-
প্রথমে দেখা যাক, আধুনিক চিত্রকলা বলতে পারা যায় কাকে? এ ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তিকে ধরে এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। “শেষ সপ্তক” কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতায় বলেছেন,
জগতে রূপের আনাগোনা চলেছে
সেই সঙ্গে আমার ছবিও এক একটি রূপ
অজানা থেকে বেরিয়ে আসছে জানা দ্বারে
এরা প্রতিরূপ না।
রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবিগুলিকে তাঁর এই উক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে আমরা প্রথমে চিত্রকর রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে পারি এবং তারপরে আধুনিক চিত্রকলার মর্ম কথাটতেও পৌঁছতে পারি। রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবি দেখে যেকথা প্রথমেই মনে হয় সেটা এই যে, পঞ্চভূতের রামধনু-দুনিয়া তাঁর তুলির পোঁচে পোঁচে হয়েছে কিম্ভূত। শুধু তাই নয়, ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থের গদ্য-কবিতাগুলিতে যাখন রবীন্দ্রনাথ পারিপার্শ্বিকের এবং প্রতিবেশীদের অবিকুল
-
আমাদের এই বিংশ শতাব্দী এবং বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকাল সমাজতন্ত্রের তথা সাম্যবাদের অভ্যুদয়ের উদয়াচল। অপরদিকে এই শতাব্দী ধনিকতন্ত্রের অস্তমিত হওয়ার কাল। এই কালসন্ধিতে সর্বদেশের শিল্পী সাহিত্যিকদের জীবন ও সাধনা পরস্পরবিরোধী আকর্ষণ বিকর্ষণের লীলাভূমি হতে বাধ্য। শিল্পীচিত্রের স্বাতন্ত্র্যবোধ ও সর্বজনীনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও দায়িত্বশীলতা এই শতাব্দীর শুরু থেকেই নতুন কালের রসায়নের ভাণ্ডে কখনো অপূর্ব বর্ণবিভাময় নব উপাদান গড়ে তুলেছে, কখনো ধুম্রবহ্নি সমন্বিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের প্রতিভার জন্য ডেকে এনেছে বিপর্যয়, কিংবা সৃষ্টিকে করেছে অনাসৃষ্টি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে সোভিয়েট ইউনিয়নের বোরিস পাস্তারনাক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের লেখক-জীবনের বিস্ফোরিত গতি পরিণতি এই দ্বন্দ্বের লীলাভূমিকে প্রকট করে দেখিয়েছে।
-
সাহিত্যের সংজ্ঞা
শিল্পী বললেই আমরা এক বিশেষ ধরনের লোককে বুঝি। কেউ পটুয়া, কেউ নট, কেউ গায়েন, কেউ বায়েন, কেউবা কবি। এরা এক বিশেষ ধরনের কাজ করে, যাকে আমরা বলি শিল্পকলা। এই শিল্পকলায় প্রকারভেদ আছে। কিন্তু সবাই এক ব্যাপারে পারদর্শী, তাই এক জাতের। এরা আমাদের মনে রঙ ধরিয়ে দেয়। আমাদের বাসনা, ভয়, ঘৃণা, আশা প্রমুখ আবেগকে সক্রিয় করে; আমাদের মানবীয় প্রবৃত্তিকে স্পর্শ করে, বইয়ে দেয় এক নতুন ধারায়। আমাদের সরু মোটা অনুভূতি নিয়ে এদের কারবার। পাথরে হোক, রঙে রেখায় অক্ষরে হোক, তারে বা টানা চামড়ায় অথবা কুমড়োর খোলে হোক, শিল্পীরা অভিন্ন এদিক দিয়ে যে এরা সবাই আমাদের প্রবৃত্তি, আবেগ ও অনুভূতিকে
-
এক
“হে প্রাচীন কাণ্ডারী মৃত্যু,
তোমার আশায় ফেনায়িত বিষের আরক
শেষ বিন্দু পর্যন্ত পান করতে দাও আমাদের।
আমাদের চিন্তাকে প্রদীপ্ত করতে চাই এই আগুনে
স্বর্গ হোক নরক হোক, আমরা
অতল গুহার তলায় পৌঁছতে চাই,
কী আসে যায়, অজানায়
দেখতে চাই নতুন জীবনকে, নতুন দেবতাদের।
—বদলেয়ার
‘শিল্পী অভিযাত্রা করেন অনুভূতির নতুন নতুন সমুদ্রে। জ্ঞানে যে বাস্তবলোক আয়ত্ত হয়, তার শক্ত ভূমিতল শিল্পীর পায়ের নীচে থাকে না। শিল্পী অতি অস্থির, উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
‘সৌন্দর্য’—ক্রিস্টফার কডওয়েল।
স্বপ্ন ও বাস্তবের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে সে সম্পর্কে পিসারভ লিখেছিলেন:
‘ব্যবধান একাধিক। আমার স্বপ্ন (প্রথমত) স্বাভাবিক ঘটনাস্রোতকে ছাড়িয়ে চলে যেতে পারে সামনে, কিংবা (দ্বিতীয়ত) এমন একদিকে
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.