সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে
জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় বিয়ে। এর মধ্য দিয়ে নতুন এক অনিশ্চিত, অজানা যাত্রা শুরু হয়। তাই মনে যেমন ভীতি কাজ করে, তেমনি নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন জোগায় এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হলে, যে মানুষটির সাথে সারা জীবন কাটাতে যাচ্ছে, তাকে চেনার সুযোগ আসে বিয়ের পর। প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীকে কিছুটা হলেও আগে থেকে জানার সুযোগ হয়। বিয়ের আগে ও পরের জীবন সম্পর্কে জানতে কথা হচ্ছিল কয়েকজন দম্পতির সাথে।
নীলা ও তন্ময়ের বিয়ের এক বছর হতে চলল। নীলা বলল, বিয়ের বছর দুয়েক আগে থেকেই সে চিনত তন্ময়কে। শিশুদের জন্য পত্রিকা প্রকাশের কাজের সূত্রেই তাদের পরিচয়। দুজনের পছন্দ ও শখ মিলে যাওয়ায় তারা একজন আরেকজনকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। এখন তারা দুজনই চাকরিজীবী। নীলা বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ের চাপ থাকায় সম্পূর্ণ অচেনা একজনকে জীবনসঙ্গী করার চেয়ে কাছের বন্ধুটিকে জীবনসঙ্গী করার ব্যাপারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি। যখন পরিবার থেকে নানা পাত্র দেখা শুরু হলো, বুঝতে পারলাম আমার জীবনসঙ্গী আমাকেই খুঁজতে হবে। যে আমাকে বুঝবে, আর আমি যাকে বুঝব। পরিবার থেকে আমাকে কখনোই বাধা দেওয়া হয়নি বরং সব সময় বলা হয়েছে নিজের পছন্দমতো বন্ধু খুঁজে বের করতে। তাই পরিবারকেও ওর কথা বলেছি। বিয়ের আগে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে। একজন নারীর জন্য অনার্স-মাস্টার্স পড়ার শেষ সময়ে বিয়ের এই সামাজিক চাপ খুবই কঠিন। অনেক সময় তা একজন নারীকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য করে। এই ধারার পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে বিয়ে মানেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার জীবন। তাই তা সফল করতে দুই পক্ষের ছাড় প্রয়োজন হয়। বিয়ের আগেই তাই এ ছাড়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি দরকার।
বিয়ের সময়ের আনুষ্ঠানিকতাগুলো একজন নারীর জন্য পালন করা বেশ কঠিন। আশপাশে সবার আনন্দ হলেও বিয়ের সময় কনের মন সব সময়ই থাকে উদ্বেগে পূর্ণ। অনেক সময় মানুষ নারীর সেই দুর্বলতাকে উপভোগ করে, যেটি খুব কষ্টকর। তাকে সাহস না দিয়ে তার সেই যাত্রাপথকে আরও কঠিন করে তোলে। এটি কখনোই উচিত নয়। ...বিয়ের পর চলতে গিয়ে দুজন দুজনকে নতুন করে বুঝেছি, এখনও বুঝছি। হয়তো এই বোঝার প্রক্রিয়া সারা জীবন ধরেই চলবে, কারণ মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল।
রাজীব ও শম্পা বিয়ের পরও এখনো প্রচলিত ধারায় একসাথে থেকে সংসার করতে পারেনি। তাদের পরিচয় ইন্টারনেটে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যে সময় পরিচয়, তারা দুজনই আমেরিকার দুই স্টেটে মাস্টার্স করছেন। ভবিষ্যতে দুজনেরই পিএইচডির ইচ্ছা আছে এবং পিএইচডি শেষে দেশে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে চান। এসব মিল থেকে মনে হয়েছে তারা একজন আরেকজনকে বুঝতে পারবেন। কিন্তু বিয়ের জন্য তাদের অবস্থান ছিল খুবই অনিশ্চিত। কারণ, দুজন দুই স্টেটে হওয়ায় কারও পক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন সম্ভব ছিল না। তাহলে তাদের পিএইচডির স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তাই বলে কি এ সম্পর্ক থেমে থাকবে? তাই বছর দেড়েক আগে ঢাকায় পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। শম্পা বলেন, বিয়ের পর আলাদা থাকলেও প্রযুক্তির সাহায্যে দুজন দুজনকে সারাক্ষণ সঙ্গ দিচ্ছি। বছরজুড়ে আমাদের ছুটির দিনের জন্য অপেক্ষা। ছুটির সময় হলে ও চলে আসে আমার স্টেটে, নাহয় আমি যাই ওর স্টেটে। যদিও ড্রাইভ করে যেতেও আমাদের প্রায় ঘণ্টা ছয়েক লাগে। তাই সম্পূর্ণ সংসার জীবনকে উপলব্ধি করতে পারিনি, তবে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। আমাদের পিএইচডি শেষ হতে আরও বছর দুই লাগবে। তাই এভাবেই সামনের দিনগুলো কাটবে।
শাওন ও চৈতীর বিয়েকে বলতে হয় প্রকৃত প্রেমের বিয়ে। বিয়ের প্রায় ছয় বছর আগে তাদের পরিচয়। শাওন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্টের ছাত্র আর চৈতী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments