তীরন্দাজ আর তার বন্ধুরা

অনেক অনেকদিন আগে ছিল এক শিকারী—এক নিপূণ তীরন্দাজ। শিকারে গিয়ে খালি হাতে ফিরত না সে কখনও।

একদিন সে অনেক জীবজন্তু শিকার করে নিয়ে ফিরছিল, পথে দেখা হল তার এক গরীব চাষীর সঙ্গে।’

‘ভাল শিকার করেছ হে, তীরন্দাজ! বেশ ভালো দামে বেচতে পারবে তোমার আজকের শিকার।’

তীরন্দাজ গরীব চাষীকে লক্ষ্য করে বলল, ‘লক্ষ্য স্থির করা আর হাতের তীর ছোঁড়ার নিপূণতারই হল আসলে দাম। এই পাখিটার দাম অন্যের কাছে কি পাব জানি না, কিন্তু তোমায় এটা খুব শস্তায় দিয়ে দেব। এর জন্য যা দেওয়া কুলোয় তোমার ক্ষমতায় তা-ই দেবে।’

‘শোন গো ভালমানুষের ছেলে, আমার কি পাখি কেনার সামর্থ্য আছে? খাজনা দিতেই ফতুর হয়ে গেলাম। ঘরেদোরে আর কোনো কিছুই নেই, পড়ে আছে কেবল একটি ঘোড়া। একমুঠো আটা আর জল—এই আমাদের সারাদিনের আহার। নতুন ফসল তোলা পর্যন্ত বাঁচব কি করে জানি না।’

‘ঠিক আছে, তোকে এটা এমনিই দিলাম, দাম দিতে হবে না। আনন্দ করে খাস।’ বলল তীরন্দাজ।

চাষী তার কাছ থেকে পাখিটা নিয়ে বলল, ‘তোমায় দয়ার কথা কখনও ভুলব না ভালোমানুষের ছেলে। এখন থেকে তুমি আমাকে নিজের বন্ধু বলে মনে করবে। যখনি তুমি আমার বাড়ি পাশ দিয়ে যাবে অবশ্যই এসো, আমাদের প্রিয় অতিথি হবে।’

‘আচ্ছা!’ বলে তীরন্দাজ নিজের বাড়ির পথ ধরল।

কয়েকদিন বাদে আবার শিকারে গেছে তীরন্দাজ। বিভিন্ন ধরণের অনেক পাখি মেরে বাড়ি ফিরছে! হঠাৎ দেখে পথের শুয়ে আছে এক থুরথুরে বুড়ো।

‘কি হল গো চাচা?’ জিজ্ঞাসা করল তীরন্দাজ।

‘আর কি বাপ, বুড়ো হয়েছি, রোগে ধরেছে। সারাজীবন বাদশাহর প্রাসাদে কাজ করেছি আর এখন ক্ষমতা নেই কাজ করার। কেউ দেখে না আমায়, খাবার কিছু নেই আমার।’

‘এইগুলো নাও তুমি। এসব আমি শিকার করেছি।’ বলল তীরন্দাজ।

‘না রে বাপ, এ আমি নিতে পারব না, এর দাম অনেক!’ বলল বুড়ো।

‘দাম কেবল লক্ষ্য স্থির করার আর হাতের তীর ছোঁড়ার। আর পাখি শিকার করেছি আমি খুব সহজেই। নাও এগুলো বেশ কিছুদিন চলে যাবে তোমার এতে।’ বলে তীরন্দাজ বুড়োর সামনে শিকার করা সব পাখিগুলো রেখে দিল।

বুড়ো তীরন্দাজের এই আচরণে অভিভূত হয়ে কেঁদে ফেলল আর বলল: ‘যতদিন আমি বেঁচে আছি আমাকে তোমার বন্ধু মনে কোরো। যখনি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবে অবশ্য এসো, তোমাকে ছেলের আদরে গ্রহণ করব।’

‘ধন্যবাদ।’ বলে তীরন্দাজ বাড়ির পথ ধরল।

কয়েকদিন বাদে তীরন্দাজ আবার শিকারে গিয়ে অনেক পাখি মারল। ফেরার পথে সে দেখে একটা বাড়ির খোলা ফটকের কাছে মাটিতে দাগ কেটে গোল করে বেড় আঁকা, সেই বেড়ের ভিতরে বসে আছে একজন লোক।

‘এমনি করে বসে আছিস কেন? কি দোষ করেছিস?’ জিজ্ঞাসা করল তীরন্দাজ।

‘ধার করেছিলাম এই ধনীর কাছে, কিন্তু সে ধার শোধ দেবার ক্ষমতা নেই। তাই সে আমাকে এই বেড়ের মধ্যে বসিয়ে দিয়েছে, বলেছে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকতে। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ আমার হয়ে সে ধার মিটিয়ে দিতে না পারে তো কাল থেকে আমি ঐ ধনীর ক্রীতদাস হব। কে-ই বা সে ধার মিটিয়ে দিতে পারবে আমার হয়ে? ধনী আত্মীয়স্বজন নেই তো আমার। কাল থেকে ক্রীতদাস হব।’ বলল গরীব লোকটি।

‘না তা হবে না।’ বলল তীরন্দাজ। ‘এই নাও আমার শিকার, ঐ ধনী লোকটিকে দাও গিয়ে—সে তোমায় ছেড়ে দেবে।’

গরীব লোকটি চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল তীরন্দাজের দিকে। তীরন্দাজ ওদিকে সব মারা পাখিগুলো কাঁধ থেকে নামিয়ে গরীব লোকটির সামনে রাখতে আরম্ভ করেছে।

গরীব লোকটি বলল: ‘তুমি, বন্ধু, বাঁচালে আমায়। তোমার কাছে ঋণী রইলাম আমি। ঐ

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice