- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৫৮
ইভান-পালোয়ান
সে অনেককাল আগের কথা, ভয়ংকর এক নাগ হানা দিতে লাগল এক বসতিতে। সবাইকে সে খেয়ে উজাড় করল, রইল শুধু এক বুড়ো।
নাগ ঠিক করল, ‘তা এটাকে কাল খাওয়া যাবে।’
এইসময় কাঙাল এক ছোকরা যাচ্ছিল বসতি দিয়ে। গিয়ে তো উঠল সেই বুড়োর কাছে, রাত কাটাতে চাইল সেখানে।
বুড়ো শুধায়, ‘জীবনে তোর ঘেন্না ধরে গেল নাকি?
‘কেন?’ বলে সেই কাঙাল ছোকরা।
বুড়ো তখন তাকে বলতে লাগল যে নাগ সেখানকার সবাইকে খেয়ে উজাড় করেছে, কাল তাকে খাবার কথা ভাবছে।
ছোকরা বললে, ‘ও কিছু, না, নিজেই গলায় ঠেকে মরবে।’
সকালে তো উড়ে এল নাগ, ছোকরাকে দেখে ভারি তার আনন্দ : “মন্দ নয় তো! ছিল একটা, হয়েছে দুটো।’
ছোকরা বলে : ‘দেখো, গলায় ঠেকে না মরো।’
অবাক হল নাগ : ‘মানে, আমার চেয়ে তোর জোর বেশি?’
‘বটেই তো।’
‘কোথায় তোর শক্তি, আর দ্যাখ আমার জোর,’ এই বলে সে একটা পাথর নিয়ে এমন চাপ দিল যে একেবারে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে গেল সেটা।
ছোকরা বললে, ‘ও আর কী। এমন করে চাপ দাও যাতে পাথর থেকে জল বেরয়।’
এই বলে, তাকের ওপর যে নেকড়া-জড়ানো ছানা ছিল, যেন সেটা পাথর এই ভাব করে চিপতেই জল বেরিয়ে এল।
বললে, ‘এমনি করে চিপতে হয়!’
নাগ বললে, ‘যাক গে, চলো যাই, তুমি হবে আমার বন্ধু।’
ছোকরা বললে : ‘তাহলে আমি সর্দার।’
চলল ওরা। নাগ তাকে শুধায় : ‘তা তোমার নাম কী?’
ছোকরা বলে, ‘ইভান-পালোয়ান।’
তাই শুনে-না, একেবারেই ভয় পেয়ে গেল নাগ। ভাবে, ‘আমাকেই আবার মেরে না ফেলে।’
খাবার সময় হল, নাগ বলে : ‘যাও ছোকরা, একটা বলদ নিয়ে এসো, রান্না করব।’
গেল ছোকরা।
গোটা একটা বলদ তো দূরের কথা, একটা ঠ্যাং নিয়ে যেতে পারলে ও হয়। পালের মধ্যে ঢুকে বলদগুলোর লেজে লেজে বাঁধতে লাগল সে। নাগ বসে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেই এল।
‘কী করছ হে ছোকরা?’
‘এক একটা করে বলদ নিয়ে যাব কী! সবকটাকে একসঙ্গে নিয়ে যাব।’
‘চুলোয় যাও তুমি, আমার গোটা পালটাকেই তুমি সাবাড় করবে দেখছি!’
একটা বলদের চামড়া ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে গেল সেটা, চামড়াটা দিল ছোকরাকে।
বললে, ‘যাও তো, চামড়ার খোল ভর্তি করে জল নিয়ে এসো।’
চামড়া নিল ছোকরা, কোনোরকমে টেনে নিয়ে গেল পাতকুয়ো পর্যন্ত। জলে ডুবাল চামড়া, জলে তো ডুবাল, টেনে আর তুলতে পারে না।
কী আর করে, গাছ থেকে কেটে ছোট একটা খন্তা বানিয়ে ঘোরে কুয়োর চারধারে, সেখানকার মাটি খোঁড়ে। ছুটে এল নাগ : ‘কী করছ তুমি?’
‘আরে তোমার জন্যে চামড়ায় করে জল নিয়ে যাব মানে। এক দফাতেই গোটা পাতকুয়োটা তুলে নিয়ে যাব।’
‘দুত্তোরি,’ নাগ বললে বটে, তবে এমন শক্তিধর ভেবে ভয় পেল, নিজেই নিয়ে গেল চামড়ায় জল ভরে বললে, ‘তাহলে শোনো, বরং কাঠ নিয়ে এসো। শুকনো একটা ওকগাছ উপড়িয়ে নিও, তাতেই আমাদের কুলিয়ে যাবে।’
‘আহা মরি, লোক পেলে বটে, টুকিটাকি বোঝা বইব নাকি তোমার জন্যে! গোটা বিশেক গাছ হলেও নয় কথা ছিল,’ ভাব করলে যেন রেগে গেছে, গেল না গাছ ওপড়াতে ৷
নাগ তো রান্নাবান্না করে গিলতে বসল ৷
ছোকরা কিন্তু খেতে চায় না। জানে, ওযে ভারি কম খায় তা দেখে নাগ তক্ষনি ধরে ফেলবে যে ওর গায়ে জোর নেই। আর হাণ্ডায় যখন খাবার অল্পই বাকি, তখন ছোকরা খেতে বসল, সেটুকু খেয়ে বললে: ‘পেট ভরল না!’
নাগ বললে, ‘যাক গে, পেট যখন ভরে নি, চলো যাই আমার মায়ের কাছে, পুলি পিঠে রেঁধে দেবে।’
‘তা যেতে চাও যখন,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments