-
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের নারীদের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। বহু নারী যুদ্ধের সময় জীবন দিয়েছেন। অস্ত্র হাতে পুরুষের পাশাপাশি লড়াই করেছেন, নানা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তেমনি সে সময় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন নারী মুক্তিযোদ্ধারা। বহু নারী মুক্তিযোদ্ধা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেছেন শিল্পী হিসেবে, যা প্রতি ক্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খবর, অস্ত্র আদান-প্রদানের কাজ করেছেন তারা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই নারীসমাজ পালন করে আসছিল অগ্রণী ভূমিকা। তেমনি তিন মহীয়সী নারী মুক্তিযোদ্ধার কথাই বলছি।
নাসরীন রব রুবা
১৯৭১ সালের ১০ মার্চ। তখন তিনি হলি ক্রস কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সেদিনই হঠাৎ করে জানতে পারেন ১৪
-
একাত্তরের নভেম্বর। ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমরা ক’জন মুক্তিযোদ্ধা গ্রামের পথে চলেছি অপারেশনে। হঠাৎ চারপাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল গর্জে উঠল, 'হ্যান্ডস আপ, কৌন হ্যায়?' আমাদের দলনেতা এ ধরনের অবস্থার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত। বললেন, 'আপনা আদমি!' 'পাসওয়ার্ড?' 'এসএস ২'। এই গোপন পাসওয়ার্ড আমরা অপারেশনে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ওরা হেসে আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ঠিক সেই সুযোগে আমাদের স্টেনগানগুলো গর্জে উঠল। ব্রাশফায়ারে এক নিমেষে ১১ পাকিস্তানি সেনা খতম!—তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। মুক্তিযুদ্ধের এই রোমাঞ্চকাহিনি শুনে শিহরিত হয়ে উঠেছিলাম আমি। আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা বলছিলেন। আজ আবার বিজয় দিবস সমাগত। মুক্তিযুদ্ধের সেই কাহিনিটা আজ তাই আবার মনে পড়ছে বলছিল বন্যা।
-
সোমার বয়স একত্রিশে পড়ল। আজকে তার জন্মদিন। নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে এভাবে আর কতদিন? বিশ বছর বয়সে সংসারজীবনে প্রবেশ। তাদের তিনজনের পরিবার। মেয়ের বয়স আট। সংসার করতে গিয়ে পড়াশোনা আর হয়ে ওঠেনি। সারাদিন কাটে কখন স্বামী বাড়ি আসবে, তার সেবা করবে, সে অপেক্ষায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে গল্প-আড্ডায় আর বাড়িতে বসে মেয়েকে পড়াতে পড়াতেই জীবন পার হয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ির মেয়েটি রোজ সকালে অফিসে চলে যাচ্ছে সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে; সন্ধ্যায় এসে বাচ্চাকে পড়ানোসহ সব কাজই করছে। তার মনে হয় সে-ও কি নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারে না? নিজ টাকায় চলার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না? তার মন চাইলেও মেয়েটির
-
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও, বহু মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় রয়ে গেছে পর্দার আড়ালে। যাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাসের সুযোগ অর্জন করেছি, নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অনেকের পরিচয় রয়ে গেছে অজানা। একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করে এদেশের সকল নারী ও পুরুষ। পরে সে স্বপ্নকে পূর্ণ করতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ব্যাপক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকাকে অনেক সময় কম মূল্যায়ন করা হয়। সে সময় বহু নারী অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। অনেক নারী মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রান্নার কাজে, চিকিৎসক বা নার্স হিসেবে সেবার কাজে নিয়োজিত
-
প্রতিবছর ৮ মার্চ নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জাতিসংঘ এ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে ১৯৭৫ সাল থেকে। এখন উদ্যাপিত হয় সব দেশেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান, অগ্রযাত্রার পথে মূল বাধা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মূল সংকট ও তার সমাধান জানতে আলোচনা হচ্ছিল মানবাধিকার আন্দোলনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে।
আয়শা খানম
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশে গত চুয়াল্লিশ বছরে নারীর অর্জন অনেক। আইলা-সিডর মোকাবিলা, সেনাবাহিনী-পুলিশ, পাহাড়-হিমালয় জয়, প্যারাসুট জাম্পিং, রাষ্ট্র পরিচালনা- কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই নারী। গত দুই দশকে এই অগ্রগতির গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ যাত্রা যেন ধারাবাহিক থাকে সে লক্ষ্যে নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া,
-
পরিবারে যিনি একজন মা, সংসারে তিনিই গৃহিণী এবং কখনো কখনো একই সঙ্গে তিনি একজন শিল্পোদ্যোক্তা। একজন নারীর মধ্যে এই তিনের সমন্বয় বাংলাদেশে এখন আর বিরল ঘটনা নয়। তবে এখনো অনেক কম। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে বাজার অর্থনীতিতে মোট ব্যবসা-বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি উদ্যোক্তা নারী, সে তুলনায় বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা এখনো ১০ শতাংশের কম।জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীর অগ্রগতির সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে সফল নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজন করা হয় এক সমাবেশের। নারী উদ্যোক্তাদের
-
আপনি যদি কখনো শাহবাগের মোড়ে গিয়ে থাকেন, সেখানে দেখা পাবেন ঝরনা, কাজল, রিনা, মনোয়ারাদের। ওরা ফুল বিক্রি করে। মালা গাঁথে বিক্রি করার জন্য। আমরা তাদের বলব 'ফুলকন্যা'। ওরা ফুলের মতো সুন্দর, কিন্তু জীবনটা ফুলের মতো সুন্দর করে সাজাতে পারে না।
নানা রংবেরঙের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের চির আনন্দের এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনগুলো উদ্যাপন করি। বিয়েবাড়ি, হলুদ, বউভাত সব অনুষ্ঠানই তার পূর্ণতা পায় হরেক রঙেয়ের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়ে। আমাদের আনন্দের মুহূর্তগুলোর চিরসঙ্গী এই ফুল। আর এই ফুল বেচেই অনেক নারীর জীবন চলছে। শাহবাগে পাইকারি ফুলবিক্রেতা নারীদের সাথে কথা হচ্ছিল তাদের জীবন নিয়ে। সূর্য ওঠার আগে থেকেই
-
অফিস শেষে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির সেবা-শুশ্রূষা করে সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করে, তাদের ভালো রাখতে গিয়ে কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি যে নিজে কেমন আছি? নিজের জীবনে ভালো থাকার জন্য সেখানে কি কোনো সময় আছে? অফিস থেকে ক্লান্ত মনে ফিরে বাড়ির কোনো কিছুতেই যেন আর মন লাগে না। কারণ জানা নেই, তবু যেন এক অজানা ব্যথা। ক্লান্ত মন ও দেহ নিয়ে দাওয়াতে গেলেও যেন সেই মন ভালো হয় না। খুব কাছের আত্মীয়ের সাথে দেখা হলেও মুখে লেগে থাকে কৃত্রিম হাসি, যার মধ্যে কোনো সত্যতা নেই, নেই প্রাণের ছোঁয়া। এ ঘটনাগুলো প্রতিটি নারীর জীবনে খুবই চেনা।
একজন নারীর মন যদি ভালো
-
ছোটবেলায় বহু রহস্যময় অভিযানের গল্প পড়ে আমাদের সবারই ইচ্ছা হয় সেসব অভিযানে অংশ নিতে। বিদেশে কিশোর-কিশোরীদের সে ধরনের অভিযানের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ। সামার ক্যাম্প থেকে শুরু করে পর্বতারোহণ, রোমাঞ্চকর আরও অনেক ধরনের অভিযানের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশে কিশোর-কিশোরীদের সে সুযোগ নেই। স্কুল থেকে বাসা, আর বাসা থেকে স্কুলের মাঝেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ। তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রম আছে। এ দেশের পর্বতারোহীরা তাদের সেই অভিযানের শখ পূরণ করছেন পর্বতারোহণের মতো এক রহসম্যয় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। তাদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য আমাদের দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানা এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী নারী নিশাত মজুমদারের সাথে আলাপ হচ্ছিল।
সাদিয়া
-
বাংলাদেশে মাতৃভাষার জন্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৪৮ সাল থেকে। সেদিনটি ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পরিষদের ভাষা বাংলা করার দাবি উত্থাপন করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান জানান যে পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র এবং মুসলমানের ভাষা উর্দু। তাই উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ২৭ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের সেই মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন নাদেরা বেগম। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ছাত্রনেত্রী। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের ছাত্রী। তাঁর বড় দুই ভাই কবীর চৌধুরী ও মুনীর চৌধুরী সে সময় প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয়। পারিবারিকভাবে এবং পাশাপাশি নিজস্ব বিবেকবোধ থেকে সে সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
-
লিরার খুব মন খারাপ। ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে। আজকে ওর ক্লাসে পরীক্ষার খাতা দিয়েছে, ও খুব কম মার্কস পেয়েছে। সর্বোচ্চ উঠেছে বিশে আঠারো, আর গতবার ক্লাসে প্রথম হয়েও ও পেয়েছে বারো। এবার ক্লাস ফোরেও ও যদি প্রথম না হয় তাহলে মা আর বাবা মিলে যে কী করবে, সে কথা ভাবলেও ওর ভয় লাগছে। লিরা কোথাও খেলতে যেতে পারে না, শুধু পড়া আর পড়া। ওর মা-বাবার একটাই কথা, পরীক্ষায় প্রথম হতেই হবে, যতই কোচিং করতে হোক। বড় হয়ে ওকে ডাক্তার হতে হবে। মাঝে মাঝে তাই ওর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। পথশিশুদের মতো ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে। ওদের কী মজা,
-
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে প্রবেশের পর মাঠভর্তি ছাত্রীদের কণ্ঠস্বর ভেসে এল কানে। কলেজের বান্ধবীরা আড্ডায় বাঁধনহারা আনন্দে মশগুল। মাঠের এক প্রান্তে চোখ চলে গেল। তিন-চারজন ছাত্রী হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। তাদের জীবন কলেজের অন্য সব ছাত্রীর জীবন থেকে আলাদা, তারা দৃষ্টিশক্তি থেকে বঞ্চিত। সাধারণভাব তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি। বদরুন্নেসা কলেজের দশজন ছাত্রী দৃষ্টিশক্তিবঞ্চিত। জগতের আলো তাদের জগৎকে আলোকিত করতে না পারলেও, জ্ঞানের আলোয় আমাদের চিরচেনা জগৎ তাদের কাছে পেয়েছে এক রূপ।যারা চোখে দেখতে পায় না তাদের অর্জনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীলতার হাতিয়ার হিসেবে সাদা ছড়ির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিবছর
ক্যাটাগরি
উৎস
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.