ঈশ্বর সত্যকে দেখেন, তবে দেরিতে
ভ্লাদিমির শহরে বাস করত এক তরুণ ব্যবসায়ী। তার নাম ছিল ইভান ডিমিস্ট্রিচ আকসিওনভ। তার গোটাদুই দোকান এবং একটি সুন্দর বাড়ী ছিল।
আকসিওনভকে সুপুরুষ বলা যায়। সুন্দর কোঁকড়া চুলওয়ালা লোকটি বেশ আমুদে প্রকৃতির, আর গান-বাজনাও সে ভালবাসত খুব। দোষের মধ্যে বলতে গেলে, মদ খেত খুব বেশী। আর মদের মাত্রা চড়লেই প্রায়ই সে কোনো না কোনো গোলমাল পাকিয়ে বসত। অবশ্য বিয়ে করার পর কখনো-সখনো একটু-আধটু পান করা বাদে মদ খাওয়া বলতে গেলে ছেড়েই দিয়েছিল।
একদা এক গ্রীষ্মকালে আকসিওনভ 'নিজনি'র মেলায় ব্যবসার উদ্দেশে যাবে বলে মনস্থ করল। পরিবারের লোকজনদের বিদায় জানিয়ে যখন সে রওনা হতে যাচ্ছে তখন তার স্ত্রী এসে বলল, 'ওগো, তুমি আজ আর বেরিও না, কাল রাতে তোমাকে নিয়ে ভারি বিচ্ছিরি একটা স্বপ্ন দেখেছি।'
স্ফীর কথায় আকসিওনভ হেসে বলল, 'বুঝেছি, আসলে তুমি ভয় পাচ্ছ। তুমি ভাবছ আমি বাইরে গেলেই মদের ফোয়ারা ছোটাবো।'
স্ত্রী পাংশুমুখে বলল, 'জানিনা কেন যে আমার বুক কাঁপছে। তোমাকে শুধু এইটুকুই বলছি, স্বপ্নটা কিন্তু মোটেই ভাল নয়। আমি যেন স্পষ্ট দেখলাম-শহর থেকে তুমি ফিরে এসে টুপিটা খুললে, দেখি তোমার সব চুল সাদা হয়ে গেছে।'
আকসিওনভ ফেটে পড়ল হাসিতে। 'আরে, ওটা তো একটা শুভ লক্ষণ। দেখো, এবারের মেলায় আমার সব মাল বিক্রী হয়ে যাবে। তোমার জন্য একটা চমৎকার উপহার নিয়ে আসব।'
এই বলে স্ত্রীকে বিদায় জানিয়ে সে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল মেলার উদ্দেশে।
পথে দেখা হল এক ব্যবসায়ী বন্ধুর সঙ্গে। দুজনে তো খুব খুশি। পথের ধারে এক সরাইখানায় সে রাতটা আশ্রয় নিল তারা। দুজনে মিলে চা খেতে খেতে অনেক গল্প-গুজব করল। তারপর রাত্রে খাওয়া-দাওয়া সেরে দুজনে পাশাপাশি দুটি ঘরে শুয়ে পড়ল।
আকসিওনভের বেলা পর্যন্ত ঘুমনোর অভ্যেস ছিল না কোনো দিনই। পরদিন খুব ভোরে উঠে সে সহিসকে গাড়ীতে ঘোড়া জুততে বলল। সরাই-খানার মালিক সরাইসংলগ্ন ছোট একটি বাসায় থাকত। আকসিওনভসরাইয়ের মালিকের কাছে গিয়ে তার পাওনাগণ্ডা সব মিটিয়ে দিয়ে আবার রওনা হল মেলার উদ্দেশে।
মেলার পথ এখনো অনেকটা। মাইল-প'চিশেক আসার পর মনে হল, একটু বিশ্রাম নিলে হয়। ঘোড়াগুলো ছুটছে অনেকক্ষণ, ওদেরও একটু দানাপানি প্রয়োজন। রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট সরাইয়ে ঢুকে আস্তাবলে ঘোড়াগুলো রেখে ও তার প্রিয় সঙ্গী গিটারটা বার করে বাজাতে শুরু করল।
এই সময় দেখা গেল ঘোড়া ছুটিয়ে আসছে এক রাজকর্মচারী, সঙ্গে দুজন সৈন্য। রাজকর্মচারীটি এসেই আকসিওনভকে জেরা করতে শুরু করে দিলেন।
প্রথমে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর অন্য প্রশ্ন-'গতকাল কোথায় ছিলেন? রাত্রে কোথায় খেয়েছেন বলুন! আপনি কি আপনার সঙ্গী ব্যবসায়ী ভদ্রলোকটিকে সকালে দেখেছেন? আর এই সাত-সকালেই বা রওনা দিলেন কেন?'
আকসিওনভ বুঝতেই তবু সে শান্তভাবে 'আপনি মশাই তখন হঠাৎ একগাদা প্রশ্নের ঠেলায় বেচারী হকচকিয়ে যায়। পারে না তাকে এই সব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে কেন। সবকিছুই বলে গেল। শেষকালে একসময় সে বলে ফেলল, থেকে এমন জেরা করছেন যেন আমি চোর কিংবা ডাকাত। আরে বাবা, আমি চলেছি আমার নিজের ব্যবসার কাজে। ফালতু আমার সময় নষ্ট করছেন এইসব আজেবাজে জেরা করে।'
আপনাকে এতক্ষণ ধরে রাজকর্মচারীটির কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। গম্ভীর মুখে তিনি বললেন, 'শুনুন, আমি এ-অঞ্চলের পুলিশ অফিসার এইসব প্রশ্ন করা হচ্ছে তার কারণ, যে ব্যবসায়ী ভদ্রলোকটির সঙ্গে আপনি রাত কাটিয়েছেন, তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কোনো ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আপনার জিনিসপত্র পরীক্ষা করে দেখব।'
পুলিশ অফিসার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। আকসিওনভের বিছানাপত্র খুলে ফেলা হল। হঠাৎ বিছানার ভেতর থেকে একটা রক্তমাখা ছোরা বার করে চোঁচিয়ে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments