-
খুলনা জেলার মঙ্গলা পোর্ট। চালনার মতই এই বন্দরেও দেশ-বিদেশের জাহাজ যাতায়াত করে। রফতানির মাল জাহাজে ওঠে, আর আমদানির মাল জাহাজ থেকে নামে। কিন্তু অন্যান্য বন্দরের মতো এখানে জাহাজ ভিড়াবার জন্য ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থা নেই। জাহাজগুলিকে মুড়িংবয়ার সঙ্গে বেঁধে দিয়ে মালপত্রের ওঠানামা চলে।
মঙ্গলা পোর্ট খুলনা শহর থেকে বহু দূরে। জলপথ ছাড়া সেখানকার সঙ্গে যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে মঙ্গলা পোর্ট যেন সব কিছু থেকে এক প্রান্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। সারা প্রদেশ জুড়ে স্বাধীন বাংলার আন্দোলন চলছে। কিন্তু এখানে তেমন কোনো আন্দোলন নেই। তাহলেও এই বাংলাদেশের যেখানেই যত দূরেই থাকুক না কেনো এই আন্দোলন প্রতিটি বাঙালির মনে সাড়া জাগিয়ে তুলেছে। মঙ্গলার
-
আমি আর আমার তিনজন সাথী। আমরা গত ক’দিন ধরে ইয়াহিয়ার শিকারী কুকুরগুলির সন্ধানী দৃষ্টি এড়িয়ে পূর্ববঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে যাবার জন্য এগিয়ে চলেছি। এসব পথ দিয়ে জীবনে কোনোদিন চলি নি। এসব গ্রামের নামও শুনি নি কোনোদিন। কুমিল্লা জেলার গ্রামাঞ্চল। কুমিল্লা জেলার সীমানা ছাড়িয়ে বর্ডারের ওপারে আগরতলায় যাব। আপাতত এইটুকুই জানি, তারপর কোথায় যাব, কি করব, সে সম্পর্কে কোনোই ধারণা নেই। চলার পথের এপাশে ওপাশে, সামনে পেছনে বন্ধুভাবাপন্ন দরদী মানুষ যথেষ্ট আছে, কিন্তু শত্রুও আছে। শত্রুমিত্র বিচার করতে ভুল হলে মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
আজ সারাটা দিন একটানা হেঁটেছি। খাওয়া জোটে নি পথে, ক্ষিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। বিকেল বেলা
-
রাত বারোটা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু কুষ্টিয়া শহরের লোকের চোখে ঘুম নেই। সারা শহর জুড়ে চাঞ্চল্য আর উত্তেজনার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে ঢাকার সঙ্গে টেলিফোনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একটা ফোনও কাজ করছে না। আজকের দিনে এটা একটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। এর অর্থ কি হতে পারে, তাই নিয়ে তাদের পরস্পরের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।
শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, শহরবাসী সবাই সচকিত।
এ ক’দিন ধরে নানাদিক থেকে নানারকম জনরব ভেসে আসছিল। সবকিছুর মধ্য দিয়ে এই কথাটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে-এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আসন্ন। সারা বাংলাদেশ জুড়ে যে মুক্তি-আন্দোলন শুরু হয়েছে,
-
লেখক: গৌরী আইয়ুব দত্ত
বাংলা দেশ নিয়ে এই যাতামাতি, মুজিবর রহমানকে নিয়ে এই উচ্ছ্বাস পশ্চিম বাংলার অনেক মুসলমান পছন্দ করছেন না। এই নিয়ে বহু প্রশ্ন, কিছু বিদ্রুপ কিছু বা হতাশা মিশ্রিত মন্তব্য শুনতে পাই। কিন্তু হিন্দু সমাজের পক্ষে এটা বোঝা কি খুব কঠিন যে পাকিস্তান ধসে পড়ার অর্থ ভারতীয় হিন্দু-মুসলমান উভয়ের কাছে এক হতে পারে না? এই উপমহাদেশে রাজাগোপালাচারী কিংবা জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো গুটি দুই চার মানুষ ছাড়া আর প্রায় কোনো হিন্দুই পাকিস্তানকে মনে মনে মেনে নেননি। ফলে আজ যথন পাকিস্তানের বুনিয়াদ উলে উঠেছে তখন মুখ্যত সেই কারণেই হিন্দুরা খুশি এ কথা গোপন করে লাভ নেই। তবু বাঙলা দেশের একটা
-
বাঙলা দেশ যুদ্ধে লিপ্ত। পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশবাদী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জন ছাড়া তার সামনে আর কোন বিকল্প নেই।
পাকিস্তান গভর্ণমেন্ট বাঙলা দেশে তাদের গণহত্যার যুদ্ধকে ধামাচাপা দেবার উদ্দেশ্যে মরীয়া হয়ে ঘটনাকে বিকৃত করে দেখাবার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় বিশ্ববাসীর কাছে খুলে বলা দরকার কোন অবস্থা দ্বারা তাড়িত হয়ে বাঙলা দেশের শান্তিকামী জনসাধারণ তাঁদের ন্যায়সংগত আশা-আকাঙ্ক্ষা রূপায়ণের জন্যে সংসদীয় রাজনীতি ছেড়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরতে বাধ্য হয়েছে।
ছয়-দফা কর্মসূচী
পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার শেষতম প্রয়াসে আওয়ামি লিগ পাকিস্তানের মধ্যে বাঙলা দেশের স্বায়ত্তশাসনের ছয়-দফা কর্মসূচীর উপস্থিত করেছিল আন্তরিকতার সঙ্গেই। ঐ ছয়-দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে লড়ে আওয়ামি লিগ
-
‘...পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ হলেন গণহত্যার নীরব দর্শক...।’
—প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদে, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
কোনো পাকিস্তানী কোনো বাঙালির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে না, কিংবা কোনো বিদেশি তা' করতে গেলে তাকে অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন এরূপ উক্তি করেছিলেন। কেউ কী এই অপরিহার্য প্রশ্ন উত্থাপন করেছে অথবা আপনারা জানেন কী, এসব কী ঘটেছে? ১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগে ঐ ধরনের অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছে। শুধু আমারই বলি কেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা পশ্চিম পাকিস্তানী আরো ক'জনেরও হয়েছে। এঁদের মধ্যে বেশ ক'জন উঁচুদরের রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যাঁরা ২৫ মার্চের রাতে পূর্ব বাংলায় সামরিক বর্বরতম অত্যাচার সংঘটনের পর বিদেশে গিয়েছেন তাদের সকলকেই
-
৭ ডিসেম্বর
জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। সারা দেশে ২৯০টি আসনের জন্যে ১,৫৪৭জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশের বাত্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতীয় পরিষদের ৯টি ও প্রাদেশিক পরিষদের ২১টি আসনের নির্বাচন স্থগিত।
৮ ডিসেম্বর
প্রাথমিক ফলাফলে সারা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সর্বাধিক সংখ্যক আসন লাভ। বাংলাদেশে ২টি আসন ছাড়া বাকী সব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়।
৯ ডিসেম্বর
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিপ্রধান মওলানা ভাসানী-কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট গ্রহণের জন্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে আহ্বান।
১১ ডিসেম্বর
নির্বাচনে দলগত সাফল্যের জন্যে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিপ্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার অভিনন্দন বাণী প্রেরণ।
১২ ডিসেম্বর
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- চলচ্চিত্র
- পশ্চিমবঙ্গ
- বাংলা
- শিল্পকলা
- আন্দোলন
- গদ্য
- ছাত্র আন্দোলন
- পাকিস্তান
- ভাষা
- লোককাহিনী
- ছোটগল্প
- মুক্তিযুদ্ধ
- কবিতা
- গদ্যকাব্য
- লেখক
- অনুবাদ
- ভারত
- বই
- ভূমিকা
- সম্পাদকীয়
- জীবনী
- স্মৃতিকথা
- গণহত্যা
- উপন্যাসিকা
- বিজ্ঞানী
- যুদ্ধ
- ইংরেজি
- রবীন্দ্রনাথ
- সঙ্গীত
- গণযোগাযোগ
- সাংবাদিকতা
- ইসলাম
- হিন্দু
- খুলনা
- ঢাকা
- সংবাদ
- চিঠি
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- আলোচনা
- চট্টগ্রাম
- বঙ্গবন্ধু
উৎস
লেখক
- অনু ইসলাম (১)
- অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (৪)
- আনিসুজ্জামান (১)
- আবদুল গাফফার চৌধুরী (১)
- আবদুল হাফিজ (১)
- আশুতোষ ভট্টাচার্য (১)
- আসাদ চৌধুরী (১)
- ঋত্বিক ঘটক (৩)
- কাইফি আজমি (১)
- কৃষণ চন্দর (৫)
- গোপাল হালদার (১)
- গৌরী আইয়ুব দত্ত (১)
- জহির রায়হান (২)
- জাফর আলম (১)
- তাজউদ্দীন আহমদ (১)
- দীননাথ সেন (১)
- নির্মলেন্দু গুণ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (১৯)
- প্রযোজ্য নয় (১)
- ফেরদৌসী মজুমদার (১)
- বিপ্রদাশ বড়ুয়া (১)
- মেহেরুন নেসা (১)
- শওকত ওসমান (১)
- সত্যেন সেন (২২)
- সাদত হাসান মান্টো (৩)
- সুব্রত বড়ুয়া (২)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- হাসান মুরশিদ (১২)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.