ। তার পাঠ উদ্ধারও সম্ভব। সেখানে একক ছবি ছাড়া আর কিছু নেই।
কিন্তু ঘটনা আবেগ-প্রবাহ যখন তেমন কায়দায় গতির চোটে একটার পর একটা—একটার ভিতর একটা সেঁধিয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে স্বতন্ত্র জানান দেওয়ার দাবি হাঁক-ফুকর ছড়াতে থাকে, তখন অর্থহীনতার কাছে সব
-
বারুদের গন্ধ আর ভাল লাগে না।
ক্যাপ্টেন বশীর নিজের মনে বিড়বিড় করলে। মহকুমা কাচারির পাশেই এই বিল্ডিং সে অফিস বানিয়ে নিয়েছিল গত চার মাস। এলাকার লোক শান্তিপ্রিয়। তেমন কোন গোলমাল করেনি কেউ। ‘সব সাচ্চা মুসলমান। সবাই পাকিস্তান চায়। এই দিক থেকে ক্যাপ্টেন বশীর নিশ্চিন্ত ছিল। মাঝে মাঝে গোয়েন্দারা দু’চারটে কালো ভেড়ার খবর আনত, তাদের রাস্তার কাঁটার মত সরিয়ে ফেলতে বেশী দেরী হোত না। গেরেপ্তার করে নিয়ে আসা এবং দিন শেষ হওয়ার যা অপেক্ষা। অন্ধকারে তারপর পাকিস্তান-বিরোধী নিমকহারামদের আর কোন নাম-নিশানা থাকত না দুনিয়ায়। বিলম্ব অথবা প্রকাশ্যে শাস্তি দিলে ফল খারাপ হয়, তা ক্যাপ্টেন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছিল এই এলাকায় নয়,
-
মেয়েটা আর হাঁটতে পারছিল না।
অনেক আগেই বাপ তার ক্লান্তি লক্ষ্য করেছে। আগে তবু সে পায়ে পায়ে চলার তাল ঠিক রাখছিল। নিজে যেমন জোর দেয়, কন্যাও তেমন গতি দ্রুত করে। কিন্তু তার পক্ষেও সামাল দেওয়া অত সহজ নয়। পয়ষট্টি বছর বয়সে গায়ে আর কতো তাগত থাকে? যা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। তবু যে সে মাটির উপর পা ফেলে ফেলে এগোতে পারছিল, তা কম আশ্চর্যের ব্যাপার নয়।
চিন্তার সময় আর কোন এক সময়ে পাওয়া যাবে। এখন শুধু পথের দূরত্ব শেষ করে আনাই একমাত্র উদ্দেশ্য। কারণ, আবার কখন শত্রু ধাওয়া করবে, কে জানে? এই শত্রু আশপাশের কোন ডাকাত নয়। ডাকাতেরও ভয়
-
ভূমিকা
ঘটনাটা ঘটেছিল খ্ৰীষ্ট্রীয় ১৯৬৫ সনে হিন্দুস্থান—পাকিস্তান যুদ্ধের সময়।
ঠিক আট বছর পূর্বে।
ধাতুদৌর্বল্য রোগের মত বাঙালীদের মধ্যে স্মৃতিদৌর্বল্যের প্রাদুর্ভাব। তাই আমার কাহিনীর পুনরাবতারণা। নচেৎ নতুন করে কিছুই বলার প্রয়োজন ছিল না।
প্রথমে যে থলির মুখ খুলে দিয়েছিল এবং যার ফলে বাতাস তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে বাঙ্গালীর কানে সেঁধোয় তার নাম সৈয়দ আলী মজুমদার, সামরিক পেশায় ক্যাপ্টেন এবং অবসরকালে আমার বন্ধু।
মজুমদারকে নতুন করে স্মরণ করতে হয়। কারণ সে না বললে আমি আর কোথা থেকে জানতাম? আমি শোনার পরে আরো বন্ধুদের না বলে চুপ থাকতে পারিনি। তাদের মুখে মুখে গোটা বাংলাদেশ ঘোরা হয়ে যায়। এক কান থেকে দু’কান ৷
-
আমাদের দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় মার্কসবাদ সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখবার কোনো দরকার আছে বলে মনে করেন না। বুদ্ধিজীবীসুলভ কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে অনেকে হয়তো হিটলার মুসোলিনি প্রমুখ সংস্কৃতিবিধ্বংসী মহাপুরুষদের জীবনী ও বর্তমান ইতালি ও জার্মানির রাষ্ট্রিক ও আর্থিক পরিকল্পনার প্রতি উৎসাহ-প্রদর্শন করেন; কিন্তু যে মার্কসীয় চিন্তাধারা ও কর্মপদ্ধতির সাহায্যে লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার মতো পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব ব্যাপার-ঘটল, তার প্রতি অতি-বুদ্ধি-প্রসূত একটা ঔদাসীন্যের ভাব আমাদের দেশের উচ্চ-শিক্ষিত মহলে বেশ মজ্জাগত। এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম যে একেবারেই নাই তা অবশ্য নয়; কিন্তু মার্কসবাদ নিয়ে চিন্তা বা আলোচনা করেন, এমন লোকের সংখ্যা অন্যান্য সভ্য দেশের তুলনায় এ দেশে অতি নগণ্য বললেও অত্যুক্তি হয় না।
-
[১৯৩৫ সালে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেসে কমরেড জর্জি ডিমিট্রভের যুক্তফ্রন্ট তত্ত্ব গৃহীত হওয়ার পূর্বই ১৯৩৪ সালে গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিশ্ব-কমিউনিস্ট আন্দোলনের সুপরিচিত নেতা ও তাত্ত্বিক কমরেড রজনী পাম দত্ত ‘ফ্যাসিজম অ্যান্ড সোশাল রেভলিউশন’ গ্রন্থ মারফত শ্রমিকশ্রেণীর হাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের একটি তীক্ষ্ণ তত্ত্বগত হাতিয়ার তুলে দেন।
আর্থনীতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি দেখান ফ্যাসিবাদ হচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদের মরিয়ার মতো টিকে থাকার চেষ্টা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম তাই শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক কর্তব্য।বইটির দ্বাদশ অধ্যায়ে তিনি পুঁজিবাদের প্রথম মহাযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বজোড়া সংকট, ‘পুজিবাদের স্থিতিশীলতা’ তত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতা এবং ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদের গর্ভ থেকে কিভাবে ফাইনান্স ক্যাপিটালের মালিকদের সাহায্যপুষ্ট চরম সন্ত্রাসবাদী ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রযন্ত্র
-
একটিবার দৌড় দিতে পারতাম।
এই আফশোসটুকু বারবার নাজেমের মনে আঘাত করতে লাগল।
কিন্তু তা আর এ জন্মে সম্ভব নয়। ডান হাত এবং বাম উরুর দিকে তাকিয়ে নাজেম সিদ্ধান্ত আর একবার মৌরসী করে নিলে। নিজে ঘাড় দুলিয়ে সমর্থন জানাতে অস্ফুট উচচারণের দিকে তাকিয়ে রইল।
অন্ধকারে গুলি কী ভাবে তার উরুর উপর লাগল সে বুঝতে পারেনি। তবে কি সাবেক অভ্যেস অনুযায়ী সে দাঁড়িয়ে পড়েছিল গুলি চালানোর সময়? “রাইফেল নিয়ে বুকে হামাগুড়ি সহযোগে সব সময় এগোনো বা পেছানো উচিত, যদি শত্রুর এলাকায় এসে পড়ো বা অপারেশান শুরু হয়ে যায়, কখনও দাঁড়াবে না বা হঠাৎ উঠে দৌড়ানোর চেষ্টা করবে না।” ক্যাপ্টেনের কথাগুলো সাঁইসাই নাজেমের
-
[১৯৫৪ সালে প্রকাশিত ‘নানা লেখা’ সংকলন থেকে গোর্কির দুটি রচনা পুনর্মুদ্রিত করা হল। লেখাদুটিতে সংক্ষেপিত ছাপার ভুলগুলি শুদ্ধ করে নেওয়া হয়েছে, বানান ও যতিচিহ্নের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। ‘ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে’ এই শিরোনাম আমাদেরই দেওয়া।—সম্পাদক,পরিচয়]
সংস্কৃতিফ্যাসিবাদের ধ্বংসাত্মক আক্রমণ হইতে সংস্কৃতিকে রক্ষা করাই প্যারিসের লেখক-মহাসম্মেলনের মূল লক্ষ্য বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে। ধরিয়া লওয়া হইয়াছে, আধুনিক বুর্জোয়া সংস্কৃতির সত্যকার অন্তর্নিহিত বস্তুটি কি, তাহা সমস্ত প্রতিনিধিই একইভাবে বুঝিবেন এবং ইহা লইয়া কোনো মতভেদ হইবে না। কিন্তু সত্যই কি তাই?
বুর্জোয়া সংস্কৃতির অবস্থা আজ ক্ষয় ও ভাঙনের অবস্থা। ফ্যাসিবাদ এই বুর্জোয়া সংস্কৃতিরই সৃষ্টি, বুর্জোয়া সংস্কৃতির ওপর সে এক ক্যানসারের স্ফীতি। ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিকেরা ও
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
লেখক
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১)
- আলেকজান্ডার ওয়ার্থ (১)
- ইলিয়া এরেনবুর্গ (১)
- কামরুদ্দীন আহমদ (১)
- কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত (১)
- গ্যাব্রিয়েল পেরি (১)
- চার্লি চ্যাপলিন (১)
- জর্জি ডিমিট্রভ (১)
- জুলিয়াস ফুচিক (১)
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নলিনী দাস (১)
- নৃপেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৩)
- বুদ্ধদেব বসু (১)
- মোহিত সেন (১)
- ম্যাক্সিম গোর্কি (১)
- রজনীপাম দত্ত (১)
- লিও ট্রটস্কি (১)
- লীলা মজুমদার (১)
- শওকত ওসমান (১০)
- সরোজ আচার্য (১)
- সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী (১)
- হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দেরসেন (২)
- হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.