বই
হ্যান্স অ্যাণ্ডারসন রচনাবলী
রূপকথার সম্রাট হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাণ্ডারসনের নির্বাচিত গল্পসমূহকে বাংলায় প্রাণ দিয়েছেন লীলা মজুমদার। নাইটিঙেল পাখির কথা, ছোটো জলকন্যা, টিনের সেপাই, কদাকার হাঁস-ছানা—এইসব গল্পে আছে কল্পনার জাদু, মানবিক অনুভব, আর চিরন্তন শিক্ষা। অনুবাদে লীলার ভাষা যেমন সহজ, তেমনি সাহিত্যিক; শিশুদের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি এটি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের এক মূল্যবান সংযোজন।
-
অনেককাল আগে এক সম্রাট ছিলেন, তিনি এতই সাজতে-গুজতে ভালোবাসতেন যে তার সব টাকা-কড়ি কাপড় চোপড় কিনতেই শেষ হয়ে যেত। এদিকে সেপাই-সান্ত্রীদের কি হাল হল তাই নিয়ে এতটুকু মাথা ঘামাতেন না। থিয়েটারে কিম্বা শিকারে যদি-বা যেতেন, তাও শুধু লোককে তাঁর নতুন পোশাক-আশাক দেখাবার জন্য। দিনের মধ্যে ঘড়ি-ঘড়ি তিনি সাজ বদলাতেন। অন্য রাজা-রাজড়ার বিষয়ে যেমন বলা হয়, 'মহারাজ মন্ত্রণাসভায় বসেছেন।' এঁর বিষয়ে তেমনি লোকে বলত, 'সম্রাট কাপড় ছাড়ার ঘরে বসে আছেন!'
মস্ত শহরে তাঁর রাজধানী, সেখানে আমোদআহলাদে লোকের সময় কাটত, কাজেই রাজসভায় নিত্যনতুন আগন্তুক আসত। একবার দুটো মহা দুষ্টু জোচ্চোর এসে বলল, তারা কাপড় বোনে, সে এমনি চমৎকার সব রঙের আর জমকালো
-
ডেনমার্কের ওডেন্স শহরে হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাণ্ডারসনের জন্ম। গরিব মুচির ছেলে। ছোটোবেলা থেকে ভারি কল্পণাপ্রবণ। ১৮১৬ সালে বাপের মৃত্যুর পর থেকে আর কেউ ছেলেটার দেখাশুনো করত না। সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে, বাড়িতে বসে খেলনার থিয়েটার বানাত, পুতুল বানাত, তাদের জন্য নানারকম পোশাক বানাত। আর কেবলই দেশের বিদেশের যেখানকার যত নাটক পেত, সব পড়ত।
বড়োরা বললেন ওকে দরজির কাজ শেখানো যাক। এদিকে শেষকালে অ্যাণ্ডারসনের ইচ্ছা সে পেশাদার অপেরা গায়ক হবে। পালিয়ে কোপেনহাগেনে গিয়ে কিছুকাল থিয়েটারে থিয়েটারে ঘুরে বড়ো কষ্টে দিন কাটাল। সবাই বলত দূর, দূর, ছেলেটা ক্ষ্যাপা। অবশেষে হ্যান্স কয়েকজন নামকরা সঙ্গীতজ্ঞের সাহায্যও পেয়েছিল। কিন্তু গলাটাই গেল খারাপ হয়ে; তখন সে
-
চীন-সম্রাটের প্রাসাদের মতো চমৎকার প্রাসাদ পৃথিবীতে আর একটিও ছিল না। আগাগোড়া মিহি চীনে-মাটির তৈরি, এমনি পাতলা যে, এতটুকু ছুঁলেই বুঝি ভেঙে পড়ে!
বাগানে ছিল দুনিয়ার যত সেরা ফুল। সব চাইতে সুন্দর ফুলগুলোর গায়ে আবার ছোটো-ছোটো রুপোর ঘুন্টি বাঁধা থাকত, তার টুং-টাং শব্দ কানে গেলে ফুলের দিকে একবার না চেয়ে পাশ দিয়ে কারো যাবার উপায় ছিল না। বাস্তবিকই চীন সম্রাটের বাগানের সব কিছু সাজান, গোছান নিখুঁত। তার উপর এত বড়ো বাগান যে মালীরাও জানত না কোথায় তার শেষ। কিন্তু কেউ যদি হাঁটতে হাঁটতে বাগানের সীমানা ছাড়িয়ে যেত, দেখতে পেত তার পরে ঘন বন, তার গাছগুলি কি উঁচু আর তার পরেই সমুদ্র।
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.