-
৭ ডিসেম্বর
জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। সারা দেশে ২৯০টি আসনের জন্যে ১,৫৪৭জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশের বাত্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতীয় পরিষদের ৯টি ও প্রাদেশিক পরিষদের ২১টি আসনের নির্বাচন স্থগিত।
৮ ডিসেম্বর
প্রাথমিক ফলাফলে সারা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সর্বাধিক সংখ্যক আসন লাভ। বাংলাদেশে ২টি আসন ছাড়া বাকী সব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়।
৯ ডিসেম্বর
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিপ্রধান মওলানা ভাসানী-কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট গ্রহণের জন্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে আহ্বান।
১১ ডিসেম্বর
নির্বাচনে দলগত সাফল্যের জন্যে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিপ্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার অভিনন্দন বাণী প্রেরণ।
১২ ডিসেম্বর
-
সংবাদপত্রের পূর্ণস্বাধীনতা পাকিস্তানে কোনো কালে ছিলো না। গত তেরো বছরের সামরিক শাসনের পূর্বে তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনের কালেও না। কেননা, পাকিস্তান নির্মাতাগণ দেশে ঐক্য আনতে চেয়েছিলেন সত্যকে চাপা রেখে, তবু বাংলা দেশের সংস্কৃতি ও রাজনীতিক্ষেত্রে স্বল্পকালের মধ্যে যে বিপুল পরিবর্তন সূচিত হয়েছে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই পত্রপত্রিকা তাতে একটা সুবৃহৎ ভূমিকা নিয়েছে। বস্তুতপক্ষে, গণমাধ্যম হিশেবে পত্রপত্রিকা সকল দেশেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে, পূর্ব বাংলাতেও করেছে। বরং বলা যেতে পারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই করেছে। কেননা অধুনালুপ্ত পাকিস্তানের অন্য দুটি গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশন ছিল পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত, লালিত অথবা উৎসাহিত করেনি, সারাক্ষণ সরকারি প্রচারেই আত্মনিয়োগ করেছে। কিন্তু মানুষ
-
পূর্ব বাংলার তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে, প্রসন্ন মনে না হলেও, পাকিস্তান সরকার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিশেবে বাংলার দাবিকে মেনে নিতে বাধ্য হন। ১৯৫৬ সালে গৃহীত পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি স্বীকৃত হয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন একনায়ক আইয়ুব খাঁর নির্দেশে তথাকথিত জাতীয় পরিষদের কর্তাভজা সদস্যবৃন্দ যে শাসনতন্ত্র রচনা করেন, তাতেও বাংলার দাবি গৃহীত হয়। এই শাসনতন্ত্রে বলা হয়, বাংলা ও উর্দু সকল শিক্ষা ও সরকারি কাজের বাহন হিশেবে ব্যবহৃত হবে। তবে তার পূর্বে এ ভাষাদ্বয়কে ব্যবহারোপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিতে হবে। ১৯৭২ সালে জাতীয় পরিষদ বিবেচনা করেন ইংরেজির পরিবর্তে আলোচ্য ভাষাদ্বয়কে সকল কাজে ব্যবহার করা যায় কি না। ভাষাকে গড়ে
-
দুর্বল ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান সুউচ্চ মিনারের পতন শুধু সময়সাপেক্ষ। চারিদিক থেকে টানা দিয়ে তার অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী করার প্রচেষ্টা করতে পারেন গম্বুজনির্মাতা; কিন্তু পরিণতি তাতে অপরিবর্তিত থাকে। একথা পুনর্বার প্রমাণিত হয়েছে পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে। জাতীয়তার একটি মিথ্যা সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে একদা পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো। মুহম্মদ আলী জিন্নাহ অথবা লিয়াকত আলী খান, মুখে যাই বলুন, ভালো করে জানতেন ধর্ম জাতীয়তার একমাত্র শর্ত নয়, সর্বপ্রধান শর্ততো নয়ই: অথচ পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাস্তবিক ঐক্যসূত্রতো ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু নয়! এই মিথ্যা মিলনকে অমর করার জন্যে দূরদর্শী নেতারা স্বধর্মপ্রীতি, আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় স্বধর্মান্ধতা ও পরধর্মের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণাবোধ জাগিয়ে
-
পঁচিশে জুলাই মহাবোধি সোসাইটি হলে একটি সেমিনার আয়োজিত হয়েছিলো। বেরিয়ে আসছিলুম। দরজায় এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভারি সুন্দর চেহেরা, বয়স বাইশ-তেইশ। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বেশ তো বক্তৃতা করলেন: কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে যত হিন্দু এসেছেন পূর্ব বাংলা ছেড়ে তাঁদের ঠেকালেন না কেন আপনাদের বঙ্গবন্ধু?’ আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলুম, ‘কখনকার কথা বলছেন?’ ভদ্রলোক বললেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে!’
জানি, এ প্রশ্ন-বিচ্ছিন্নভাবে শুধু এ ভদ্রলোকের নয়: বাংলা দেশ প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়। কেউ মুখ ফুটে বলেন, কেউ বলেন না। এ প্রশ্ন মনে জাগাও অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমরা যেহেতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলুম, তাই প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি কী করে পূর্ব পাকিস্তান পূর্ব
-
১৯৪০ সালে লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিলো। প্রস্তাবে বলা হয়েছিলো, কয়েকটি স্বশাসিত প্রদেশ নিয়ে একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা হবে যে রাষ্ট্রে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হবে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এ প্রস্তাবে পাঁচটি শর্ত আছে। ক. ইসলামি সংস্কৃতি-চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, খ. হিন্দুদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে মুসলমানদের জন্যে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রগঠন: গ. এই নতুন রাষ্ট্রের জনগণের জন্যে অর্থনৈতিক সুবিচার সুনিশ্চিতকরণ: ঘ. জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দান; ও ঙ. সম্পূর্ণ স্বশাসিত প্রদেশ গঠন।
কিন্তু এই শর্তগুলির প্রথম দুটি স্বীকৃত হলেও, অল্পকালের মধ্যে অন্য তিনটি শর্তকে অস্বীকার করার জন্যে একটি সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র হয়েছে।
এ কথা
-
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পশ্চাতে সাংস্কৃতিক অনেক কারণ ছিলো, সন্দেহ নেই। বাঙালি সংস্কৃতিকে স্বাধীনতার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন পশ্চিমে পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদীরা। কেননা পূর্ব ও পশ্চিমের অতি দুর্বল সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকে তাঁরা মজবুত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণের কারণস্বরূপ অন্য একটি কথাও বিশেষভাবে মনে রাখা আবশ্যক যে পশ্চিম পাকিস্তানি শোষণকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের পথে পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে সহনীয় করে তুলতে চেয়েছিলেন শাসক সম্প্রদায়। সম্মানজনক শর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতির সঙ্গেও বোধহয় সহাবস্থান সম্ভব, এবং তেমন অবস্থায়, একাত্মতা বোধ না করলেও, পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তান একটি ঢিলে কনফেডারেশনের অধীনে হয়তো বাস করতে পারতো। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর
-
বহু শতাব্দী থেকে এ দেশের পল্লীতে হিন্দু ও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে তো বটেই, এমন কি, ধর্মীয় চেতনায়ও তারা সমন্বয় সাধন করেছেন। বৈষ্ণব দর্শনের পশ্চাতে সূফী প্রভাব ঠিক কতখানি আজো তা গবেষণার বিষয়। কিন্তু পণ্ডিতগণ অনুমান করেন, সে প্রভাব যথেষ্ট গভীর। তা ছাড়া বৈষ্ণবদের সাম্যবাদী আদর্শও ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও মৈত্রীর দ্বারা প্রভাবিত। সহজিয়াদের সাধনার অথবা কবীরের ধর্মেও ইসলামের মানবিক আদর্শ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কবীরের সদগুরু ও সত্যপীর এক কিনা অথবা সত্যপীরের কল্পনায় কবীরের সমন্বয়ধর্মী মনোভাব কাজ করেছে কিনা জানিনে; কিন্তু সত্যপীর হিন্দু-মুসলমানের যুগল আদর্শের সংশ্লেষিতরূপ। হিন্দু ও মুসলমানের এই ভাবের সমন্বয় অত্যুজ্জ্বলভাবে বিধৃত আছে এ দেশের সাহিত্য, সঙ্গীত,
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- অনুবাদ
- ছোটগল্প
- লোককাহিনী
- মুক্তিযুদ্ধ
- স্মৃতিকথা
- গণহত্যা
- চিঠি
- পাকিস্তান
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- জীবনী
- লেখক
- গদ্য
- বাংলা
- রবীন্দ্রনাথ
- সমালোচনা
- পশ্চিমবঙ্গ
- কবিতা
- আলোচনা
- বই
- চলচ্চিত্র
- উপন্যাসিকা
- চট্টগ্রাম
- খুলনা
- শিল্পকলা
- বিজ্ঞানী
- যুদ্ধ
- ভূমিকা
- সম্পাদকীয়
- ইংরেজি
- ঢাকা
- সংবাদ
- আন্দোলন
- সঙ্গীত
- গদ্যকাব্য
- ভারত
- ছাত্র আন্দোলন
- ভাষা
- বঙ্গবন্ধু
- গণযোগাযোগ
- সাংবাদিকতা
- ইসলাম
- হিন্দু
উৎস
লেখক
- অনু ইসলাম (১)
- অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (৪)
- আনিসুজ্জামান (১)
- আবদুল গাফফার চৌধুরী (১)
- আবদুল হাফিজ (১)
- আশুতোষ ভট্টাচার্য (১)
- আসাদ চৌধুরী (১)
- ঋত্বিক ঘটক (৩)
- কাইফি আজমি (১)
- কৃষণ চন্দর (৫)
- গোপাল হালদার (১)
- গৌরী আইয়ুব দত্ত (১)
- জহির রায়হান (২)
- জাফর আলম (১)
- তাজউদ্দীন আহমদ (১)
- দীননাথ সেন (১)
- নির্মলেন্দু গুণ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (১৯)
- প্রযোজ্য নয় (১)
- ফেরদৌসী মজুমদার (১)
- বিপ্রদাশ বড়ুয়া (১)
- মেহেরুন নেসা (১)
- শওকত ওসমান (১)
- সত্যেন সেন (২২)
- সাদত হাসান মান্টো (৩)
- সুব্রত বড়ুয়া (২)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- হাসান মুরশিদ (১৩)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.