-
মুমূর্ষু ধনতন্ত্রের জঘন্য বিকাররূপে যখন ফ্যাসিজমের উদ্ভব ঘটেছিল, তখন থেকেই সকল দেশের মুক্তিকামী, সকল দেশের জনসাধারণ, তাকে নিজেদের পরম শত্রু বলে মনে করে এসেছে।
আসন্ন বিপ্লবের আশংকায় দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদ এই ফ্যাসিজমের শক্তিবৃদ্ধিতে সাহায্য করে এসেছে। এশিয়ায় জাপানকে, আফ্রিকার ইতালিকে, ইয়োরোপে জার্মানিকে ইংরেজ-ফরাসী-আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ উৎসাহ দিয়েছে, সাহায্য করেছে, ছলে বলে কৌশলে দেশের জনসাধারণের ফ্যাসিজম-বিরোধকে নিষ্ফল করে দিয়েছে, আর বকধার্মিকের মতো নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে পরিচয় দেবার চেষ্টা করে এসেছে।
এর কারণ ফ্যাসিজমের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সাম্রাজ্যবাদ যে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত ছিল, ফ্যাসিজমের দংশনভয় যে তার ছিল না, তাও নয়। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের ভরসা ছিল ফ্যাসিস্টরা প্রথমে আক্রমণ করবে দুনিয়ার মালিকদের চক্ষুশূল সোভিয়েত ভূমিকে।
-
কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রয়োদশ প্লেনাম সঠিকভাবেই শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদকে সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল, সবচেয়ে জাতিদাম্ভিক এবং লগ্নী পুঁজির সবচেয়ে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিভূর প্রকাশ্য সন্ত্রাসবাদী একনায়কত্ব বলে বর্ণনা করেছিল।
সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধরনের ফ্যাসিবাদ হল জার্মান ফ্যাসিবাদ। এর নিজেকে জাতীয় সমাজতন্ত্র বলে অভিহিত করায় ধৃষ্টতা রয়েছে, যদিও সমাজতন্ত্রের সঙ্গে এর কোনই মিল নেই। হিটলারের ফ্যাসিবাদ শুধুমাত্র বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ নয়, এ হল পাশবিক জাতিদম্ভ। এ হল রাজনৈতিক দস্যুতার এক শাসনব্যবস্থা, শ্রমিকশ্রেণী, কৃষক, পেটি বুর্জোয়া ও বুদ্ধিজীবীদের বিপ্লবী অংশের বিরুদ্ধে প্ররোচনা ও নির্যাতনের ব্যবস্থা। এ হল মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও পাশবিকতা, অন্যান্য জাতিদের সম্পর্কে বল্গাহীন আক্রমণ।
জার্মান ফ্যাসিবাদ আন্তর্জাতিক প্রতিবিপ্লবের উদ্যত খড়গ হিসাবে, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের প্রধান প্ররোচক
-
স্মরণে রাখার মতো অন্য একটি ঘটনা হল, ফ্রন্ট থেকে তিন-চার মাইল দূরে শহরে এক অংশ আধুনিক অস্ত্র ও কামানের গোলায় বিধ্বস্ত ট্যামবভ স্ট্রীটের একটি স্কুলবাড়ি পরিদর্শন। এটি পরিচালনা করতেন টিকোমিরভ নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তি, যিনি ‘সোভিয়েত দেশের অন্যতম একজন ভালো শিক্ষক’ এই সুনাম অর্জন করেছিলেন। মাত্র ১৯০৭-এ একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। চরম দুর্ভিক্ষের দিনগুলিতেও যেসব স্কুল বন্ধ হয়ে যায়নি, এটি তাদের মধ্যে একটি। চার-চার বার স্কুলটি জার্মান গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু স্কুলের ছেলেরাই ভাঙা কাচের টুকরো সাফ করে, ভাঙা দেওয়াল সারিয়ে জানালাগুলোতে প্লাইউড লাগিয়ে নিয়েছে। গত মে মাসের শেষ-গোলাবর্ষণে একজন শিক্ষয়িত্রী স্কুলের প্রাঙ্গণেই মারা পড়েছেন।
স্কুলের ছেলেগুলো
-
রবীন্দ্রনাথের সমগ্র চিন্তা ও সাহিত্যসৃষ্টির ধারা অনুসরণ ও অনুধাবন করলে দেখা যায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক বিশেষ মৌল জীবনসত্তার অনুভব বিকশিত ও পুষ্ট হতে হতে চলেছিল—যাকে আমরা বলতে পারি অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, লোভী হিংস্র আগ্রাসনের বিরুদ্ধে—অতন্দ্র অভিযান, শাণিত প্রতিবাদ।
উচ্চ অভিজাতকুলে জন্মে, তৎসাময়িক জীবনধারা ও ধারণাকে আত্মস্থ করেও পদে পদে তিনি নিজেকে উত্তীর্ণ করে চলেছেন প্রাগ্রসর জীবনবোধের দিকে। মনে হয়, যেন ব্রাহ্মসমাজদর্শন ও উপনিষদের মূল ধারাকে তিনি অঙ্গীকৃত করেও রূপান্তরিত করেছিলেন বৈজ্ঞানিক সমাজচেতনা ও মূল্যায়নের দিকে। তাই দেখতে পাই যখনই বিশ্বমানবসমাজের কোনো অংশ হিংস্র আগ্রাসনের শিকার, তখনই সদাজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদে মুখর।
-
আমার বন্ধুদের বোলো যে আমার সারা জীবনের বিশ্বাসের প্রতি আমি শেষ পর্যন্ত অনুগত থেকেছি। আমার দেশবাসীকে বোলো যে আমি প্রাণ দিচ্ছি যাতে ফ্রান্স বাঁচতে পারে।
শেষবারের মতো আমি আমার বিবেককে পরীক্ষা করলাম। আমার কোনো খেদ নেই। আমি সবাইকে শুধু একটিই কথা বলে যেতে চাই: যদি জীবনটা এখন আবার ফিরে পাই তো এতদিন যে পথে চলেছি, আবার সে পথ দিয়েই চলব।
আজকের এই রাতে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করছি যে আমার প্রিয় বন্ধু পল ভাইলাঁ-কুতুরিয়ের ঠিকই বলতেন—কমিউনিজম হচ্ছে পৃথিবীর যৌবন এবং তা পথ তৈরি করে যায় যাতে করে আগামী দিনগুলি সঙ্গীতমুখর হয়ে উঠতে পারে। মৃত্যুর মুখোমুখি আমি যে এতটা সাহস ও স্থৈর্য
-
১৯৩৯ সনের পূর্বেই পূর্ববঙ্গের ঢাকা ও অন্যান্য শহরে রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন ধ্যানধারণার সূত্রপাত হয়েছিল। বৃটিশ কারাগারগুলোতে যেসব রাজবন্দী ছিলেন তাঁদের অনেকেই জেলে থাকাকালীন মার্কসবাদের দিকে ঝোঁকেন এবং জেলের বাইরে এসে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সভাকে কেন্দ্র করে নতুন জীবন্ত প্রগতিশীল আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যে লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের একটি গরিষ্ঠ অংশ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে প্রগতিশীল চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হন। এঁদের মধ্যে যেমন পুরোপুরি কমিউনিস্ট মতবাদের সমর্থক লেখক ছিলেন তেমনি অকমিউনিস্ট, সাধারণভাবে মানবতাবাদী বা হিউম্যানিস্ট লেখকও ছিলেন। এইসব লেখকদের সহায়তায় ঢাকায় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ স্থাপিত হয় ১৯৩৯ সনেই। ঐ বছরেই, সকলেরই
-
লেনিন বহুকাল আগে বলেছিলেন, পৃথিবীর শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলন যে ভুলভ্রান্তি করে তার একটি কারণ হল নবাগত দলভুক্তদের প্রশিক্ষণ না-দেওয়া। বিপ্লবী আন্দোলনের মধ্যে নতুন নতুন যেসব প্রজাতি আসে তাদের যদি সেই আন্দোলনের বিপ্লবী অভিজ্ঞতার তত্ত্বগত বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ করা না-হয়, তাহলে এই নবাগত শক্তিগুলি প্রায়শই পুরনো ভুলগুলি করে থাকে। আন্দোলনে যারা কিছুটা প্রবীণতর, তাঁদের অবশ্য তরুণদের প্রতি অভিভাবকসুলভ সদয় দাক্ষিণ্যের মনোভাব পোষণ করা উচিত নয়; আবার সেই সঙ্গে তাঁদের এটাও ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তাঁরা যা জানেন, তরুণরাও তা জানেন।
আমার মনে হয়, ফ্যাসিবাদের ব্যাপারে কমিউনিস্ট ও অন্যান্য বামপন্থী শক্তির ক্ষেত্রে কথাটা বিশেষভাবে সত্য। যারা ১৯৩০-এর দশক থেকে আন্দোলনে আছেন এবং যারা
-
"শত্রুকে মনে প্রাণে ঘৃণা করতে না শিখলে তাকে পরাজিত করা যায় না।"
[জে স্তালিন, এ অর্ডার অব দ্য ডে, মে ডে ১৯৪২, পিপলস কমিসার অব ডিফেন্স, ইউএসএসআর]
যুদ্ধের সময় মানুষের মতো গাছদেরও নিজ নিজ ভাগ্য থাকে। আমি দেখেছি বিশাল এক বনভূমিকে আমাদের কামানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যেতে। খুবই সম্প্রতি, অমুক গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে জার্মানরা এখানে বেশ ভালোভাবে গেড়ে বসেছিল, ভেবেছিল বহুদিন থাকবে এখানে, কিন্তু গাছগুলোর সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু তাদেরও ধ্বংস করে দিয়েছিল। ভাঙা গুঁড়িগুলোর তলায় মৃত জার্মানরা পড়েছিল, ফার্ন আর ব্র্যাকেন-এর সজীব শ্যামলিমার মধ্যে তাদের খণ্ডবিখণ্ড দেহগুলো পচছিল; কামানের গোলায় বিদীর্ণ পাইন গাছগুলোর আঠার সুগন্ধ ঐসব পচা দেহগুলোর শ্বাসরুদ্ধ
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
লেখক
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১)
- আলেকজান্ডার ওয়ার্থ (১)
- ইলিয়া এরেনবুর্গ (১)
- কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত (১)
- গ্যাব্রিয়েল পেরি (১)
- চার্লি চ্যাপলিন (১)
- জঁ-পল সার্ত্র (১)
- জর্জ বার্নার্ড শ (১)
- জর্জি ডিমিট্রভ (১)
- জুলিয়াস ফুচিক (১)
- নলিনী দাস (১)
- নৃপেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় (১)
- বুদ্ধদেব বসু (১)
- মিখাইল শলোখভ (১)
- মোহিত সেন (১)
- রজনীপাম দত্ত (১)
- সরোজ আচার্য (১)
- সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী (১)
- হাসান তারেক (১)
- হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.