-
[ঋত্বিক ঘটক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম—যিনি শুধু পরিচালক নন, বরং শিল্পচেতনা, সমাজচেতনা ও মানবিকতার গভীর অনুসন্ধানী। তাঁর সাক্ষাৎকারে আমরা পাই চলচ্চিত্রের প্রাচীন ও আধুনিক ধারা নিয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, অভিনয়ের দর্শন ও সমাজের প্রতি সিনেমার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অকপট মতামত। প্রমথেশ বড়ুয়ার সৃজনশীলতা থেকে শুরু করে Eisenstein, Godard কিংবা Resnais-এর চলচ্চিত্রভাষা পর্যন্ত ঘটকের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ও প্রখর। এই সাক্ষাৎকার পাঠককে শুধু চলচ্চিত্রের কারিগরি ও নন্দনতত্ত্ব নয়, বরং শিল্পের সত্যনিষ্ঠতা ও সমাজসচেতনতার গভীর আলোচনায় নিয়ে যায়।
এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকারের ভূমিকা পাঠককে ঘটকের চিন্তাজগতের দরজায় পৌঁছে দেয়—যেখানে সিনেমা হয়ে ওঠে সময়ের আয়না, আর শিল্প হয়ে ওঠে মানুষের সত্য ও সৌন্দর্যের
-
প্রথমে দেখা যাক, আধুনিক চিত্রকলা বলতে পারা যায় কাকে? এ ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তিকে ধরে এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। “শেষ সপ্তক” কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতায় বলেছেন,
জগতে রূপের আনাগোনা চলেছে
সেই সঙ্গে আমার ছবিও এক একটি রূপ
অজানা থেকে বেরিয়ে আসছে জানা দ্বারে
এরা প্রতিরূপ না।
রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবিগুলিকে তাঁর এই উক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে আমরা প্রথমে চিত্রকর রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে পারি এবং তারপরে আধুনিক চিত্রকলার মর্ম কথাটতেও পৌঁছতে পারি। রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবি দেখে যেকথা প্রথমেই মনে হয় সেটা এই যে, পঞ্চভূতের রামধনু-দুনিয়া তাঁর তুলির পোঁচে পোঁচে হয়েছে কিম্ভূত। শুধু তাই নয়, ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থের গদ্য-কবিতাগুলিতে যাখন রবীন্দ্রনাথ পারিপার্শ্বিকের এবং প্রতিবেশীদের অবিকুল
-
[তৎকালীন অস্ট্রিয়ার কোমোটাউ অন্চলের এক সৈনিক পরিবারে ১৮৯৯ সালে ফিশার জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম মহাযুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তবে মূলত ছিলেন দর্শনের ছাত্র ও সাংবাদিকতায় অনুরাগী। কমুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন ১৯৩৪ সালে। ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কালে, অস্ট্রিয়ায় অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন। কিছু সময় ওই সরকারে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৫৯ সালের পর থেকে সম্পূর্ণরূপে সাহিত্যসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ওই বছরই প্রকাশিত হয় শিল্প-সমালোচনামূলক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ the Necessity of Art। মার্কসবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত এই বইয়ে তিনি কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করেছেন—কেন শিল্পী বিশেষ পদ্ধতিতে আঁকেন, উপন্যাসবিচারের মাপকাঠি কি হবে, বা শিল্পকলাই বা কি? জার্মান ভাষায় রচিত উক্ত পুস্তকটি প্রকাশের পর থেকে
-
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের চল্লিশ বছরের চিত্র সাধনায় যবনিকা পড়ে গেল। বাঙলাদেশের এই ক্লান্তিহীন শিল্পী তাঁর কর্মক্ষেত্র ঢাকায় তাঁর সমাপ্ত ও অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের নানাধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাঝখানটিতে চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে পড়লেন। মৃত্যুর কারণ ফুসফুসে ক্যানসার। চার বছর আগে স্ট্রোকে তাঁর জীবনসংশয় হয়েছিল। তাঁর কব্জি এবং আঙুল ভিতরে ভিতরে জখম হয়েছিল। কিন্তু অনেক কাজ পড়ে আছে এবং সাধারণভাবে বাঙলাদেশের ছবি আঁকার সাধনায় যারা নেমেছে, তাদের লড়াইকে এগিয়ে নেবার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে নিজস্ব ছবি আঁকার পদ্ধতিকে আরো কঠিন ভাবে সামলে জানতে হবে—এই তাগিদ তাঁকে সহায়তা করেছিল অরোগ্যের সংগ্রামে। তিনি জয়ী হয়েছিলেন বলা যেতে পারে। নতুন শক্তি ঢেলে তিনি ছবির পর ছবি
-
[ঋত্বিক ঘটক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম—যিনি শুধু পরিচালক নন, বরং চিন্তাশীল শিল্পী ও দার্শনিকও বটে। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিল্পের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা এবং মাধ্যমের সীমা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরন্তর অনুসন্ধান। এই সাক্ষাৎকারে তিনি চিত্রনাট্য ও নাটকের মৌলিক পার্থক্য, সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরের জটিলতা, এবং শিল্পীর স্বাধীন সৃষ্টিশীলতার প্রশ্ন নিয়ে অকপটভাবে মত প্রকাশ করেছেন। পাঠকের কাছে এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার অন্তর্নিহিত দর্শনকে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান।—বাংলাপুরাণ]
প্রশ্ন: আপনার মতে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও নাটকের মধ্যে প্রকৃতিগত ও শৈলীগত পার্থক্য কতটুকু এবং কোথায়?
উত্তর: পার্থক্য অনেক। মূলত মাধ্যমের বি-সমতাই এই
-
জাতীয় মুক্তি-সংগ্রামে শিল্প : চীনের কাঠখোদাই
এক
আধুনিক জার্মানীর বোধহয় সবচেয়ে বড় শিল্পী ছিলেন শ্রীমতী কেটি কোল্ভিজ—নিজের শিল্পীজীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যিনি ছবি এঁকে নির্মম সততার সঙ্গে প্রকাশ করে গেছেন অত্যাচার আর অবিচারের বিরুদ্ধে জার্মান জনতার সংগ্রামের কথা শোষকশ্রেণীর বিরুদ্ধে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি কাল ধরে জার্মানীর সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিরোধের ইতিহাস কেটি কোল্ভিজ-এর কাঠখোদাই-এচিং-লিথোগ্রাফ ইত্যাদিতে বিবৃত হয়ে আছে। কোল্ভিজ ছিলেন প্রধানত গ্রাফিক-শিল্পী—সামাজিক অত্যাচারের স্বরূপ উদ্ঘাটন আর তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ হিসেবে শিল্পকে ব্যবহার করা—এই ছিল তাঁর শিল্পীজীবনের লক্ষ্য। এবং এর জন্য তাঁকে মূল্য দিতে হয়েছিল, নিজের জীবনের মূল্য। কোল্ভিজ, কমিউনিস্ট ছিলেন না, কিন্তু তাঁর মহৎ শিল্পীজনোচিত সততা তাঁকে এনে
-
আমাদের এই বিংশ শতাব্দী এবং বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকাল সমাজতন্ত্রের তথা সাম্যবাদের অভ্যুদয়ের উদয়াচল। অপরদিকে এই শতাব্দী ধনিকতন্ত্রের অস্তমিত হওয়ার কাল। এই কালসন্ধিতে সর্বদেশের শিল্পী সাহিত্যিকদের জীবন ও সাধনা পরস্পরবিরোধী আকর্ষণ বিকর্ষণের লীলাভূমি হতে বাধ্য। শিল্পীচিত্রের স্বাতন্ত্র্যবোধ ও সর্বজনীনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও দায়িত্বশীলতা এই শতাব্দীর শুরু থেকেই নতুন কালের রসায়নের ভাণ্ডে কখনো অপূর্ব বর্ণবিভাময় নব উপাদান গড়ে তুলেছে, কখনো ধুম্রবহ্নি সমন্বিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের প্রতিভার জন্য ডেকে এনেছে বিপর্যয়, কিংবা সৃষ্টিকে করেছে অনাসৃষ্টি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে সোভিয়েট ইউনিয়নের বোরিস পাস্তারনাক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের লেখক-জীবনের বিস্ফোরিত গতি পরিণতি এই দ্বন্দ্বের লীলাভূমিকে প্রকট করে দেখিয়েছে।
-
[নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের এই সাক্ষাৎকারটি বাংলা চলচ্চিত্রচর্চার ইতিহাসে এক অনন্য দলিল। এখানে তিনি চলচ্চিত্রের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, শিল্পগত উৎকর্ষ, সাহিত্যনিরপেক্ষতা, এবং নিজের নির্মাণ-প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর উত্তরগুলো শুধু ব্যক্তিগত মতামত নয়—চলচ্চিত্রের দর্শন, দর্শকের রুচি, এবং শিল্পের অন্তর্নিহিত জটিলতা নিয়ে এক অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা। চ্যাপলিন থেকে ‘পথের পাঁচালী’, ফ্ল্যাহাটি থেকে আইজেনস্টাইন—ঘটক তাঁর উত্তরগুলোতে তুলে এনেছেন বিশ্বচলচ্চিত্রের নানা দৃষ্টান্ত, যা পাঠককে ভাবায়, প্রশ্ন তোলে, এবং চলচ্চিত্রকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। এই সাক্ষাৎকারটি শুধু পরিচালনার প্রশ্নোত্তর নয়, বরং চলচ্চিত্রের গভীরতর সত্যের সন্ধান।—বাংলাপুরাণ]
প্রশ্ন: আপনার মতে অর্থনৈতিক দিক বজায় রেখে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসৃষ্টি সম্ভব কি না?
উত্তর: সম্ভব। অবশ্য উল্লেখযোগ্য চিত্রনির্মাণ
-
দুর্ভাগ্যের কথা হলেও সত্য যে, প্রায় আদিকাল থেকেই শিল্পসাহিত্যের মার্কসবাদী দৃষ্টি ভ্রান্তি ও বিচ্যুতির মধ্যে যতটা প্রকাশ্য, তার সঠিক ও নির্ভুল ব্যবহারে ততটা নয়। আমরা ভিত ও ওপরতলার উপমাসূত্রে বস্তুজীবন ও শিল্পসাহিত্যমনের পরোক্ষ, জটিল ও দূরান্বয়ী সম্পর্কের কথা বলাবলি করেছি অনেক—কিন্তু কার্যত শিল্পসাহিত্যের বিচারে সেই ভারসাম্যের প্রমাণ রেখেছি সামান্যই। শুধু স্তালিন যুগের ঝ্দানভীয় অন্ধতাকে দোষ দিলে কী হবে, স্বয়ং মার্কস বা এঙ্গেলসকেও তো অনেক সাবধানবাণী উচ্চারণ করে যেতে হয়েছে, নিজেদেরই আবিষ্কৃত তত্ত্বের ভ্রান্ত প্রয়োগের জন্য খেদ করতে হয়েছে। আর এখনও পর্যন্ত, অনেক ঠেকে, অনেক জেনেও, মার্কসীয় শিল্পতত্ত্বের প্রথম ভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি দেশে দেশে।
আমাদের দেশের অভিজ্ঞতাতেই আসা যাক। এখনও, এমন কী
-
এক
জয়নুল আবেদিন সাহেবের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় কলকাতার সরকারী আর্ট স্কুলে। তখন দেশ ভাগ হয়নি। ১৯৪৫ সালে আমি প্রথম বর্ষে আর্ট স্কুলে ভর্তি হই এবং শিক্ষক হিসাবে তাঁকে পাই। আর্ট স্কুলে ভর্তি হবার আগেও আমরা অনেকে তাঁকে নামে চিনতাম। ১৩৫০ এর দুর্ভিক্ষের বাস্তব রূপ চিত্রিত করে তিনি কলকাতা শহরে তখন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। শহরের রাস্তায় অন্নের খোঁজে কঙ্কালসার মানুষের মিছিল, তাঁদের হাহাকার, মৃত্যুর ভয়াবহতা, তাঁর সপাট রেখা নির্ভর সৃষ্টিগুলোতে বিশিষ্ট রূপে পড়েছিল। জয়নুল আবেদিনের মতো একজন খ্যাতিমান শিল্পীকে শিক্ষক হিসাবে পাওয়া আমাদের অনেকের কাছেই ছিল কল্পনাতীত।
দ্বিতীয়বার জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে আমি ঘনিষ্ট সংস্পর্শ আসি ১৯৫০ সালে ঢাকায় সরকারী আর্ট
-
অগ্রগমনের স্তরে, নিজেকে ক্রমশ বদল করতে করতে, এক ব্যাপকতর সামাজিক চৈতন্যময়তায় সংযুক্তি লাভ করে শিল্প—এইরকমই এক অনুভবের মধ্যে মার্কসবাদ ও কমিউনিজমে বিশ্বাসী সমস্ত শিল্পীদের শিল্পচেতনা চিরকাল ভর পেয়ে এসেছে। এই বিশ্বাসের মধ্যেই তাঁদের নতুন বাস্তবচেতনার আশ্রয়, এর মধ্যেই তাঁরা খুঁজে নেন তাঁদের শিল্পসৃষ্টির অন্বিষ্টকে, যদিও এই বাস্তবতার চরিত্র ও মাত্রা সময়ের বিবর্তনে বদলে যায়। তাই পোশাক বদলের সঙ্গে সঙ্গে আভ্যন্তরীণ শিল্পকাঠামো নতুন নাড়ীর স্পন্দনে জেগে ওঠে, তাপ ও নিশ্বাস গ্রহণের পালাবদলের মধ্যে তার সম্পূর্ণ অবয়বটি ধরা দিতে থাকে তখন, আরো বিস্তৃত কোনো সংযুক্তির তাগিদে ৷ রাস্তবতা সম্পর্কে এই জাতীয় বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ লক্ষ করা যাবে মেক্সিকোর ম্যুরাল শিল্পী ডেভিড সেকেরাসের
-
প্রেমচন্দের এই প্রবন্ধটি প্রেমচন্দের শেষ রচনা, মৃত্যুর দু'মাস আগে লেখা। তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যা “হংস” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। নিবন্ধগুলির মধ্যে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি পড়লে বোঝা যায়, প্রেমচন্দ, কত দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদের স্বরূপ বুঝতে পেরেছিলেন ও সোভিয়েট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল্য বিচার করে তাকে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। সেজন্য এই নিবন্ধটি প্রেমচন্দের টেস্টামেন্ট ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরোধিতার বলিষ্ঠ সাক্ষ্য।
“মজুদ এ দিল মসীহা নফ্সে মী আয়দ;
কি জ অনফাস খুশশ বুএ একসে মী আয়দ। "
[“হৃদয়, তুই প্রসন্ন হ—মুক্তিদাতা তোর দিকে এগিয়ে আসেন সশরীরে, দেখিস্ নাকি জনতার নিঃশ্বাসে কার সুগন্ধ ভেসে আসে।”]
সামন্ততান্ত্রিক সভ্যতায় মজবুত শরীর আর বলিষ্ঠ
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.