- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৯৭
কুয়োর ভেতর সিংহ
বহুকাল আগে নিঝুম বনের মধ্যে দেখা দিল এক সিংহ, এমন সে জাঁদরেল আর ভয়ংকর যে একবার গর্জন করলেই সমস্ত জন্তু-জানোয়ার ভয়ে কাঁপত বেতস পাতার মতো। আর যখন শিকারে বেরত, সামনে যে পড়ত, তাকেই কামড়ে কুটিকুটি করত। বনশুয়োরদের পালে ঝাঁপিয়ে পড়ে সবাইকে মেরে ফেলত, আর খাবার জন্যে রাখত কেবল একটাকে। ভারি ভয় পেয়ে গেল জন্তুরা, ভেবে পায় না কী করে। সবাই জুটল পরামর্শ করতে।
ভালুক তখন বললে: ‘শোনো, মশাইরা, এমন দিন যায় না যে সিংহ গোটা দশেক করে জন্তু না মারে, কখনো কখনো বিশটাও। আর খায় কেবল একটা-দুটো, বাকিগুলো খামকা মরছে, কেননা রোজ সে নতুন নতুন ধরছে, আগের দিনে মারা জন্তু খায় না। তাই ওর কাছে দূত পাঠানো যাক, ওকে বোঝানো হোক...’
নেকড়ে বললে, ‘যাও-না, বোঝাবার চেষ্টা করে দ্যাখো, আমাদের কথা সে কানেই তুলবে না ৷’
‘চেষ্টা করে দেখাই যাক-না, হয়ত লেগে যেতেও পারে,’ জেদ ধরল ভালুক, ‘শুধু, আমাদের মধ্যে কাকে পাঠানো যায়?’
‘তুমিই যাও না ভালুক,’ নেকড়ে বললে, ‘আমাদের মধ্যে তুমিই সবচেয়ে বড়োসড়ো, গায়েও জোর বেশি।’
‘কোথায় জোর! যতই হোক ওর সঙ্গে পারা যাবে না, আমার ওপর যদি ঝাঁপিয়েই পড়ে, তাহলে কী হবে আমার গায়ের জোর দিয়ে? বরং নেকড়ে, তুমিই যাও, আমার চেয়ে তুমি চটপটে।’
‘চটপটে হলাম তো কী হয়েছে? যদি আমার পেছু ধরে, ভাবছ পালাতে পারব ওর হাত থেকে? অন্য কিছু, একটা ভেবে বার করা দরকার, গায়ের জোর বা চটপটে দিয়ে কিছ, হবার নয়।’
তখন হরিণ বললে: ‘কী জানো মশাইরা? চাই যুতসই ধরনধারণ, এমনভাবে কথা পাড়া যাতে সিংহ না চটে যায়।’
‘তা তুমি যখন এতই বুদ্ধিমান, তুমিই যাও হরিণ।’
‘আরে না, আমি ও ভার নিতে পারব না। আমি শুধু বলছিলাম যে সিংহের সঙ্গে এমনি এমনি কথা কওয়া যায় না। ও তো আর আমাদের ভাই-বেরাদর নয়। উচিতমতো এগুতে হবে।’
‘তাহলে কাকে পাঠানো যায়?’
‘শেয়ালিকে পাঠানো হোক। ও খুব সেয়ানা, সিংহের মন জোগাতে পারবে, বোঝাবে কী ব্যাপার।’
‘ঠিক বলেছ!’ খুশি হয়ে উঠল জন্তুরা, ‘চলন-বলন, সে শেয়ালির আছে।’
তলব করা হল শেয়ালির, ভালুক তাকে বললে: ‘শেয়ালি, তোমায় সিংহের কাছে গিয়ে কথা বলতে হবে তার সঙ্গে।’
‘কিন্তু আমি কী অপরাধ করলাম? অন্য কেউ যাক। কেউ যেতে রাজি না থাকলে লটারি করা হোক। যার ভাগ্যে পড়বে, সে যাবে, আপত্তি চলবে না।’
'না শেয়ালি, সেটি হবে না: যদি এমন কারো নাম ওঠে যে কথাই বলতে পারে না, কী হবে তাহলে? ভড়কে গিয়ে আজেবাজে কথা বলতে থাকবে, তাতে আরো চটে যাবে সিংহ। না শেয়ালি, আমরা তোমাকে পাঠাব ঠিক করেছি।’
মন খারাপ হয়ে গেল শেয়ালির, ভেবে পায় না কী করে। না গেলেও মরণ, গেলেও ভগবানই জানেন সে কেমন সৌভাগ্য। অনেক ভেবে ভেবে শেষে বললে: ‘বেশ যাব, কপাল ঠুকে দেখি; এই আমার বরাত…’
অনেকখন বনে ঘুরে বেড়াল শেয়ালি, কেবলি ভয় পায় যেতে। কখনো এদিকে যায়, কখনো ওদিকে যায়, কেবলি ভাবে কেমন করে ঠকানো যায় সিংহকে। মরতে তার ভারি ভয়। হঠাৎ দেখতে পেল একটা কুয়ো। ঠিক করল, ‘রক্তখোর সিংহের মুখে জীবন্ত পড়ার চেয়ে ডুবে মরাই বরং ভালো।’
কুয়োর কাছে গেল শেয়ালি, ঘুরে দেখল তার চারদিকে, শুঁকল, তাকাল কুয়োর মধ্যে—একেবারে গভীর জল। চেয়ে রইল সেদিকে, কুয়ো থেকেও তার দিকে চেয়ে থাকে এক শেয়ালি। প্রথমটা সে ধরতে পারে নি যে ওটা তার ছায়া। মুখ ভেংচাল সে তার জবাবে অন্য শেয়ালিও মুখ ভেংচায়। জিব দেখাল সে, ওটাও জিব দেখায়। ‘আরে, দাঁড়া, দাঁড়া!
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments