-
সাহিত্য-ব্যবসায়ী ও সাহিত্য-সাধক এই দুই শ্রেণীতে যদি পৃথিবীর বিখ্যাত কথা-সাহিত্যিকদের বিভক্ত করা যায় তা হলে শেষোক্ত শ্রেণী-ভুক্তদের একেবারে প্রথম দিকেই বোধহয় ফরাসীদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী গু্যস্তাভ ফ্লোবের-এর (Gustave Flaubert) নাম করতে হবে। ফ্লোবের-এর সাহিত্য-সাধনা সত্যিই বিস্ময়কর। ভগবদ্-সাধক যেমন ঈশ্বরোপাসনার জন্য দৈহিক ভোগসুখ ত্যাগ করে কঠোর সাধনায় মগ্ন থাকেন ফ্লোবের-ও তেমনি তাঁর কথাশিল্পের উৎকর্ষের জন্য অদ্ভুত কৃচ্ছসাধন করে গেছেন। শুধু ‘মাদাম বোভারি’ লেখার জন্যই তিনি পঞ্চান্ন মাস অর্থাৎ প্রায় পাঁচ বছর অমানুষিক পরিশ্রম করেছিলেন। পাঁচশো পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটির দু-এক লাইন লিখতেও অনেক সময় তাঁর একাধিক দিন কেটে গেছে। তার মানে এই নয় যে তিনি সারা দিনে মাত্র এক-আধ লাইন লিখতেন। সকাল
-
ইংল্যাণ্ড যদি শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের জন্য গর্ব করে তা হলে রাশিয়াও শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিকের জন্য গর্ববোধ করতে পারে। টলস্টয় নিঃসন্দেহে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক। তাঁর লেখা ‘ওঅর অ্যাণ্ড পীস’, ‘আনা কারেনিনা’, ‘রেসারেক্শন’ প্রভৃতি উপন্যাস বিশ্বসাহিত্যে বিস্ময়কর অবদান। এর মধ্যে ‘ওঅর অ্যাণ্ড পীস’ সত্যিই অতুলনীয়। এটিকে সার্থকভাবেই ‘এপিক উপন্যাস’ বলা চলে। এক বিরাট ক্যানভাসের ওপর আশ্চর্য দক্ষতার সঙ্গে তিনি যে-সব চিত্ৰ অঙ্কিত করেছেন তা দেখে শুধু মুগ্ধ হওয়া নয়, বিস্মিতও হতে হয়।
এই বৃহৎ ও মহৎ উপন্যাসের বিস্তৃত ক্ষেত্রে প্রায় শ পাঁচেক চরিত্রের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় এবং আশ্চর্য, তাদের প্রায় সকলকেই রক্তমাংসের জীবন্ত মানুষ বলে বোধহয়। কয়েকটি প্রতিনিধিমূলক নারী ও পুরুষ চরিত্রকে বিদেশী আমরাও
-
চিন্তা করো বেশি, বলো অল্প এবং লেখো তার চেয়েও কম।—জন রে
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম কবি কাজী নজরুল ইসলামের, আর তার দুই স্ত্রী নার্গিস ও প্রমীলা হচ্ছেন পূর্ব বাংলার দৌলতপুর ও তেওতার মেয়ে।
প্রথমেই আসে নার্গিস অধ্যায়। এই আলোচনায় যার নাম প্রথমে আসে তিনি হচ্ছেন ঢাকা কলেজ থেকে বিএ পাস করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরের খাঁবাড়ির সন্তান আলী আকবর খান। কাজী নজরুল ইসলাম ও আলী আকবর খান উভয়েই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিক। উভয়ের আশ্রয় তখন কলকাতায়। কাজী নজরুলের আশ্রয় বঙ্গীয় সাহিত্য সমিতির অফিসে। এখানে তাঁর সহবাসী কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এবং সাহিত্য সমিতি পত্রিকার প্রকাশক আফজাল উল হক। পাঠ্যপুস্তক
-
জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় বিয়ে। এর মধ্য দিয়ে নতুন এক অনিশ্চিত, অজানা যাত্রা শুরু হয়। তাই মনে যেমন ভীতি কাজ করে, তেমনি নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন জোগায় এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হলে, যে মানুষটির সাথে সারা জীবন কাটাতে যাচ্ছে, তাকে চেনার সুযোগ আসে বিয়ের পর। প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীকে কিছুটা হলেও আগে থেকে জানার সুযোগ হয়। বিয়ের আগে ও পরের জীবন সম্পর্কে জানতে কথা হচ্ছিল কয়েকজন দম্পতির সাথে।
নীলা ও তন্ময়ের বিয়ের এক বছর হতে চলল। নীলা বলল, বিয়ের বছর দুয়েক আগে থেকেই সে চিনত তন্ময়কে। শিশুদের জন্য পত্রিকা প্রকাশের কাজের সূত্রেই তাদের পরিচয়। দুজনের পছন্দ ও শখ
-
পরিচ্ছেদ ১—দারার কথা
গোলেস্তান
গোলেস্তান! অনেক দিন পরে তোমার বুকে ফিরে এসেছি। আঃ মাটির মা আমার, কত ঠান্ডা তোমার কোল! আজ শূন্য আঙিনায় দাঁড়িয়ে প্রথমেই আমার মনে পড়ছে জননীর সেই স্নেহবিজড়িত চুম্বন আর অফুরন্ত অমূলক আশঙ্কা, আমায় নিয়ে তাঁর সেই ক্ষুধিত স্নেহের ব্যাকুল বেদনা,… সেই ঘুম-পাড়ানোর সরল ছড়া,—
ঘুম-পাড়ানি, মাসি-পিসি ঘুম দিয়ে যেয়ো,
বাটা ভরে পান দেব গাল ভরে খেয়ো!
আরও মনে পড়ছে আমাদের মা-ছেলের শত অকারণ আদর-আবদার! সে মা আজ কোথায়?
দু-এক দিন ভাবি, হয়তো মায়ের এই অন্ধ স্নেহটাই আমাকে আমার এই বড়ো-মা দেশটাকে চিনতে দেয়নি। বেহেশ্ত হতে আবদেরে ছেলের কান্না মা শুনতে পাচ্ছেন কিনা জানিনে, কিন্তু এ আমি
-
[এক নিমেষের চেনা]
বৃষ্টির ঝম-ঝমানি শুনতে শুনতে সহসা আমার মনে হল, আমার বেদনা এই বর্ষার সুরে বাঁধা!…
সামনে আমার গভীর বন। সেই বনে ময়ূরে পেখম ধরেছে, মাথার উপর বলাকা উড়ে যাচ্ছে, ফোটা কদম ফুলে কার শিহরণ কাঁটা দিয়ে উঠছে, আর কীসের ঘন-মাতাল-করা সুরভিতে নেশা হয়ে সারা বনের গা টলছে!…
এটা শ্রাবণ মাস, না?—আহা, তাই অন্তরে আমার বরিষণের ব্যথাটুকু ঘনিয়ে আসছে!—
সে হল আজ তিন বছরের কথা। আমার এই খাপছাড়া জীবন তার স্মৃতিগুলো ঝড়ের মুখে পদ্মবনের মতো ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে! কখনও তার একটি কথা মনে পড়ে, কখনও তার আধখানি ছোঁয়া আমার দাগা-পাওয়া বুকে জাগে! মানস-বনের জুঁই-কুঁড়ি আমার ফুটতে গিয়ে ফুটতে পায়
-
আজহারের কথা
সাহারা মরূদ্যান-সন্নিহিত ক্যাম্প
আফ্রিকা
ঘুম ভাঙল। ঘুমের ঘোর তবু ভাঙল না।… নিশি আমার ভোর হলে, সে স্বপ্নও ভাঙল, আর তার সঙ্গে ভাঙল আমার বুক! কিন্তু এই যে তার শাশ্বত চিরন্তন স্মৃতি, তার আর ইতি নেই। না—না, মরুর বুকে ক্ষীণ একটু ঝরনা-ধারার মতো এই অম্লান স্মৃতিটুকুই তো রেখেছে আমার শূন্য বক্ষ স্নিগ্ধ-সান্ত্বনায় ভরে। বয়ে যাও ওগো আমার ঊষর মরুর ঝরনা-ধারা, বয়ে যাও এমনি করে বিশাল সে এক তপ্ত শূন্যতায় তোমার দীঘল রেখার শ্যামলতার স্নিগ্ধ ছায়া রেখে। দুর্বল তোমার এই পূত ধারাটিই বাঁচিয়ে রেখেছে বিরাট কোনো এক মরুভূ-প্রান্তরকে, তা তুমি নিজেও জান না,—তবু বয়ে যাও ওগো ক্ষীণতোয়া নির্ঝরিণীর নির্মল ধারা,
-
প্রেসিডেন্সি জেল, কলিকাতা
মুক্তি-বার, বেলা-শেষ
প্রিয়তমা মানসী আমার।
আজ আমার বিদায় নেবার দিন। একে একে সকলেরই কাছে বিদায় নিয়েছি। তুমিই বাকি। ইচ্ছা ছিল, যাবার দিনে তোমায় আর ব্যথা দিয়ে যাব না, কিন্তু আমার যে এখনও কিছুই বলা হয়নি। তাই ব্যথা পাবে জেনেও নিজের এই উচ্ছৃঙ্খল বৃত্তিটাকে কিছুতেই দমন করতে পারলুম না। তাতে কিন্তু আমায় দোষ দিতে পারবে না, কেন না তোমার মনে তো চিরদিনই গভীর বিশ্বাস যে, আমার মতন এত বড়ো স্বার্থপর হিংসুটে দুনিয়ায় আর দুটি নেই।
আমার কথা তোমার কাছে কোনোদিনই ভালো লাগেনি। (কেন, তা পরে বলছি), আজও লাগবে না। তবু লক্ষ্মী, এই মনে করে চিঠিটা একটু পড়ে দেখো
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.