কথাবলা মোহর

এক গ্রামে এক কিপ্পন বুড়ো ছিল। নিজে সে ছেঁড়া পোশাক আশাক পরে থাকে, ছেলেমেয়ে, বউকে রাখে আধপেটা খাইয়ে, নিজেও পেটভরে খায় না—এমনি ভাবে অর্থ জমাবার চেষ্টা করে। এক ঘড়া সোনার আর এক ঘড়া রূপোর মোহর জমিয়ে সে নিজের বাড়ির বেড়ার নীচে মাটিতে পুঁতে রেখে দিল।

কিন্তু সে বছর ফসল মোটে হল না, তাই বুড়োর মনে পড়ল সেই সঞ্চিত ধনের কথা।

একটা কোদাল নিয়ে গিয়ে সে মাটি খুঁড়তে লাগল সে ধন তুলবে বলে। সোনার মোহরভরা ঘড়াটা তুলে যেই খুলতে যাবে অমনি কে যেন বলে উঠল: ‘ছুঁয়ো না—এ হল কুরবানের ধন!’

‘আরে এ আবার কি?’ অবাক হল বুড়ো, তাড়াতাড়ি সে ঘড়ার মুখটা চেপে বন্ধ করে দিয়ে রূপোভরা ঘড়াটা খুলতে লাগল। সে ঘড়ার মুখটা খোলা মাত্র আবার শুনতে পেল, ‘ছুঁয়ো না—এ হল কুরবানের অর্থ!’

‘এ সবের মানে কি?’ অবাক হল বুড়ো, তাড়াতাড়ি সে ঘড়ার মুখটা চেপে বন্ধ করে দিল। ‘আমি জমালাম সোনা, রূপো আর এখন দেখছি এ কোন এক কুরবানের হয়ে গেল! তা হতেই পারে না।’

আবার ঘড়াদুটোকে মাটিতে পুঁতে দিয়ে বেড়ার কাছে বসে ভাবতে লাগল: ‘আমার ধন কোন এক কুরবানের হাতে চলে যেতে চায়! আমাদের পাড়াতেই তো থাকে স্যাঁকরা কুরবান। আমার ধন যেতে চায় স্যাঁকরার কাছে?! এ ধন জমিয়েছি আমি, এ আমি অন্য কারুর হাতে পড়তে দেব না!’

ছুটে বাড়িতে গিয়ে আর দড়ি নিয়ে এসে নিজের গাধায় চড়ে গেল পাহাড়ের দিকে। সেখানে একটা গাছ কেটে, তার গুঁড়ির দুটো বড় টুকরো কেটে নিয়ে গাধার পিঠে করে নিয়ে এল বাড়িতে।

বাড়িতে গুঁড়ির কাটা টুকরোগুলোতে গর্ত করল। তারপর মাটি খুঁড়ে সোনারূপোর মোহরভরা ঘড়াগুলো তুলে এনে একটা কাটা গুঁড়ির গর্তের মধ্যে ঢালল সোনার মোহরগুলো, অন্য কাঁটা গুঁড়ির গর্তের মধ্যে ঢালল রূপোর মোহর। তারপর গর্তগুলোর মুখ কাঠের টুকরোটাকরা গুঁড়ো দিয়ে এমনভাবে বন্ধ করে দিল যে কোনো ফাঁকই রইল না আর।

তখনি সে কাটা গুঁড়িগুলোকে গাধার পিঠে করে নিয়ে চলল নদীর কাছে, ছুঁড়ে সেগুলোকে ফেলে দিল নদীতে।

‘দেখব এবার কেমন করে তোমরা কুরবানের হও!’

সারারাত ঘুমোতে পারে না কিপটে, ভাবে: ‘হায়, এ আমি কি করলাম! এতদিন ধরে অর্থ জমিয়ে জমিয়ে শেষে কিনা নিজেই তা ফেলে দিলাম নদীতে! আর এখন দুঃখে হতাশায় চোখ বুঁজছে পারছি না!’

ভোরের আলো ফুটতে আরম্ভ করামাত্রই সে চলল নদীর তীর বরাবর নিজের সেই গুঁড়ির টুকরোগুলোর খোঁজে। নদীর এপার ওপারে চোখ চালিয়ে দেখতে লাগল যদি কোন কিছুতে আটকে লেগে থেকে সেগুলো। কিন্তু কোথাও কিছুই দেখা যায় না।

এমনিভাবে নিজের মোহরগুলো খুঁজতে খুঁজতে নদীর তীর বরাবর যেতে যেতে সে পৌঁছে গেল প্রতিবেশী শহরে।

সেই শহরে ছিল এক ধনী লোক কাসিম। নদীতীরে সে দাঁড় করিয়ে রাখত দু’জন কর্মচারীকে যারা নদীতে ভেসে গাছ, গুঁড়ি কাঠ সব তুলে নিত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যাবেলায় সেই কাঠগুলো গাধার পিঠে চাপিয়ে নিয়ে আসত কাসিমের বাড়িতে।

কাসিমের কর্মচারীরা একদিন দেখল আর্চা গাছের কাটা দুটো গুঁড়ি ভেসে আসছে, সেগুলোও তুলে নিল তারা।

সেই শহরে বাস করত এক গরিব কামার কুরবান। সে কাঠ কিনত কাসিমবাইয়ের কাছে, কাঠ কিনে কিনে সে অনেক ধার করে ফেলেছে তার কাছে, কিছুতেই সে ধার মিটিয়ে দিতে পারে না।

সে দিন যখন কাসিমবাইয়ের কর্মচারীরা আর্চা গাছের কাটা গুঁড়িগুলো নিয়ে এল তখন কাসিম কামারকে ডেকে বলল, ‘যদি ধরে শোধ করতে না পারিস তাহলে খেটে দে তার বদলে। এখন আমার বাড়িতে গিয়ে কাঠ নিয়ে পুড়িয়ে কাঠ কয়লা করে দে।’

কাসিমবাইয়ের বাড়ির উঠোনে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice