কুবলয়াশ্ব
পূর্বকালে শত্রুজিৎ নামে অতি বিখ্যাত এক রাজা ছিলেন। তাঁহার পুত্রের নাম ঋতধ্বজ। ঋতধ্বজের গুণের কথা আর কী বলিব। যেমন রূপ, তেমন বৃদ্ধি, তেমনি বিদ্যা, তেমনি বিনয়, তেমনি বল, তেমনি বিক্রম। এমন পুত্র লাভ করিয়া রাজা শত্রুজিৎ খুবই খুশী হইয়াছিলেন, তাহাতে আর সন্দেহ কী?
ইহার মধ্যে একদিন গালব নামে এক মুনি একটি সুন্দর ঘোড়া লইয়া রাজা শত্রুজিতের নিকট আসিয়া বলিলেন, ‘মহারাজ, আমি বিপদে পড়িয়া আপনার নিকট আসিয়াছি। একটি দুষ্ট দৈত্য আমাকে বড়ই ক্লেশ দিতেছে। সে কখনও সিংহ, কখনও বাঘ, কখনও হাতি, কখনও আর কোন জন্তর বেশে আসিয়া দিবারাত্র আমাকে অস্থির রাখে, উহার জালায় আমার তপস্যাই অসম্ভব হইয়া উঠিয়াছে। আমি ইচ্ছা করিলে শাপ দিয়া উহাকে বধ করিতে পারি, কিন্তু উহাতে তপস্যার হানি হয়; কাজেই আর কী করিব, শুধু নীরবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলি। এমন সময় একদিন এই ঘোড়াটি আকাশ হইতে আমার নিকট পড়িল, আর দৈববাণী হইল যে, “গালব। এই ঘোড়াটির নাম কুবলয়। ইহার কিছুতেই ক্লান্তি নাই, সংসারে ইহার অগম্য স্থান নাই, ইহাকে রোধ করিবার শক্তি কাহারও নাই। রাজা শত্রুজিতের পুত্র ঋতধ্বজ ইহাতে চড়িয়া তোমার শত্রু সেই দুষ্ট দানবকে বধ করিয়া কুবলয়াশ্ব নামে বিখ্যাত হইবে। মহারাজ, তাই আমি এই ঘোড়াটি লইয়া আপনার নিকট আসিয়াছি। আপনার পুত্র যদি ইহাতে চড়িয়া দানবটাকে তাড়াইয়া দেন, তবেই এই ব্রাহ্মণের তপস্যা হয়।’
রাজার আজ্ঞায় তখনই ঋতধ্বজ সেই আশ্চর্য ঘোড়ায় চড়িয়া মুনির সঙ্গে তাঁহায় আশ্রমে আসিলেন। তারপর মুনিরা সকলে তাঁহাদের সন্ধ্যা-বন্দনা আরম্ভ করিতে না করিতেই সেই দুষ্ট দানব শুকর সাজিয়া উপস্থিত হইল। মুনির শিষ্যরা তাহাকে দেখিয়া প্রাণপণে চ্যাঁচাইতে লাগিল। রাজপুত্র তখনই সেই ঘোড়ায় চড়িয়া তাহাকে তাড়া করিলেন। তাঁহার হাতের অর্ধচন্দ্র বাণের খোঁচা খাইয়া আর কি দুষ্ট দানব সেখানে দাঁড়ায়? সে প্রাণের মায়ায় কোন পথে পলায়ন করিবে কিছুই বুঝিতে পারিল না। পাহাড়ে, বনে, শূন্যে, সাগরে, যেখানে যায়, রাজপুত্র ঘোড়ায় চড়িয়া ধনুর্বাণ হাতে সেইখানেই গিয়া উপস্থিত হন। এইভাবে চারি হাজার ক্রোশ চলিয়া শেষে সে একটা গর্তের ভিতরে লাফাইয়া পড়িল। রাজপুত্রও তাহার সঙ্গে সঙ্গেই গর্তে গিয়া ঢুকিলেন বটে, কিন্তু সেখানকার সেই ঘোর অন্ধকারের ভিতরে আর তাহাকে দেখিতে পাইলেন না।
রাজপুত্র সেই গর্তের পথে দানবকে খাঁজিতে খুঁজিতে একেবারে পাতালে গিয়া উপস্থিত হইলেন। সেখানে আর অন্ধকার নাই, সেখানে ইন্দ্রপুরীর ন্যায় অতি অপরূপ সোনার পুরী। রাজপুত্র তাহার ভিতরে কতই খুঁজিলেন, কিন্তু দানবকে পাইলেন না। ছিল কেবল দুটি মেয়ে। তাহার একটি যে কী সুন্দর, সে আর বুঝাইবার উপায় নাই।
এই কন্যার নাম মদালসা, তাঁহার বৃত্তান্ত অতি আশ্চর্য। ইহার পিতার নাম বিশ্বাবসু, তিনি গন্ধর্বের রাজা। মদালসা তাঁহার পিতার বাগানে খেলা করিতেছিলেন, এমন সময় হঠাৎ চারিদিক অন্ধকার হইয়া গেল। সেই অন্ধকার আর কিছুই নহে, উহা পাতালকেতু নামে দুষ্ট দানবের মায়া। দুরাত্মা অন্ধকারের ভিতরে সেই অসহায়া বালিকাকে লইয়া পলায়ন করিল, কেহ সে কথা জানিতে পারিল না। তাঁহার আর্তনাদও কেহ শুনিতে পাইল না।
সেই দুষ্ট তাহাকে পাতালে আনিয়া নিজ বাড়িতে আটকাইয়া রাখিয়াছে, বলিয়াছে যে ভাল দিন পাইলেই তাহাকে বিবাহ করিবে।
ইহার মধ্যে একদিন মদালসা মনের দুঃখে আত্মহত্যা করিতে যান, তখন সুরভি তাঁহার নিকটে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, ‘বাছা, তোমার কোন ভয় নাই, এই দুষ্ট দানব তোমাকে বিবাহ করিতে পারিবে না। ইহার মৃত্যু যাহার হাতে হইবে, তিনিই তোমাকে বিবাহ করিবেন।’
রাজপুত্র মদালসার সঙ্গের মেয়েটির নিকট এ সকল সংবাদ শুনিতে পাইলেন। মেয়েটির নাম কুণ্ডলা, তিনি একজন তপস্বিনী এবং মদালসার সখী। কুণ্ডলা আরও বলিলেন যে, সেদিন পাতালকেতু শুকর সাজিয়া মুনিদের আশ্রম নষ্ট করিতে গিয়াছিল, সেখান
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments