-
অবশ্যম্ভাবী বিপন্নতায় থমকে দাঁড়িয়ে
আবার এগোয় উদ্বায়ী স্বপ্নবৎ মন।
দু’পাতা মুখস্থ বিদ্যের বিপ্লবের ঘোর কাটে
অনাহূত আকস্মিকতায়।
রৌদ্রজ্জ্বল দিন শেষে
বিকেলের শেষ আলোটুকুর সাথে
চুইয়ে পড়ে বিবর্ণ জীবনের সমস্ত রঙ।
এরপর আলোহীন অন্ধকারে
রঙিন জীবনের বৈভবে মুখ লুকিয়ে
হাঁতড়ে ফিরি
ফেলে আসা অনাগত
অতীত বিপ্লবের হাড্ডিসার ফসিল।
-
তর্জমা: সিদ্ধেশ্বর সেন
আমি একটা দেশ নই
যে তুমি আমাকে জ্বালিয়ে তছনছ করে দেবে
আমি একটা দেওয়াল নই
যে আমাকে ভেঙে গুঁড়োগুঁড়ো করবে
একটা সীমান্তরেখা,—আমি তা'ও নই
যে তুমি আমাকে মুছে ফেলে দেবে
দুনিয়ার পুরোনো একটা নক্সা
তুমি টেবিলে পেতে রেখেছ
এর মধ্যে কিছুই নেই
জটপাকানো কয়েকটা আঁকিবুঁকি ছাড়া
বৃথাই তুমি আমাকে সেখানে খুঁজে মরছো
আমি উদ্বুদ্ধ মানুষের আকাঙ্ক্ষা
নিপীড়িতদের মরণজয়ী স্বপ্ন
মানুষ যখন মানুষকে শুষে রক্তপান শুরু করে
লুঠতরাজ যখন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যায়
দমন-নির্যাতন যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গড়ায়
অদৃশ্য থেকে তখন যেন হঠাৎ আমি বেরিয়ে পড়ি
রক্ত-ঝরা হৃদয়ের ভেতর থেকে আমি জেগে উঠি
এর আগেও হয়তো তুমি
-
নতজানু আকাশ যখন মেশে আবছা দূর সমুদ্রে
তখন ঢেউভাঙা সফেদ ফেনারা আছড়ে পড়ে আমার পা'য়।
আমি অবাক হয়ে খুঁজে ফিরি তমশার মতো এক অনুজ্জ্বল আলোক।
পাই না তারে, বেহুদা সময় হারিয়ে যায় না-ফেরা অন্ধকারে।
অপ্রকাশিত যত কথা অচেনা আগন্তুকের মতো কড়া নেড়ে যায়,
আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রই।
আমাদের মিথোজীবি জীবনের ক্লান্ত-নিশ্চল অবসরগুলো
বইয়ে চলেছে অনিবার্য ভুল, যার নেই কোনো ক্ষমা।
-
বহুদিন পর কবিতার কোলে ঘুমিয়েছি।
ছোট্ট অবোধ শিশুটির মতো
আধশোয়া হয়ে স্বপ্নঘুমে কাটিয়েছি রাত্র।
রাত যখন জেগে রয় সারারাত ধরে
আমি তখন স্বপ্নঘুমে কবিতার কোলে।
তুমি যখন ছিলে বেদনার মতো আষ্টেপৃষ্টে
তখন সুখের অসুখে নির্ঘুম রাত্রির সাথে
কথায় কথায় ভোর হতো পুবের অদেখা স্নিগ্ধ আলোয়।
ক্লান্ত রাত ফুরুতো আঁধারের রঙে আলোর মিশেলে
তবুও অক্লান্ত প্রেম তোমার চোখজুড়ে
নতুন আলোয় নিষ্পলক চেয়ে রয় সদাই।
আমি সারাটিদিন ধরে আবার ফিরে যাই জীবনের কোলাহলে
এভাবে কত কত নির্ঘুম রাতের পর আজ স্বপ্নঘুমে
কবিতার মতো তোমার কোলে অবোধ শিশুটির মতো
জড়োসড়ো হয়ে আশ্রয় নিয়েছি নিয়তির নিরুদ্দেশে।
-
ভীষণ জ্যোৎস্নায় মাতোয়ারা উদাসী জীবনানন্দ মন।
অনাহারী সুকান্ত হৃদয়ে তা আজো সাদা রুটিই রয়ে গেছে।
আর আমি মেঘমুক্ত জোছনার বাঁধভাঙা আলোয়
রঙচটা কাপড়গুলি শুকিয়ে নিচ্ছি অনায়াসে।
-
হাড্ডিসার নিরুপদ্রব স্বপ্নের বীজে
বর্তমানের ফসিলে আবাদ হয় পরিপুষ্ট ভবিষ্যৎ।
সময়ের স্রোতে সব বর্তমানই অতীত হয়,
আর ভবিষ্যতেরা বর্তমান!
-
তোমাকেই দেখি আমি,
নিত্য দেখি, শুনি প্রত্যহের বিকাশে খেলায়
দেখায় শেখায় একাকার তোমার বিভোল নৃত্য,
গানের চিৎকার, কান্নার বৈশাখী
আর আশ্বিনের হাসি, কাকলি কথার ঝর্ণা ।
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আবিষ্কার নূতন তোমার,
প্রতিদিন বিশ্বজয় খেলা বা সক্রিয় জ্ঞানে, হে বালকবীর,
দূর থেকে গুনি তোমার আমার ভেদ, স্মৃতির সাযুজ্যে ভুলি,
চতুর প্রৌঢ়ত্ব আর চপল প্রজ্ঞার মধ্যে
দুস্তর বছর—
যেন কাল মহানদী সাঁতরায় উদ্ভ্রান্ত অস্থির-
কিংবা যেন বনের কিনারে কাঠের কাট্রায়
জ্বালানির তক্তা সব, আমরা, প্রৌঢ়েরা,
বাল্যের প্রান্তরপারে যারা,
আর তুমি তুমি বাছা সরস সতেজ কচি
শ্রাবণের সদ্য বট শাল বা পিয়াল।
তুমি মুক্ত, প্রাণময়, নিঃসংশয়, কর্তৃত্বের অধিকার শুধুই খেলায়,
তোমার ইন্দ্রিয় আর
-
অতঃপর, মহামান্যগণ ডুব সন্ধ্যায়
অন্ধকারের অপেক্ষায় ফিরিয়া গেলেন
অর্গলাবৃত পেঁচারাতের গহ্বরে।
এমন সময় আলোহীন অন্ধকার ফুঁড়ে
সরব নৈশব্দে জ্যোৎস্নাময় কালো আকাশে
সুগন্ধি দোলনচাঁপার মতো
সাদা-সাদা গন্ধহীন মেঘ ফুটিল।
এমনি ক্ষয়িষ্ণু চাঁদরাত্রিতে
তাঁহাদের রক্তলাল চোখে
কাদা-জলার কচুরিপানার মতো
সংক্রামক স্বপ্নের আবাদ হইবে।
-
কুঁড়ির মত অস্ফুট জমাটবাঁধা সব ঘৃণা
ফুটুক দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ হয়ে।
-
লেখক: সৈয়দ আবুল মকসুদ
বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকেরা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একাত্তরের মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তাঁদের ভূমিকা ছিল অগ্রসৈনিকের। শুধু লেখালেখি নয়, তাঁরা রাজপথে মিটিং-মিছিল করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দেশের ভেতরে থেকে কবি-সাহিত্যিকদের অনেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিয়েছেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যাঁদের পক্ষে ভারতে যাওয়া সম্ভব হয়, তাঁরাও সেখানে গিয়ে বিভিন্নভাবে সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের কবি-লেখক-শিল্পীদের সঙ্গে তখন যোগ দেন ভারতের বাঙালি কবি-সাহিত্যিকেরা। তাঁরা বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরতার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
কলকাতার উর্দুভাষী কবি-সাহিত্যিকেরা অনেকেই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এগিয়ে আসেননি। তবে কেউই আসেননি তা
-
পুশকিন ছিলেন রাশিয়ার বসন্ত, পুশকিন ছিলেন রাশিয়ার সকাল, পুশকিন ছিলেন রূশী আদম। দান্তে এবং পেত্রার্ক ইতালীর জন্যে যা করেছিলেন, সতেরো শতকে সাহিত্যের অতিকায় বরপুত্রগণ ফ্রান্সের জন্যে যা করেছিলেন, এবং জার্মানদের জন্যে যা করেছিলেন লেসিং, শিলার আর গ্যাটে, পুশকিন তা-ই করেছিলেন আমাদের জন্যে।' এই উত্তি আবেগতাড়িত কোনো তরুণ কবির নয়, বৃদ্ধিদীপ্ত, যুক্তিনিষ্ঠ, বিদগ্ধ রুশ সাহিত্যসমালোচক আনাতিল ল,নাচারিস্কির। অসম্ভব কোনো রুশীর পক্ষে পুশকিন বিষয়ে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত না হওয়া। আমরা যারা বাঙালি তাদের পক্ষেও কি সম্ভব রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আবেগরহিত কোনো উত্তি করা? যে-কোনো শিক্ষিত রূশীর সত্তার অন্তর্গত আলেক-জান্দর পুশকিন। রাশিয়ার জাতীয় কবি তিনি; রুশ ভাষার অন্য কোনো কবি তাঁর সমকক্ষ নন; তাঁর
-
বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিম আসমানে,
লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গরস্থানে।
হের ঈদগাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত-কংকাল
কশাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গরুর পাল?
রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রু-সলিলে হায়,
বেলাল! তোমার কন্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়।
থালা, ঘটি, বাটি বাঁধা দিয়ে হের চলিয়াছে ঈদগাহে,
তীর খাওয়া বুক, ঋণে-বাঁধা-শির, লুটাতে খোদার রাহে।
জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমুর্ষ সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?
একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে যে খোকা মরিল তার
উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে কি সে শিশু-পাঁজরের হাড়?
আসমান-জোড়া কাল কাফনের আবরণ যেন টুটে।
এক ফালি চাঁদ ফুটে আছে, মৃত শিশুর অধর
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- আবুল হাসনাত (১)
- কাইফি আজমি (১)
- কাজী নজরুল ইসলাম (৫)
- জীবনানন্দ দাস (১০)
- জয়নাল হোসেন (১)
- নিবারণ পণ্ডিত (১)
- প্রক্রিয়াধীন (২)
- ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ (১)
- বিষ্ণু দে (১)
- মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় (১)
- মলয় রায়চৌধুরী (১)
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- মেহেরুন নেসা (১)
- যতীন সরকার (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (২)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১)
- লক্ষ্মীনারায়ণ রায় (১)
- শামসুর রাহমান (১)
- সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- সুকান্ত ভট্টাচার্য (৯)
- সুনির্মল বসু (৩)
- হরবোলা (১০)
- হাফেজ শিরাজি (১)
- হাসান মুরশিদ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.