ইসলাম : অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রবণতাসমূহ

ভূমিকা

ইসলামের মৌলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রবণতাগুলো কোরআন ও সুন্নাহ্ থেকে উৎসারিত। মুসলিমরা সাধারণভাবে এ-ও দাবী করেন যে পবিত্র কোরআন-শরীফ ও রসুলে পাকের হাদিসের সূত্রসমূহ এযাবৎকাল মোটামুটি অপরিবর্তীত ধারায় চলে আসছে। কিন্তু এটাও বাস্তব সত্য যে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জীবনযাত্রা স্বতঃপরিবর্তনশীল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা কেন্দ্রীয় রাজশক্তি তথা খিলাফৎ প্রতিষ্ঠা, সেই শক্তি কর্তৃক নতুন সাম্রাজ্য বিস্তার এবং পরবর্তীতে সেই সাম্রাজ্যের পতন, ইত্যাদি সবকিছুরই নির্দিষ্ট পরিবর্তনশীল ইতিহাস রয়েছে। সেই অর্থে দেশে-দেশে, কালে-কালে, ইসলামের বৈচিত্রময় রূপভেদ রয়েছে। কিন্তু এসব নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে ইহলৌকিক মানদণ্ড ব্যবহার করে ইসলামের এই বৈচিত্রময় রূপকে বিচার করতে গেলে কোরআন ও সুন্নাহর অলংঘনীয়তায় বিশ্বাসী ধর্মানুরাগীদের অন্তরে আঘাত লাগার আশংকা রয়েছে। তদুপরি ঐ আঘাত নির্বিরোধী ধর্মানুরাগীরা নম্রভাবে মেনে নিলেও উগ্র বা গোঁড়াপন্থীরা তা আদৌ সহজভাবে গ্রহণ করবেন না। ফলে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে ঐহিক মানদণ্ড প্রয়োগ করে মুক্ত আলোচনার সুযোগ কম। বিশেষত কখনো কখনো সংস্কারমুক্ত আলোচকের/লেখকের কোন একটি সংবেদনশীল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে লেখকের প্রাণনাশ থেকে শুরু করে এমনকি দাঙ্গা হাঙ্গামারও সূত্রপাত হতে পারে। এসব আশংকা থাকার কারণে বর্তমান প্রবন্ধের লেখক মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই আপাতত শ্রেয় মনে করেছেন। একদিকে লেখককে খেয়াল রাখতে হয়েছে ক্ষিপ্ত তথাকথিত মোল্লাবৃন্দ যেন অনর্থক উত্তেজিত হওয়ার সুযোগ না পায় আবার অন্যদিকে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর যথাযথ প্রেক্ষিতটি যথাসম্ভব সঠিকভাবেই তুলে ধরার নীতি বজায় রাখা যায়। ফলে প্রবন্ধের বক্তব্য কোথাও কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবেই যথেষ্ট মূর্তায়িত করা হয় নি। তাই ইঙ্গিতধর্মীতা এই প্রবন্ধের প্রধান দুর্বলতা। তবে লেখকের বিশ্বাস, ‘আকল্‌মন্দ পাঠকের জন্য ইশারাই কাফি’। আরেকটি কথা শুরুতেই বলে নেয়া ভাল যে, এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য সাধারণ ধর্মভীরু মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করা নয়। তবে ধর্মব্যবসায়ীদের এই প্রবন্ধে ক্ষমা করা হয় নি। তবু লেখার বিশেষ ভঙ্গীর কারণে কোন প্রকৃত ধর্মানুরাগী যদি অন্তরে আঘাত পান তাহলে সে জন্য লেখক অগ্রীম ক্ষমাপ্রার্থী।

ঐতিহাসিক বিবর্তনের আলোকে ইসলাম

কাব্যপ্রিয়, অতিথিপরায়ণ, লড়াকু বেদুইনদের দেশ আরব। উত্তরে সিরিয়া, ইরাক এবং পারস্য। দক্ষিণে লোহিত সাগর। তারও ওপারে ইথিওপিয়া। এই দুই এর মাঝখানে মরুভূমির দেশ আরব। প্রাক-ইসলাম যুগে আরব ছিল বাইরের সভ্যতা-বঞ্চিত। সে সময় দামেস্ক, সিরিয়া এবং ইয়ামেন নগরীতে খৃষ্ট ধর্মের, গ্রিসিয়-রোমান সভ্যতার স্পর্শ পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু আরবিয়রা তখনও ছিলেন প্রধানত মূর্তিপূজায় ব্যস্ত।মরুভূমিতে পশুচারণকারী একাধিক গোত্র এবং নিয়ত অন্তর্দ্বন্দ্বের দ্বারা ক্ষতবিক্ষত ছিল আরব-জাতি। গোত্রগুলির মূল সম্পদ ছিল অশ্ব, ভেড়া, ছাগল এবং উট। অন্যতম প্রিয় খাদ্য ছিল খেজুর ও সুরা। প্রতিটি গোত্রই ছিল কম বেশি সংগ্রামী এবং নিয়ত বিচরণশীল। সমগ্র পরিস্থিতি রবি ঠাকুরের সেই বিখ্যাত চরণগুলো মনে পড়িয়ে দেয়, ‘হতেম যদি আরব বেদুঈন, চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন’।

বিখ্যাত ঐতিহাসিক জাফরুল্লা খান বলেছেন,

‘প্রতিটি গোত্রই মোটামুটি একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের স্বল্প সম্পত্তি তথা উটগুলো নিয়ে পানি এবং তৃণভূমির সন্ধানে বছরের বিশেষ বিশেষ ঋতুতে, বৃষ্টিপাতের খামখেয়ালীপনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা ঘুরে বেড়াতেন।’

গোত্রীয় অন্তর্দ্বন্দ্বে যারা পরাজিত হোত তাদেরকে দাসে পরিণত করার বিধান ছিল। সুতরাং দাসপ্রথার চল্ ছিল আরবে। এছাড়া মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা ছিল খুবই নিচুতে—মানুষ নয়, একান্ত ব্যক্তিগত বহনযোগ্য সম্পত্তি হিসাবেই গণ্য করা হোত তাদেরকে। সুতরাং তদানীন্তন আরবীয় সমাজে প্রধান নির্যাতিত গোষ্ঠী দুটি ছিল—দাস এবং মহিলা।

দূরাঞ্চলের সঙ্গে প্রাক-ইসলামী যুগেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল আরবদের। ব্যবসায়ীরা উটের কাফেলায় বা জাহাজে করে পণ্য আমদানী রপ্তানী করতেন সুদূর সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, এমনকি ভারত থেকেও। আরবের এ রকম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র, তীর্থস্থান ও নগর ছিল মক্কা। মক্কার প্রধান আকর্ষণ ছিল হযরত ইব্রাহিম (আ.) প্রতিষ্ঠিত

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion