কালের রাখালশিশু : ২১শে ডিসেম্বর
তোমাকেই দেখি আমি,
নিত্য দেখি, শুনি প্রত্যহের বিকাশে খেলায়
দেখায় শেখায় একাকার তোমার বিভোল নৃত্য,
গানের চিৎকার, কান্নার বৈশাখী
আর আশ্বিনের হাসি, কাকলি কথার ঝর্ণা ।
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আবিষ্কার নূতন তোমার,
প্রতিদিন বিশ্বজয় খেলা বা সক্রিয় জ্ঞানে, হে বালকবীর,
দূর থেকে গুনি তোমার আমার ভেদ, স্মৃতির সাযুজ্যে ভুলি,
চতুর প্রৌঢ়ত্ব আর চপল প্রজ্ঞার মধ্যে
দুস্তর বছর—
যেন কাল মহানদী সাঁতরায় উদ্ভ্রান্ত অস্থির-
কিংবা যেন বনের কিনারে কাঠের কাট্রায়
জ্বালানির তক্তা সব, আমরা, প্রৌঢ়েরা,
বাল্যের প্রান্তরপারে যারা,
আর তুমি তুমি বাছা সরস সতেজ কচি
শ্রাবণের সদ্য বট শাল বা পিয়াল।
তুমি মুক্ত, প্রাণময়, নিঃসংশয়, কর্তৃত্বের অধিকার শুধুই খেলায়,
তোমার ইন্দ্রিয় আর মানস নির্দ্বন্দ্ব
বাধাবন্ধহারা তোমার বিচার আর কল্পনার
স্বচ্ছন্দ বিহার এ হাত ও হাতে যেন
তোমার বাস্তব সারা বিশ্ব, চোখ কান ঘ্রাণে এক
চর্বচোষ্যে ধ্যানধারণায়, সচল কর্মঠ বিশ্ব।
তাই-সম্ভবে ও অসম্ভবে নামে
তোমার সমান পদক্ষেপ
ব্যক্তি আর সমাজের দক্ষিণে ও বামে
তোমার অভ্রান্ত ছন্দ
দুহাতে ও আশেপাশে ছড়ানো খেলনা
আর বর্ণমালা ধারাপাত
তুমিই কি কালের রাখাল
মহাস্থানে বিশ্বের প্রান্তরে
মানুষের পায়ে পায়ে পথের ধারের বটের ছায়ায়?
আমরাও এপার ওপার সেতু বাঁধি, বাঁশি শুনি
স্মৃতি দিয়ে, আমাদের মানবিক একাত্মবোধের
দ্বন্দ্বময় রোমান্থ স্মৃতিতে বাঁশি শুনি সাযুজ্যের
দেখি তুমি নিরাসক্ত আকাঙ্ক্ষায়
মেলাও ত্রিকাল প্রত্যক্ষের একটি কলিতে
সঞ্চয়ী কারবারে নয়, ঐতিহ্যের নিত্যনব সাক্ষাৎ নির্মাণে।
তোমার অতীত আর ভবিষ্যৎ বর্তমানে অবিচ্ছিন্ন
অথচ মুহূর্তে প্রতি মুহূর্তেই অতিক্রান্ত
কখনো জোয়ারে আর কখনো বা বন্যাবেগে
আপন বিকাশে আর মুহুর্মুহু বিশ্বপরিচয়ে
নৈর্ব্যক্তিক খেলার বিজ্ঞানে কল্পনায়
তোমার অখণ্ড সত্তা চঞ্চল সংহত ।
শোনো শিশু, শোনো
মিলাক প্রসাদ তার অসত্যে ভঙ্গুর স্থাবরের এই পাড়ে
—না, না, তুমি দূরে থাকো, আমাদের ক্লান্ত কাল
অতিক্রান্ত করে যাও, আমাদের পিছে রেখে
চলে যাও পাহাড়ের পরপারে
ঐ সচ্ছল সংহত দেশে যেখানে জ্বালানি নয়
যেখানে পিয়াল কিংবা শাল বা বটের চারা
বর্ষে বর্ষে বনস্পতি কোনো
প্রাজ্ঞ, প্রৌঢ় ও গম্ভীর, দিউগাসিভিলির মতো,
ছায়াময়, হাওয়ায় হাওয়ায় প্রসন্ন, সম্পূর্ণ শাখায় পাতায়
ফলে ফলে দীপ্ত, দান্ত।
পরিচয়, ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৫৯
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
বিষ্ণু দে
বিষ্ণু দে একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি লেখক এবং চলচ্চিত্র সমালোচক। তিনি ১৯৭১ সালে তার স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ বইটির জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ লাভ করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments