১৯৩০–২০১৪
কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
See more >>-
‘দুই পপলার’ কুয়ো
আমরা যাচ্ছি কারাকুম মরুভূমিতে। আমাকে সঙ্গে নিয়েছেন কুলি চাচা। তিনি মেষপালক।
আগে রাখালেরা ভেড়ার পাল নিয়ে চলে যেত বহু মাসের জন্যে। কিন্তু এখন মোটর গাড়ি অনেক, রাখালদের বদলি আসে দুই সপ্তাহ অন্তর অন্তর। আমরাও বদলিতে চলেছি। লম্বা রাস্তা, যাব ‘দুই পপলার’ নামে একটা কুয়োর কাছে। লোকেদের মতো মরুভূমির সমস্ত কুয়োরই এক-একটা নাম আছে। এ কুয়োটার কাছে আছে দুটো পপলার গাছ। গোটা মরুভূমিটার মাঝখানে দুটো পপলার, সমস্ত রাখাল তাদের জানে। রাখালদের ডেরায় আমার অপেক্ষায় আছেন দাদু চারি-আগা। ভেড়ার পাল নিয়ে সারা জীবন তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন মরুভূমিতে। বসন্ত শুরু হতেই তিনি চলে যান ‘দুই পপলারে’, থাকেন বেশ শীত পড়া
-
শির্দাক আর ইয়ার্তিগুলাক
যদি তুই হোস ওস্তাদ,
চুরি চামারিতে চালাক,
জানিস, ইয়ার্তিগুলাক
আসবেই খেতে দাওয়াদ।
ইয়ার্তিগুলাকের এই গানটা গাইছিল ইয়ার্তিগুলাক নিজেই। তার মেজাজ আজ শরিফ। তার মানে, কোনো একটা শয়তানকে শিক্ষা দিয়েছে।
ইয়ার্তিগুলাক যাচ্ছিল গেয়ো পথ ধরে আর তার গান শোনাচ্ছিল পাখির ডাকের মতো।
হঠাৎ সে চুপ করে গেল। রাস্তার ধারে ঢিপির ওপর দাঁড়িয়েছিল তার চেয়ে আধমাথা খাটো একটি মানুষ।
‘সেলাম!’ ছোটো মানুষটিকে দেখে অবাক হয়ে বললে ইয়ার্তিগুলাক।
‘সেলাম।’
‘শোনো দোস্ত! আমি হলাম ইয়ার্তিগুলাক, কিন্তু তুমি কে?’
‘আমার নাম শির্দাক,’ বললে ছোটো মানুষটি।
‘তার মানে তুমি সুতির চুড়ো টুপি?’
‘তাই বটি।’
‘তা যাচ্ছ কোথায়?’
‘ছাগল বেচতে।’
‘কিন্তু ছাগল কই?’
“একজন
-
কিজিল-আয়িয়াক
আকাশের তলে যত পাহাড়ে গাঁ আছে, আমার জন্মের জায়গাটা তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা, সবচেয়ে সুন্দর। আমাদের গাঁ কথা বলে, সবচেয়ে মিষ্টি আমুদরিয়া নদীর গানে। জীবনে শুধু একবার, এক ঢোক তার জল খেলে, সে স্বাদ কখনো ভোলা যাবে না।
আজো পর্যন্ত রোজ সকালে গাঁয়ের চারপাশে দেখা যাবে খরগোশ, সজারু, শেয়াল, হিংস্র শৃগালের নখরের দাগ। সে কী বলব!
ছেলেবেলায় আমার ধারণা ছিল না কিজিল-আয়িয়াক জিনিসটা কী। হয়ত তার জন্যে দায়ী আমার আত্মীয়স্বজনেরা। আমাদের বাড়ি বেড়াতে এসে তারা সবসময় আমায় খেপাত: ‘কই, দেখা তো তোর পা। তুই যখন কিজিল-আয়িয়াকের ছেলে, তখন তোর পা হওয়ার কথা সোনার।’
তুর্কমেন ভাষায় ‘কিজিল’ মানে লাল, তবে
-
ফুটো ভিস্তি
আর্সলান তাকিয়ে ছিল দাদুর দিকে। রহিম-আগা পাকা খুবানি পাড়ছিলেন গাছ থেকে। দাদু প্রকান্ড আর ফলগুলো ছোটো ছোটো। আর্সলান আরো দেখছিল একটা পিঁপড়েকে। পিঁপড়েটা ছোট্ট, কিন্তু মস্তো একটা শুকনো ঘাস সে বইছিল।
‘দাদু, দাদু!’ ডাকল আর্সলান।
নাতির কাছে এলেন রহিম-আগা।
পিঁপড়েটাকে দেখাল নাতি, ‘দেখেছ, কোথায় সে এত বড়ো জিনিসটা নিয়ে যাচ্ছে?’
দাদু হেসে হাত রাখলেন আর্সলানের মাথার ওপর।
‘জেনে রাখ রে বাছুর, পিঁপড়ে হল দুনিয়ায় সবচেয়ে খাটিয়ে জীব। ওই ঘাসটা কাজে লাগবে উইঢিবি বানাতে, কিংবা ওটা ওরা খাবে। শীত আসছে, হিমে জমে যাবে মাটি, কিন্তু পিঁপড়েদের ভয় নেই। বাড়িতে থাকবে গরমে, খেয়ে-দেয়ে।’
আর্সলান বললে, ‘তাহলে আমিও খাটব। বাড়ি থাকবে
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
