-
সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্রষ্টা নিজেকে প্রকাশ করেন। বিশ্বলোকের কত বিচিত্র ঘটনা, কত অজস্র অনুভূতি স্রষ্টার মনে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সেই সব প্রতিক্রিয়ার তাড়াতেই শিল্পী তাঁর শিল্প সাধনায় নিত্যনূতন প্রকাশভঙ্গীর সন্ধান শুরু করে দেন। মনের ভিতরে যত কথা ভীড় করে আসে তাদের বিশ্বমানবের মনের দরবারে হাজির করে দেওয়ার জন্য শিল্পীব ভাবনার অন্ত নেই। তারই জন্য যুগে যুগে মানুষ নানা ধরণের সাহিত্যভঙ্গীর আবিষ্কার করেছে। কখনো যুগবেদনাকে প্রকাশ করেছে মহাকাব্যের বিরাট দেহের গজমন্থর গতিতে, কখনো নাটকীয় সংঘাতে, কখনো গ্রাম্য গাথায়। নিজের মনের গোপন কথাটিকে মানুষ গীতিকবিতার মাধ্যমে সময়ে সময়ে রূপ দিয়েছে।
জীবনী লেখার অনেকটা নির্ভর করে ঘটনা সংগ্রহের উপর, কিন্তু আত্মজীবনীর
-
উনবিংশ শতাব্দীতে আদর্শের সংঘাতের দিনে নূতন শিক্ষা পেয়ে যে সমস্ত লোক জাতির ঘুমন্ত জীবনে চেতনার সঞ্চার করলেন তাঁদেরই একজন মনীষী রাজনারায়ণ বসু। রামতনু লাহিড়ী, শিবনাথ শাস্ত্রী এবং আরও অন্যান্য ব্রাহ্ম নেতাদের জীবনে আমরা দেখেছি যে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করার সময় তাঁরা তাঁদের আত্মীয় স্বজন পিতামাতার কাছ থেকে বাধা কম পান নি। কিন্তু রাজনারায়ণ বসুর জীবন অন্যদের থেকে একটু পৃথক। তাঁর পিতা রামমোহনের সঙ্গী ছিলেন। তিনি চাইতেন পুত্র রাজনারায়ণ ব্রাহ্ম হোক। হিন্দুধর্মের তৎকালীন সংস্কারের জড়ভার থেকে তিনি মুক্ত হবার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই নূতন চিন্তা গ্রহণের যে প্রাথমিক মানসিক সংঘাত, সেই সংঘাত তাঁকে সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু পিতার আশ্রয় পেলেও অন্য বাধা তাঁকে
-
রাসসুন্দরীর ‘আমার-জীবন’ বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ মূল্যবান গ্রন্থ। আত্মজীবনী রচনার কোন আদর্শই তখন বাংলাসাহিত্যে ছিল না। নিজের জীবনকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্যসৃষ্টি করা চলে ঐ ধারণা তখনও সাহিত্যিক মহলে স্বীকৃত হয়নি। বাংলা গদ্য তখন সবে মাত্র বঙ্কিম দেবেন্দ্র যুগ পার হয়েছে। এ হেন অবস্থায় পঁচাশী বছরের এক বৃদ্ধার হাত থেকে ‘আমার জীবন’ সৃষ্টি অল্প বিস্ময়ের ব্যাপার নয়। দেবেন্দ্রনাথের ‘আত্মজীবনী’ তখনও প্রকাশিত হয়নি। দেশবাসীর কাছে আত্মজীবনী রচনা ও পাঠের কোন মানদণ্ড স্থির হয়নি। তবু রাসসুন্দরী তাঁর যে জীবনকথা লিখে গিয়েছেন তা তাঁর অসম সাহস ও আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক।
রাসসুন্দরী কিছু মহামানবী নন; তাঁর জীবনে এমন কিছু ঘটেনি যাতে পাঠকসাধারণের বিশেষ ঔৎসুক্য প্রকাশের
-
পুরানো বাংলা কাব্যে আত্মপরিচয় দেওয়ার একটা রেওয়াজ ছিল। কাব্যের উৎপত্তির কারণ বা দেব-দেবীর আশীর্বাদ উপলক্ষেই এই অংশগুলি রচিত হতো—তাই এগুলিকে আত্মবিবরণী ছাড়া বেশী কিছু বলা যায় না। সব কবিই যে আত্মবিবরণী দিয়েছেন তা নয়। যাওবা দিয়েছেন তাও অনেকটাই অসম্পূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় যেখানে কাব্য লেখা হয়েছে সেখানে রাজা ও দরবার কিছু অংশ জুড়ে বসে। এই আত্মপরিচয়গুলির মধ্যে সমাজের দুঃখ দুর্দশার প্রতিফলন চোখে পড়ে। এগুলোকে বাংলা আত্মজীবনীর প্রথম ক্ষীণ সূত্র বলে মনে করা ভুল হবে না, যদিও এই আত্মবিবরণগুলি কাব্যের বিরাট দেহের অংশ বিশেষ। তবে এও ঠিক যে পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী যারা লিখেছেন তাঁরা কেউ-ই এই কাব্যাংশগুলির দ্বারা উৎসাহিত হননি। ইংরাজী
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.