-
হাকিম আজমল খান
সর্বভারতীয় কংগ্রেসী নেতাদের মধ্যে হাকিম আজমল খানের নাম সুপরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষেরা মুগল সম্রাট বাবরের সঙ্গে এদেশে চলে আসেন এবং তখন থেকেই ডা. আনসারীর মত হাকিম আজমল খানের পূর্বসূরীরাও চিকিৎসা বিদ্যায় সমগ্র উত্তর ভারতে অসামান্য খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তাঁর পূর্বপুুরুষদের মধ্যে একজন সম্রাট আকবরের আমলে চিকিৎসাকে তার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। তাঁরই এক বংশধর ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় চিকিৎসক। তারপর থেকে তঁাঁদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ রাজ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করে এসেছেন।
এই বিখ্যাত চিকিৎসক বংশের উপযুক্ত বংশধর ছিলেন হাকিম আজমল খান। তাঁর জন্ম ১৮৬৩ সালে। তাঁর পিতার নাম গোলাম মহম্মদ খান।
শিক্ষার দিক দিয়ে তিনি প্রাথমিক বাধ্যতামূলক কোরান
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
-
রাবার বুলেটের নামকরণ এমনভাবেই করা যেন শুনতে মনে হয় খেলনা রাবারের বুলেট, যেটি কোনো ক্ষতি করতে পারে না। নন-লিথাইল বন্দুক (মারণাস্ত্র নয়) মূলত শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত নানা বিক্ষোভ, দাঙ্গা, আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। নন-লিথাইল অস্ত্র প্রস্তুত করার মূল লক্ষ্য ছিল সেটি যেন মানুষের কোনো ক্ষতি না করে। রাবার বুলেট নামটা শুনলে যতই খেলনা খেলনা প্লাস্টিক বা রাবারের বুলেটের মত মনে হয়, কিন্ত সেটি মোটেই সেরকম নয়।
রাবার বুলেট মানবদেহের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি আঘাত করতে পারে, ফলে চিরতরে হাত-পায়ে ভাঙন, চোখে অন্ধ, মস্তিষ্কে রক্তপাত থেকে শুরু করে, কিডলি, লিভারে রক্তপাতের কারণ হতে পারে এবং অতিরিক্ত ইনফেকশন থেকে
-
[লেখাটি প্রকাশিতব্য সংকলন গ্রন্থ “ইরানের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও তুদেহ পার্টি”-এর জন্য লিখিত ভূমিকা]
১৯১৭ সালে সোভিয়েত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের ঢেউ দেশে দেশে আছড়ে পড়তে থাকে। সে জোয়ার থেকে বাদ যায়নি ইরানও। ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় ১৯২০ সালের ২২ জুন—সে হিসেবে শতবর্ষী। এমনকি ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের চেয়েও পুরনো। কিন্তু ইরানে শ্রমিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনা উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। সেই সময় ও বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই পুঁজিবাদী উৎপাদন ও শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী ভাবাদর্শও ইরানে পথ খুঁজে নেয়। প্রথম মহাযুদ্ধ পর্যন্ত ইরানে দুটি সাম্রাজ্য রাজ করত—উত্তর ইরানে জার শাসিত রাশিয়া আর আফগান সীমান্তের দক্ষিণ অংশে
-
১৮০৩ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটল। ভারতের রাজধানী দিল্লী শহর ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকারের কর্তৃত্বাধীনে এসে গেল, আসলে এটা একটা আকস্মিক ব্যাপার নয়। বহুদিন আগে থেকেই ভারতের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা তাকে এই অনির্বায পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছিল। যাদের দেখবার মত চোখ ছিল তারা দেখতেও পাচ্ছিলেন যে তার সর্বদেহে ক্ষয়রোগের লক্ষণগুলি ফুটে উঠেছে। এ এক বিরাট মহীরুহ, যার ভিতরকার সমস্ত সার পদার্থ একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাহলেও সাধারণের দৃষ্টির সামনে এতদিন সে তার প্রভুত্বব্যঞ্জক মহিমা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, অবশেষে সেই মহীরুহের পতন ঘটল; চমকিত হয়ে উঠল সবাই। দিল্লীশ্বরেরা জগদীশ্বরেরা শেষকালে এই হলো তার পরিণতি।
মুঘল সাম্রাজ্য সত্য কথা বলতে
-
অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের ফলে সারা দেশ হতাশা ও অবসাদে ছেয়ে গিয়েছিল একথা সত্য, কিন্তু এই আশা ভঙ্গের বেদনা ও অবসাদ খুব বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। ইতিপূর্বে স্বাধীনতা ছিল একটা দূর সুখ-স্বপ্ন, যাকে ঘিরে মানুষ কল্পনার জাল বুনত। কিন্তু এ যুগে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে স্বায়ত্বশাসন শুধু স্বায়ত্বশাসন নয়, পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের কাছে নিকট ও অনিবার্য আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ভারতবাসীদের এই চিন্তাধারা দ্রুত প্রবাহে এগিয়ে চলেছিল। ১৯১৯ সালের মণ্টেণ্ড চেমসফোর্ড রিফর্মকে তারা অবজ্ঞায় আবর্জনার স্তুপে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাদের পুরনো দিনের ধারণাকে আঁকড়ে ধরে বসেছিল। তারা আশা করছিল ১৯২৮ সালে পুরোপুরি শ্বেতাঙ্গ সভ্যদের দ্বারা গঠিত সাইমন
-
ক. জাতি: একাত্মতা ও প্রতিবেশ
যে জাতির কথা আমরা বলছি তার জনসংখ্যা হচ্ছে আট কোটি। ঈশ্বরের কৃপায় ২০০০ খৃষ্টাব্দে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫ কোটিতে। মোট এলাকার পরিমাণ প্রায় ৫৫ হাজার বর্গমাইল এবং আমরা ধরে নিচ্ছি ২০০০ খৃষ্টাব্দেও তা ৫৫ হাজার বর্গ মাইলেই থাকবে। এটি হচ্ছে সম্ভবতঃ বিশ্বের সবচাইতে জনবহুল ৫৫ হাজার বর্গমাইল। প্রক্রিয়াজাত, অর্ধ প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত সব ধরণের উৎপাদনের পরিমাণ আমাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের দেশে পরিণত করে রেখেছে। এইসব অবধারিত সত্যের ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যর্থতাই বিভিন্ন মহল কর্তৃক এদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ভিক্ষার ঝুলি বা এ ধরণের জ্বালাময়ী ব্যাঙ্গোক্তি প্রয়োগের সুযোগ এনে দিয়েছে।
যে সব জাতি বর্তমানে
-
হাজং অঞ্চলের যে সমস্ত সংগ্রামী কৃষক সৈন্য ও পুলিশদের আক্রমণের ফলে শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের নামই জানা যায় নি। আবার অনেকের নাম বিস্মৃতির তলায় চাপা পড়ে গেছে। শহীদের মধ্যে শুধু পুরুষরা নয়, মেয়েরাও ছিলেন। মেয়েদের মধ্যে শুধু একটি নাম আমাদের কাছে উজ্জ্বল আর অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি হলেন শহীদ রাসিমণি। এই বীরাঙ্গনা সশন্ত্র পুলিশের অত্যাচারের প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুলীর মুখে জীবন দিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পিছনকার ইতিহাসটা একটু খুলে বলি। ১৯৪৬ সনের প্রথম ভাগে ময়মনসিংহ শহরে ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে ‘ভিয়েতনাম দিবস’ উদ্যাপন করা হয়। এই উপলক্ষে ছাত্ররা বিরাট সভা ও মিছিল করেছিল। পুলিশ মিছিলের উপর গুলী চালায়। ফলে একজন ছাত্র মারা
-
একদিকে বাংলাদেশ, আর একদিকে আসাম। এই দুয়ের মাঝখানে সীমান্ত রক্ষা করে চলেছে গারো পাহাড়। দীর্ঘ পাহাড়ের মালা এঁকেবেঁকে পথ করে চলেছে দূর থেকে দূরে, বহু দূরে। সমতল অঞ্চলের মানুষ দূর থেকে সেই দিগন্ত-বিস্তারী নীলাঞ্জন রেখার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে যায়। পর্বত নয়, পাহাড়। তাহলেও তার শোভা বড় কম নয়।
গারো পাহাড় ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমান্ত ঘেঁষে চলে গিয়েছে। সদর নেত্রকেকোণা আর জামালপুর, ময়মনসিংহ জেলার এই তিনটি মহকুমা এই পাহাড়ের গায়ে এসে মিশেছে। প্রস্থে পাঁচ মাইল, আর দৈর্ঘে সত্তর মাইল, পাহাড়ের গা-ছোঁয়া এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি লোকের মুখে মুখে পাহাড় অঞ্চল নামে পরিচিত। গারো উপজাতির নাম থেকেই এই গারো পাহাড়ের নামের উৎপত্তি।
-
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সমস্ত জাতীয়তাবাদী মুসলমান নেতা সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন, তাদের প্রথম সারির মধ্যে মওলানা আবুল কালাম আজাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অবিভক্ত ভারতের সর্বত্র সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই নামটি সবচেয়ে সুপরিচিত। মওলানা আজাদ তাঁর আত্মজীবনীতে নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে যে কথাগুলি লিখে গেছেন, তা থেকেই আমরা ভারতের এই প্রতিভাশালী, সদা সক্রিয়, স্থিরবুদ্ধি ও দৃঢ়চিত্ত চরিত্রটির পরিচয় পেয়েছি।
মওলানা আজাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে একজন বাবরের ভারত অভিযানের সময় হিরাট থেকে এদেশে এসেছিলেন। মোগল রাজত্বের যুগে এই বংশের বহু কৃতি পুরুষ ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং সরকারী প্রশাসন কার্যে বিশিষ্ট স্থান গ্রহণ করে এসেছেন। মওলানা আজাদের পিতামহের যখন
-
অনুচর জমিদারদের নিয়ে গোপন পরামর্শ সভায় বসেছিলেন খুলনার জমিদারদের মধ্যমণি স্বনামখ্যাত রায় বাহাদুর। কি করে কৃষকদের কাছ থেকে সমস্ত জমি ছিনিয়ে নিয়ে তাদের খাস করে নেওয়া যায়, এই নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছিল। উদ্দেশ্যটা সাধু। কিন্তু আইনের নানা রকম বাধা রয়েছে। সেটা না হয় কোনো মতে সামলানো গেলো কিন্তু স্বদেশীওয়ালাদের মধ্যে ওই যে একটা দল আছে, যারা ‘কৃষক‘ ‘কৃষক’ বলে চেঁচিয়ে মরছে, ওদের নিয়েও চিন্তা করতে হয়। ইংরাজদের তাড়িয়ে দিয়ে নাকি দেশ স্বাধীন করবে, তারপর কৃষকদের করবে জমির মালিক। যেন মামার বাড়ীর আবদার। কিন্তু ওরা সহজ পাত্র নয়, একটু কিছু হলেই হৈ হুল্লোড় বাঁধিয়ে বসে। রায় বাহাদুরের কপাল চিন্তার রেখায় কুঞ্চিত হয়ে
-
লেখক: রফিকুল ইসলাম
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষ কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা 'বাঙালি এথনিক ক্লিনসিং' শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। ঐদিন সকালবেলা একটি সামরিক হেলিকাপ্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জানজুয়া, মেজর জেনারেল মিঠা খান, মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ এবং মেজর জেনারেল ওমর রংপুর, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে 'অপারেশন প্ল্যান' পাকিস্তানী কমান্ডারদের দিয়ে আসেন। ঢাকায় প্রধান টার্গেট ছিল ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হাউস (পুরনো গণভবন) ত্যাগ করে যান
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (২)
- অমিত রঞ্জন দে (১)
- আব্দুল লতিফ (১)
- এম আর আখতার মুকুল (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (১)
- কে জি মুস্তফা (১)
- জহির রায়হান (১)
- ড. ভেলাম ফন স্ক্রেন্ডেল (১)
- তপন কুমার দে (১)
- নজরুল ইসলাম (১)
- নিতাই দাস (১২)
- প্রক্রিয়াধীন (৪)
- মণি সিংহ (২)
- মুজফ্ফর আহমদ (১)
- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (২)
- মোহাম্মদ শাহ আলম (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (১)
- শওকত ওসমান (১)
- শিশির কর (১)
- সত্যেন সেন (২৪)
- সলিল চৌধুরী (১)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (২)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- সৈয়দ তোশারফ আলী (১)
- হাসান তারেক (১)
- হাসান মুরশিদ (৫)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.