- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৫৭
উহ্
সে অনেকদিন আগেকার কথা, আমাদের বাপ-ঠাকুর্দার তখন হয়ত জন্মই হয় নি, সেই সেকালে বৌয়ের সঙ্গে নিজেদের মতো থাকত এক গরিব মানুষ ৷
তাদের ছিল একটি ছেলে, এমন সে টিংটিঙে মরকুটে যে বলবার নয়। কিছু একটা যে করবে, তা করে না, সারা দিন কাটায় চুল্লির ওপরকার মাচায়। মা যদি মাচায় খেতে দেয় খায়, না দেয় তো না খেয়েই পড়ে থাকে, আঙুলে কুটোটি নাড়ে না।
মা-বাপে বলে: ‘তোকে নিয়ে কী করি বাছা, তোকে নিয়েই আমাদের জ্বালা। সব ছেলেমেয়েই তো তাদের মা-বাপের কত কাজ করে দেয়, আর তুই কেবল রুটির ভুট্টিনাশ করিস!’
দঃখু করে, দুঃখু করে, শেষে বুড়ি একদিন বললে: ‘কী তুমি ভাবছ গো? ছেলের বয়স হল, কোনো কাজকম্ম জানে না। কোথাও ওকে একটা শিক্ষানবিশিতে বা কাজে ঢোকালে তো পারো। পরের ঘরে হয়ত কিছু, একটা শিখে উঠবে।’
বাপ ওকে দিল খেতমজুরিতে।
তিন দিন থাকল সেখানে, তারপর পালাল। এসে উঠল চুল্লির ওপরকার মাচায়, বসে বসে কাটায় সেখানে।
বাপ তাকে মেরে ধরে নিয়ে গেল দর্জির কাছে, তালিম নিক।
সেখান থেকেও সে পালাল। দেওয়া হল কামারের কাছে, মুচির কাছে, কোনোই ফল হল না: ফের পালায়, তারপর ঐ মাচায়। কী করা যায়?
বুড়ো বললে, ‘তুই অমুক, তুই তমুক, তোকে নিয়ে যাব এমন রাজ্যে যেখান থেকে পালাতে পারবি না।’
চলল তারা, চলল কতদিন কে জানে, এল এক অন্ধকার, নিঝুম বনে ৷ হয়রান হয়ে পড়েছিল, দেখে আধপোড়া এক গাছের গুঁড়ি। বুড়ো গুঁড়ির ওপর বসে বললে: ‘উহ্, ভারি জেরবার হয়ে পড়েছি।’
যেই না বলা, অমনি হঠাৎ কে জানে কোথা থেকে হাজির এক ক্ষুদে বুড়ো, একেবারে কোঁচকানো চামড়া, হাঁটু অবধি লম্বা সবুজ দাড়ি।
‘কী চাই হে মনিষ্যি?’
বুড়ো অবাক: কোত্থেকে এল এই বিদঘুটেটা? জিগ্যেস করলে: ‘আমি তোমায় ডেকেছিলাম? সে কী? ’
“ডাকো নি মানে? বসলে গুঁড়ির ওপর, বললে ‘উহ্!’”
“আরে আমি যে ভয়ানক হয়রান হয়ে পড়েছিলাম। তাই বলেছিলাম ‘উহ্!’ কিন্তু তুমি কে?”
‘আমি বনের রাজা উহ্। তুমি চলেছ কোথায়?’
‘যাচ্ছি ছেলেকে কোনো কাজে ঢোকাতে কিংবা তালিমে দিতে। সুজন লোকেদের কাছে। হয়ত এটা সেটা করতে শিখবে, জ্ঞানগম্যি হবে। আর দেশে যেখানেই খাটতে দিই পালিয়ে আসে, সারা দিন মাচায় বসে থাকে।’
‘দাও ওকে আমার কাছে, জ্ঞানগম্যি শেখাব। শুধু কড়ার থাকবে: এক বছর বাদে ছেলের খোঁজে আসবে। ওকে চিনতে পারলে বাড়ি নিয়ে যাবে, না পারলে আরো এক বছর খাটবে আমার কাছে।’
বুড়ো বললে, ‘বেশ।’
হাতে হাতে চাপড় মেরে চুক্তি হল। বুড়ো বাড়ি চলে গেল, ছেলে রইল উহের কাছে।
ছোকরাকে উহ্ নিয়ে গেল নিজের সঙ্গে, অন্য জগতে, মাটির নিচে সোজা পাতালে: তুলল নিজের সবুজ কুঠিতে। সে কুঠিতে সবই সবুজ: দেয়াল সবুজ, বসার চৌকি সবুজ, উহের গিন্নিও সবুজ, ছেলেমেয়েরা সবুজ, চাকরবাকরেরাও সবুজ।
ছোঁড়াটাকে বসিয়ে উহ্, চাকরবাকরদের হকুম দিলে ওকে খাওয়াতে। দিল তাকে বাঁধাকপির সবুজ সুপ আর সবুজে জল। খাওয়া দাওয়া সারল সে।
উহ্, বললে, ‘এবার কাজে যা: কাঠ ফেড়ে ঘরে আনবি।’
গেল ছোঁড়া। রইল পড়ে তার কাঠ ফাড়া, ঘাসের ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
উহ্, এসে দেখে সে ঘুমচ্ছে।
অমনি চাকরবাকরদের ডাকল উহ, হুকুম দিলে কাঠ গাদি করতে, তার ওপর ছোঁড়াকে শুইয়ে আগুন ধরিয়ে দিল।
পুড়ে গেল ছোঁড়া!
ছাইগুলো বাতাসে উড়িয়ে দিল উহ্, একটা পোড়াকাঠ পড়ল ছাই থেকে। তার ওপর জীয়ন জল ছিটিয়ে দিল উহ্—ফের ছোঁড়া বেঁচে উঠল যেন কিছুই হয় নি।
হুকুম দিল তাকে কাঠ ফেড়ে সাজিয়ে রাখতে।
ফের সে ঘুমিয়ে পড়ল ৷
উহ্ আগুন ধরাল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments