- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২৫৯
চাষির-পো ইভান
অনেক কাল আগে ছিল এক রাজা আর রানী।
বয়সকালে তাদের ছেলেপুলে হয় নি, তবে বুড়ো বয়সে হল একটি ছেলে। তাকে দেখে দেখে আর আনন্দ ধরে না।
যখন সে বড়ো হয়ে উঠল, ঠিক করল তার বিয়ে দেবে। ছেলে কিন্তু বলে: ‘যতদিন না আমায় এমন একটা ঘোড়া দিচ্ছ যা আগুন খায়, শিখায় চুমুক দেয়, ছুটলে বিশ যোজন অবধি মাটি কাঁপে, ওকগাছের পাতা ঝরে পড়ে, ততদিন বিয়ে করব না।’
রাজা তার মহাবীরদের ডেকে জিগ্যেস করতে লাগল: ‘হয়ত তোমাদের কেউ জানো, কেউ শুনেছ কোথায় এমন ঘোড়া যা আগুন খায়, শিখায় চুমুক দেয়, ছুটলে বিশ যোজন অবধি মাটি কাঁপে, ওকগাছের পাতা ঝরে পড়ে?’
সবাই বললে কেউ তা দেখে নি, কেউ শোনে নি, তেমন ঘোড়া এনে দিতে পারবে না...
তখন রাজা সারা দেশে খত পাঠাল: ‘তেমন ঘোড়ার কথা কেউ হয়ত শুনেছে, কিংবা নিজেই সে তা খুঁজে পাবে, তাহলে আসুক সে আমার কাছে।’
এমন একটা খত পৌঁছল কোন একটা মুলুকে, পড়ল তা চাষিরা, তাদের একজন বাড়ি এসে বৌকে বললে:
‘এই রকম একটা খত এসেছে আমাদের মুলুকে... এমন বীরকুমার থাকলে তাকে জারের কাছে যাবার হুকুম হয়েছে।’
এখন এই চাষির ছিল এক ছেলে, সে বলে: ‘আমি কিন্তু জানি কোথায় তেমন ঘোড়া!’
বাপ রেগে উঠল: ‘রাখ বাপু তোর যত বাজে কথা! বাড়ির বাইরে গেলেই পাড়ার ছেলেরা তোকে পিটোয়, সেই তুই কিনা আবার এমন ঘোড়ার বড়াই করিস!’’
ছেলে তখন কাপড়চোপড় এঁটে বললে: ‘চলো বাবা আঙিনায়!
গেল তারা।
ছেলে এক হাতে একটা ওকগাছ ধরেই নুইয়ে আনল মাটিতে, তারপর ছেড়ে দিল।
চোখ বড়ো বড়ো করে দাঁড়িয়ে রইল বাবা, ভয়ে একেবারে ফ্যাকাশে।
বললে, ‘হ্যাঁ, এখন বাছা বিশ্বাস হচ্ছে।’
গেল সদরে, ছেলেকে বাইরে রেখে ভেতরে ঢুকল, বললে: ‘আজ্ঞা করুন মশাইরা, কিছু কথা বলি।’
‘বলতে চাও, তা বলো।’
‘আমার এক ছেলে আছে, তেমন ঘোড়া সে জোগাড় করতে পারে…’
সবার তখন কী চোটপাট: ‘অমুক-তমুক, গারদে পোরা উচিত! কী ওর ছেলের মুরোদ? বাড়ির বাইরে গেলেই পাড়ার ছেলেরা তাকে পিটোয়।’
তাই ওকে আর ছেলেকে গারদেই ঢোকানো হল। গারদেই বসে আছে ওরা, শেষে এলাকার কর্তা বললে: ‘ওরা যদি রাজার কাছে মিথ্যে বলে, তাহলে আমাদের মনে হয় কিছু হবে না।’
ছেড়ে দিলে ওদের, নিজেরাই খবর পাঠাল রাজার কাছে। খবরটা পড়ে রাজার বিশ্বাসই হল না যে চাষির-পো অমন কান্ড করতে পারে, তাহলেও তার জন্যে গাড়ি আর চাকরবাকর পাঠাল।
ছেলেটাকে নিয়ে আসা হল রাজার কাছে। আসতেই রাজা শুধোয়: ‘এমন ঘোড়া আনতে পারবে?’
‘পারব।’
‘তার জন্যে কী তোমার চাই?’
‘আমার দরকার একটা তাগড়াই ঘোড়া আর একটা ভারি মুগুর।’
রাজা তার অশ্বপালকে একটা চিরকুট লিখে দিল।
‘মাঠে চলে যাও, অশ্বপাল আছে সেখানে, চিরকুটটা তাকে দিলে সে ঘোড়া দেবে তোমায়।’
ছেলে গেল, অশ্বপালকে দেখাল চিরকুটটা।
অশ্বপাল বললে: ‘একটু দাঁড়াও, ঘোড়াগুলোকে জল খাওয়াতে নিয়ে যাব, তখন যেটা পছন্দ হবে সেটাই নিও।’
বাছতে লাগল ছেলেটা, যেটারই লেজ চেপে ধরে লেজ থেকে যায় হাতে; কেশর চেপে ধরে, কেশর আর থাকে না। বিশটা ঘোড়ার চামড়া ছাড়াল, কিন্তু ঘোড়া আর পছন্দ হল না।
বাড়ি ফেরার পথে দেখে একেবারে দীনদরিদ্র এক কুটির। চাল তার ফুটো-ফুটো; ওদিকে আকাশে ঠিক তখনই কালো মেঘ ঘনাচ্ছে, কুঁড়ের কাছে বসে আছে এক বুড়ি।
দেখে আসছে এক সুজন। বললে: ‘আমায় একটু সাহায্য করো সুজন, কেউ এই অভাগিনীকে দেখে না।’
ঘোড়ার গা থেকে যেসব ছাল ছাড়িয়ে নিয়েছিল, সেগুলো দিয়ে কুড়ের চাল ঢেকে দিল সে, জল যেন আর চুইয়ে না
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments