-
ভূমিকা
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত "নিউ এজ মাসিক" (NEW-AGE Political Monthly of the Communist Party of India. Edited by Ajoy Ghosh and Published from 7/4 Asaf Ali Road, New Delhi-1.) পত্রের সম্পাদক কমরেড অজয় ঘোষ ও সঞ্চালক কমরেড মোহিত সেন আমায় অনুরোধ করেন যে, আমি যেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার প্রথম যুগ সম্বন্ধে আমার স্মৃতি বিজড়িত (Reminiscent) একটি প্রবন্ধ লিখি। কমরেড মোহিত সেন এই অনুরোধ জানান যে লেখাটি যেন তিন হাজার শব্দের বেশি না হয়। আমার মতো লেখকের পক্ষে এই রকম একটি লেখা তিন হাজার শব্দের বাঁধনের ভিতর তৈয়ার করা খুবই কঠিন কাজ। তবুও আমি চেষ্টা করেছি। তবে আমার মনে হয়
-
আঠারো শতকে বস্তুবাদের পরে জার্মানিতে জন্ম লইল ভাববাদ ইহাকে সাধারণত বলা হয় স্পেকুলেটিভ ফিলসফি। হেগেল এই দর্শনের জন্মদাতা। বস্তুবাদী অপেক্ষা ভাববাদীদের বিচার পদ্ধতি উন্নততর ছিল। বস্তুবাদীরা সকল বস্তুকেই মনে করিত অপরিবর্তনীয়। এই শ্রেণীর দার্শনিকেরা বস্তুর পরিবর্তনকে স্বীকার না করিয়াই তত্ত্ব-নির্মাণ করিত। কিন্তু যে ভাববাদের কথা আমরা উল্লেখ করিলাম তাহা বস্তু এবং তথ্যকে বিচার করিল অন্যদৃষ্টিতে। ভাববাদীরা তাহাদের বিচারে লক্ষ্য রাখিত বস্তুর উদ্ভব, বিকাশ এবং বিনাশের দিকে। বস্তুবাদী দার্শনিকেরা সকল জিনিসকেই ভাবিত অজড়, অনড়, সকল জিনিসেরই যে রূপান্তরের সম্ভাবনা থাকিতে পারে তাহা ইহারা বুঝিয়া উঠিতে পারি না। বস্তুবাদীদের এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিচাররীতি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করিলেন ঊনবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ভাববাদী দার্শনিকেরা সকল
-
ভূমিকা
১৯৯০-এর দশকে কিছুটা আগে-পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের বিদ্যমান সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে বিস্ময়কর দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এসব দেশে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে এবং নিকৃষ্ট পুঁজিবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটে। কেউ কেউ যাকে “ মাফিয়া পুঁজিবাদ” হিসাবে অভিহিত করেছেন। এই দিক থেকে অনেক প্রগতিশীলই একে প্রতি বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারো কারো মতে অবশ্য এই পরিবর্তন ছিল “মন্দ” থেকে অধিক “মন্দে” পরিবর্তন। তারা আমলাতান্ত্রিক সোভিয়েত সমাজতন্ত্রকে ভালো বলতে নারাজ। পরিবর্তনের প্রকৃতি যাই হোক না কেন প্রগতিশীল আদর্শিক জগতে এর একটি বিরাট বিরূপ প্রভাব পড়ে। দেশে দেশে বিপ্লবী আন্দোলন প্রবল আদর্শিক আক্রমণের সম্মুখীন হয়। ঘোষণা করা হয় যে,
-
২৮শে এপ্রিল (১৯৬৬) রাত্রিবেলা আমি দমদম সেন্ট্রাল জেলে পুলিসের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ আফিস হতে সেন্সর হয়ে আসা একখানা পত্র পাই। ২৩ শে এপ্রিল তারিখের এই পত্রখানা ছিল আমাকে লেখা আব্দুল হালিমের শেষ পত্র। তাতে সে আমায় জানিয়েছিল যে ১৮ই এপ্রিল, রাত্রিবেলা সে কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেল হতে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফিরেছে এবং “আমরা প্রত্যেক দিনই আপনাদের মুক্তির প্রতীক্ষা করছি।” ২৯ শে এপ্রিল (১৯৬৬) সকাল বেলা চা খাওয়ার পরে আমরা দৈনিক খবরের কাগজ পড়া শেষ করেছি, আমাদের কোনো কোনো সহবন্দী স্নান করতে গেছেন,—এমন সময়ে জেল অফিস হতে হঠাৎ বজ্রাঘাতের মতো দুঃসংবাদ এলো যে আব্দুল হালিম আর নেই। সেদিন ভোরে আকস্মিকভাবে তার হৃদয়ের স্পন্দন
-
নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে কাজ করার পর ১৯৬৭ সালে আমি গ্রেপ্তার হই এবং ১৯৬৯ সালের মহান গণ-অভ্যুত্থানের সময় জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার এবং অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি দেশের আনাচে কানাচে ধ্বনিত করে তোলে, সেই পটভূমিতে ফেব্রুয়রি মাসে আমরা মুক্তি পাই। কিন্তু সামরিক শাসন জারি ও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসার পর ১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে আমাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয় । ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর বন্দীরা রাজশাহী জেল ভেঙ্গে আমাকে বের করে নেয়ার আগে পর্যন্ত আমি আটক ছিলাম। কাজেই উল্লিখিত সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে পার্টি ও জনগণের রাজনৈতিক সংগ্রামে
-
ইতিহাসকে বদলায় জনগণের অপ্রতিরোধ্য প্রাণশক্তি, তার উদ্বোধন করেন যারা তাঁরাই হয়ে ওঠেন ইতিহাসের প্রাণপুরুষ। কিউবা-বিপ্লবের অন্যতম নায়ক চে গুয়েভারা তেমনি একটা যুগের ঐতিহাসিক পুরুষ। বুর্জোয়ারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, এবং ভক্তরা ভক্তির আতিশয্যে চে'র ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে কিংবদন্তীর আড়ালে ঢাকতে চেয়েছে। তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা যা হয়েছে সবই কিউবা বিপ্লবের পর থেকে, বিপ্লবী হিসেবে তাঁর গড়ে ওঠাকে করা হয়েছে অস্বীকার। চের জীবনালেখ্য রচনার উদ্দেশ্যে নয়, কিংবদন্তীর আড়ালের প্রকৃত মানুষটির পরিচয় পাওয়ার জন্য এই আলোচনা ।
আর্জেন্টিনার এক স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্নেস্টো গুয়েভারা নামের এই ছেলেটি জন্মাবধিই দুঃসহ হাঁপানীতে কষ্ট পেত। তাই বোধহয় তার নিরন্তর প্রয়াস ছিল দৈহিক বাধাকে ছাড়িয়ে ওঠার, প্রলোভন ছিল কঠোর পরিশ্রমের
-
লেখক: রঞ্জন ধর
আমাদের মণিদা,কমরেড মণি সিংহ, আর ইহজগতে নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর জীবনের অবসান ঘটল। মণিদা নেই, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন তাঁর দ্বারা সুদীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত কৃষক সংগ্রাম ও কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার এক ইতিহাস।
চল্লিশ দশকের যুক্ত বাংলার কৃষকদের মধ্যে, বিভিন্ন জেলায়, দেখা দিয়েছিল এক অপ্রতিরোধ্য শ্রেণী সংগ্রামের জোয়ার। ময়মনসিংহ জেলায় এই সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন মণি সিংহ। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন কারামুক্ত একদা সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীরা যাঁদের অধিকাংশ এই জেলায় কারামুক্তির পর যোগ দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। চল্লিশ দশকের আগে জমিদার ও জোতদার প্রধান এই জেলায় কৃষক আন্দোলন বলতে কিছু ছিল না। আন্দোলন গড়ার পিছনে ছিল
-
অগ্রগমনের স্তরে, নিজেকে ক্রমশ বদল করতে করতে, এক ব্যাপকতর সামাজিক চৈতন্যময়তায় সংযুক্তি লাভ করে শিল্প—এইরকমই এক অনুভবের মধ্যে মার্কসবাদ ও কমিউনিজমে বিশ্বাসী সমস্ত শিল্পীদের শিল্পচেতনা চিরকাল ভর পেয়ে এসেছে। এই বিশ্বাসের মধ্যেই তাঁদের নতুন বাস্তবচেতনার আশ্রয়, এর মধ্যেই তাঁরা খুঁজে নেন তাঁদের শিল্পসৃষ্টির অন্বিষ্টকে, যদিও এই বাস্তবতার চরিত্র ও মাত্রা সময়ের বিবর্তনে বদলে যায়। তাই পোশাক বদলের সঙ্গে সঙ্গে আভ্যন্তরীণ শিল্পকাঠামো নতুন নাড়ীর স্পন্দনে জেগে ওঠে, তাপ ও নিশ্বাস গ্রহণের পালাবদলের মধ্যে তার সম্পূর্ণ অবয়বটি ধরা দিতে থাকে তখন, আরো বিস্তৃত কোনো সংযুক্তির তাগিদে ৷ রাস্তবতা সম্পর্কে এই জাতীয় বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ লক্ষ করা যাবে মেক্সিকোর ম্যুরাল শিল্পী ডেভিড সেকেরাসের
-
আমার বিশ্বাস, অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন এমন ব্যক্তির পক্ষে সমাজতন্ত্র সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে যাওয়া নানাকারণেই ঠিক নয়।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা প্রথমে বিবেচনা করা যাক। মেথোডলজির (Methodological) দিক থেকে, মনে হয়, জ্যোতির্বিদ্যা ও অর্থনীতির মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই, উভয় ক্ষেত্রেই বৈজ্ঞানিকগণ সন্নিবিষ্ট ঘটনাবলীর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র আবিষ্কারের জন্য সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য এমন কতগুলো সূত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করেন, যাতে বিষয়টা যতদূর সম্ভব সহজবোধ্য হয়ে ওঠে। বাস্তবক্ষেত্রে কিন্তু পদ্ধতিগত পার্থক্য থেকেই যায়। পর্যবেক্ষিত অর্থনৈতিক ঘটনাবলী প্রায়শই এমন কতগুলো কারণ দ্বারা প্রভাবান্বিত, যেগুলোর পৃথক পৃথক মূল্যায়ণ প্রায় অসম্ভব। এমন ক্ষেত্রে অর্থনীতির সাধারণ সূত্রাবলীর আবিষ্কার কঠিন হয়ে পড়ে। অধিকন্তু, মানব-ইতিহাসের তথাকথিত
-
মস্কো শহরের মাঝখানে ক্রেমলিনের কাছাকাছি তিনতলা একটা বাড়ি। বাড়িটা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন কেন্দ্রীয় স্মৃতি-সৌধ ৷ এখানে দেখতে পাওয়া যাবে মহান নেতা লেনিনের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, তাঁর নিজের লেখা বইয়ের প্রথম সংস্করণ, যে-সব বই তিনি পড়তেন, কাজে লাগাতেন সেই বই গুলি। আর তারই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—ফটো, ছবি, মূর্তি, দলিলপত্র। এর প্রত্যেকটি জিনিস দেখলেই মনে হবে কি এক অদ্ভুত অপূর্ব মানুষই না ছিলেন দুনিয়ার প্রথম সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা লেনিন ৷
হাজার হাজার জিনিসের প্রদর্শনী। প্রত্যেকটি জিনিসের পেছনেই রয়েছে তার নিজস্ব কাহিনী। ঐতিহাসিক দলিলপত্রের ভিতরে রয়েছে ভারতবাসীদের পাঠানো একখানা অভিনন্দপত্র। আবছা হয়ে এসেছে লেখা। কালি মুছে আসা বিবর্ণ সেই কাগজখানার দিকে তাকালেই
-
“একটা ভাল ফিল্ম-স্টুডিয়ো তৈরি করা এমন কিছু কঠিন নয়। কিন্তু একটা ভাল ফিল্ম তৈরি করা খুবই কঠিন। বিষয় আর নির্মিতির অভাব ভাল স্টুডিয়ো আর ভাল যন্ত্রপাতি দিয়ে মেটানো যায় না। শিল্পের মানে শিল্পই। কোনো কিছুই শিল্পের বিকল্প নয়। রাজনীতি দিয়ে শিল্পের কাজ হয় না। নতুন যন্ত্রপাতি দিয়েও হয় না। রাজনীতি দিয়ে শিল্পের কাজ সারতে গেলে শুধু শ্লোগান-বানানো হয়। যন্ত্রপাতি দিয়ে শিল্পের কাজ সারতে গেলেও ভাল কিছু হয় না। মানবজমিনই, হচ্ছে আসল কথা।
‘(শিল্প) প্রতিভার বিকাশ অত সহজ কাজ নয়, দু-এক বছরে এ কাজ হয়, না, এর জন্যে ধৈর্য দরকার। ...শিল্পীদের বেশি খাটানো কখনোই উচিত নয়। শিল্পীদের পক্ষে রাতদিন খাটা সম্ভব
-
অবশ্য ইতিমধ্যেই আমরা ইসলামী দুনিয়ার কথ। শুনতে পাচ্ছি। বাংলাদেশও সেই ইসলামী দুনিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন সেই ঘনিষ্ঠতাকে আরো ব্যাপক করে তুলছে। কিন্তু কোন্ ভিত্তির উপর এই ঘনিষ্ঠতা? কোন্ সূত্র ধরে এই ইসলামী মৈত্রী বন্ধন গড়ে উঠেছে? এ কি শুধু ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী স্বপ্ন? বাস্তব জীবনের সমস্যার সাথে এর কি কোনো যোগ নেই? যদি তাই হয়, তা হলে তো ইসলাম এখানে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে গৃহীত হয়নি। আর যদি হয়েই থাকে, তা হলে তার স্বরূপ কী? সে কি শোষণ অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে, না পক্ষে? শুধু ইসলামী সংস্থা, ইসলামী ব্যাংক আর ইসলামী সম্মেলন তো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনা।
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- আব্দুল কাইয়ুম (১)
- আলবার্ট আইনস্টাইন (১)
- আহমদ রফিক (১)
- এম আর আখতার মুকুল (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (১)
- এম এম আকাশ (২)
- এমদাদুল হক মিল্লাত (১)
- কে জি মুস্তফা (১)
- গোলাম সামদানী কোরায়শী (৪)
- তপন কুমার দে (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া (১)
- নিতাই দাস (১৪)
- প্রক্রিয়াধীন (১০)
- বিকাশ সাহা (২)
- মওলানা হোসেন আলী (১)
- মণি সিংহ (২)
- মানস (১)
- মুজফ্ফর আহমদ (৬)
- মোহাম্মদ ফরহাদ (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (৪)
- রেবতী বর্মন (৪)
- শাহীন রহমান (১)
- সত্যেন সেন (৪)
- হায়দার আকবর খান রনো (২)
- হালিম দাদ খান (১)
- হাসান তারেক (২)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.