-
কামাল ভাইয়ের দাপটে এখন পাড়ায় টিকে থাকাই দায়। এবার মাত্র কামাল ভাই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিল। আর দু'মাস পরেই ফল বের হবে। কিন্তু তার আগেই নিজের পরীক্ষার ফলের কথা সুযোগ পেলেই আমাদের বলতে ছাড়ে না। আমরা হয়ত মাঠে বসে চীনা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে খাচ্ছি, এমন সময় কামাল ভাই এসে আমিরী চালে বসে বলতে আরম্ভ করল: বলি কি খাওয়া হচ্ছে?
আমাদের মধ্যে একজন চীনা বাদামের খোসাগুলোর উপর তাড়াতাড়ি বসে বলত: কই, কিছুই ত খাচ্ছি না।
: হুঁ, আমার সাথে মিথ্যে কথা? জানিস, এবার আমি ম্যাট্রিক দিয়েছি। আর ফার্স্ট ডিভিশনে ত পাস করবই। এবারের প্রশ্নগুলোর প্রত্যেকটিই তো আমার কমন পড়েছিল। একটা প্রশ্ন এতই
-
এ্যানুয়েল পরীক্ষা শেষ। সারাদিন অবসর। কি যে করব ভেবেই পাই না। সারাদিন খালি খালি বসে মোটেই ভালো লাগে না।
এমন সময় একদিন কামাল ভাই বলল: ফোকলা, একটা কাজ করলে হয় না?
আমি উৎসুক হয়ে উঠলাম: কি কাজ?
: ভাবছি, এখন তো সারাদিনই অবসর, একটা নাটক করলে হয় না?
: নাটক?
মন্টু হঠাৎ হেসে উঠে বলে বসল: তোমরা করবে নাটক, তবেই সেরেছে। তোমাদের দ্বারা যদি নাটক হয়—
কামাল ভাই ঘুষি বাগিয়ে বলে উঠল: পাজী কোথাকার। কেন হবে না শুনি?
মন্টু ভয়ে ভয়ে চুপ করে গেল।
আমি কামাল ভাইকে একটু উৎসাহ দিয়ে বললাম: তবে একটা নাটক সিলেকশন করে ফেলো।
ঝন্টু এতক্ষণ চুপ
-
রোববার সকাল। বেলা তখন নটা-দশটা হবে। আমরা সবাই ঝন্টুদের রোয়াকে বসে রয়েছি। বছরের নতুন ক্লাস আরম্ভ হবে কাল। তাই পড়াশোনার বড় একটা ঝামেলা নেই। সেইজন্য বসে বসে আড্ডা দেওয়া হচ্ছিল। এই সময় কটু বলল: জানিস কাল আমার বাঘা মামা আসছে।
আমি চমকে উঠলাম। কারণ 'ব্যাঘ্র' শব্দটার উপর আমার একটুও আস্থা নেই। শব্দ থেকে ওটা যে কখন আসল জিনিস হয়ে ওঠে, বলা যায় না।
বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা একবার আমার হয়েছিল। না, চিড়িয়াখানায় নয়—বাঘের মাতৃভূমি একেবারে সেই সুন্দরবনে। ছোট চাচার কাছে একবার গিয়েছিলাম সুন্দরবনে। আমাকে নিয়ে গেলেন সুন্দরবন দেখাতে। ফরেস্ট অফিসের ডাক বাংলা থেকে হাঁটা পথে চললাম বনের দিকে। বনে গিয়েই বলতে
-
আমাদের ক্লাসটিচার হক সাহেব রিটায়ার করেছেন। তাঁর বদলে আজ নাকি একজন নতুন মাস্টার আসবেন। আমাদের ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চের সেরা শয়তানগুলি মানে আমি, করিম, ইকবাল, সিরাজ আর নাসির একথা শুনে তো একবারে মেতে উঠলাম। ক্লাসে এসেই হৈ চৈ শুরু করে দিলাম। নাসির আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল: কিছু ভেবেছিস, কি করবি?
আমি বললাম: ওসব সিরাজই আমার চেয়ে ভাল জানে।
সিরাজ বলল: তোরা কিসুটি ভাববিনে। আমি তো রয়েছি। ক্লাস আরম্ভ হলেই মজা দেখতে পাবি।
সিরাজের উপর আমাদের বেশ ভরসা। আমাদের ধারণা, সিরাজের বুদ্ধি আমাদের সকলের চেয়ে তীক্ষ্ণ (অবশ্য পড়াশোনার বেলায় তার মাথা আমাদের মতই অচল)। তাই সিরাজের উপর আমাদের সকলেরই আস্থা
-
মেজো মামার বিয়ে। ছোট মামা আর মেজো মামা তাই এসেছেন দাওয়াত দিতে। বাড়ীর সবাই বিয়ের তিন দিন আগে মামা বাড়ী যাবে। শুধু আমিই যেতে পারব না। কারণ আমার পরীক্ষা। হ্যা, মামার যেদিন বিয়ে ঠিক তার আগের দিনই আমার পরীক্ষা শেষ হবে। মানে সতেরোই ডিসেম্বর মামার বিয়ে, আর ষোলই ডিসেম্বর আমার পরীক্ষা শেষ হবে। সুতরাং তিন দিন আগে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।
মেজো মামা পরদিনই চলে গেলেন। শুধু ছোট মামা রইলেন। তিনি বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে (অবশ্য আমি বাদে) নিয়ে যাবেন।
সেদিন খাওয়ার পর ছোট মামার সাথে গল্প করছিলাম।
আমি বলছিলাম: মেজো মামার বিয়েতে এবার আর যাওয়া হল না।
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.