- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২০৭
তীরন্দাজ আর তার বন্ধুরা
অনেক অনেকদিন আগে ছিল এক শিকারী—এক নিপূণ তীরন্দাজ। শিকারে গিয়ে খালি হাতে ফিরত না সে কখনও।
একদিন সে অনেক জীবজন্তু শিকার করে নিয়ে ফিরছিল, পথে দেখা হল তার এক গরীব চাষীর সঙ্গে।’
‘ভাল শিকার করেছ হে, তীরন্দাজ! বেশ ভালো দামে বেচতে পারবে তোমার আজকের শিকার।’
তীরন্দাজ গরীব চাষীকে লক্ষ্য করে বলল, ‘লক্ষ্য স্থির করা আর হাতের তীর ছোঁড়ার নিপূণতারই হল আসলে দাম। এই পাখিটার দাম অন্যের কাছে কি পাব জানি না, কিন্তু তোমায় এটা খুব শস্তায় দিয়ে দেব। এর জন্য যা দেওয়া কুলোয় তোমার ক্ষমতায় তা-ই দেবে।’
‘শোন গো ভালমানুষের ছেলে, আমার কি পাখি কেনার সামর্থ্য আছে? খাজনা দিতেই ফতুর হয়ে গেলাম। ঘরেদোরে আর কোনো কিছুই নেই, পড়ে আছে কেবল একটি ঘোড়া। একমুঠো আটা আর জল—এই আমাদের সারাদিনের আহার। নতুন ফসল তোলা পর্যন্ত বাঁচব কি করে জানি না।’
‘ঠিক আছে, তোকে এটা এমনিই দিলাম, দাম দিতে হবে না। আনন্দ করে খাস।’ বলল তীরন্দাজ।
চাষী তার কাছ থেকে পাখিটা নিয়ে বলল, ‘তোমায় দয়ার কথা কখনও ভুলব না ভালোমানুষের ছেলে। এখন থেকে তুমি আমাকে নিজের বন্ধু বলে মনে করবে। যখনি তুমি আমার বাড়ি পাশ দিয়ে যাবে অবশ্যই এসো, আমাদের প্রিয় অতিথি হবে।’
‘আচ্ছা!’ বলে তীরন্দাজ নিজের বাড়ির পথ ধরল।
কয়েকদিন বাদে আবার শিকারে গেছে তীরন্দাজ। বিভিন্ন ধরণের অনেক পাখি মেরে বাড়ি ফিরছে! হঠাৎ দেখে পথের শুয়ে আছে এক থুরথুরে বুড়ো।
‘কি হল গো চাচা?’ জিজ্ঞাসা করল তীরন্দাজ।
‘আর কি বাপ, বুড়ো হয়েছি, রোগে ধরেছে। সারাজীবন বাদশাহর প্রাসাদে কাজ করেছি আর এখন ক্ষমতা নেই কাজ করার। কেউ দেখে না আমায়, খাবার কিছু নেই আমার।’
‘এইগুলো নাও তুমি। এসব আমি শিকার করেছি।’ বলল তীরন্দাজ।
‘না রে বাপ, এ আমি নিতে পারব না, এর দাম অনেক!’ বলল বুড়ো।
‘দাম কেবল লক্ষ্য স্থির করার আর হাতের তীর ছোঁড়ার। আর পাখি শিকার করেছি আমি খুব সহজেই। নাও এগুলো বেশ কিছুদিন চলে যাবে তোমার এতে।’ বলে তীরন্দাজ বুড়োর সামনে শিকার করা সব পাখিগুলো রেখে দিল।
বুড়ো তীরন্দাজের এই আচরণে অভিভূত হয়ে কেঁদে ফেলল আর বলল: ‘যতদিন আমি বেঁচে আছি আমাকে তোমার বন্ধু মনে কোরো। যখনি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবে অবশ্য এসো, তোমাকে ছেলের আদরে গ্রহণ করব।’
‘ধন্যবাদ।’ বলে তীরন্দাজ বাড়ির পথ ধরল।
কয়েকদিন বাদে তীরন্দাজ আবার শিকারে গিয়ে অনেক পাখি মারল। ফেরার পথে সে দেখে একটা বাড়ির খোলা ফটকের কাছে মাটিতে দাগ কেটে গোল করে বেড় আঁকা, সেই বেড়ের ভিতরে বসে আছে একজন লোক।
‘এমনি করে বসে আছিস কেন? কি দোষ করেছিস?’ জিজ্ঞাসা করল তীরন্দাজ।
‘ধার করেছিলাম এই ধনীর কাছে, কিন্তু সে ধার শোধ দেবার ক্ষমতা নেই। তাই সে আমাকে এই বেড়ের মধ্যে বসিয়ে দিয়েছে, বলেছে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকতে। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ আমার হয়ে সে ধার মিটিয়ে দিতে না পারে তো কাল থেকে আমি ঐ ধনীর ক্রীতদাস হব। কে-ই বা সে ধার মিটিয়ে দিতে পারবে আমার হয়ে? ধনী আত্মীয়স্বজন নেই তো আমার। কাল থেকে ক্রীতদাস হব।’ বলল গরীব লোকটি।
‘না তা হবে না।’ বলল তীরন্দাজ। ‘এই নাও আমার শিকার, ঐ ধনী লোকটিকে দাও গিয়ে—সে তোমায় ছেড়ে দেবে।’
গরীব লোকটি চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল তীরন্দাজের দিকে। তীরন্দাজ ওদিকে সব মারা পাখিগুলো কাঁধ থেকে নামিয়ে গরীব লোকটির সামনে রাখতে আরম্ভ করেছে।
গরীব লোকটি বলল: ‘তুমি, বন্ধু, বাঁচালে আমায়। তোমার কাছে ঋণী রইলাম আমি। ঐ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments