সোনার পাখি তিল্লোগিন

এক ছিল গরীবলোক। দুনিয়ায় তার আপন বলতে ছিল কেবল এক ছেলে। আর সম্পত্তি বলতে ছিল এক পাঁশুটে রংয়ের কুকুর আর একটি বেড়াল।

এক রাতে লোকটি তার ছেলেকে ডেকে বলল, ‘আমার বয়স হল রে, বাবা, রুগ্ন আমি, মরব ক’দিন বাদেই। তোকে এবার জানাতে চাই একটা গোপন কথা। অনেক দিন আগে যখন আমার বয়স কম, উঠোনে একটা চৌবাচ্চা খুঁড়ছিলাম আমি। হঠাৎ আমার কোদালে ঠেকল শক্ত কি একটা। আরও খুঁড়তে লাগলাম, খুঁড়তে খুঁড়তে পেলাম একটা লোহার সিন্দুক আর খুললাম না, ভাবলাম জীবনে যখন খুব কঠিন দিন আসবে তখনই খুলব। জীবনে কত কঠিন দিন এসেছে, কিন্তু কখনও ছুঁই নি সিন্দুকটা। আজ বুড়ো হয়ে গেলাম। সে ধন ভোগ করলাম না। এবার আমি সে ধন ছুঁই নি সিন্দুকটা। আজ বুড়ো হয়ে গেলাম। সে ধন ভোগ করলাম না। এবার আমি সে ধন তুলে দিতে চাই তোর হাতে।’

লোকটি নিজের বিছানার মাথার কাছে হাতড়ে হাতড়ে একটা চাবি পেল, দিল সেটা ছেলের হাতে।

ভোরবেলায় ছেলেটি কোদাল নিয়ে চৌবাচ্চায়ে মাটি খুঁড়তে লাগল। তার কুকুর আর বেড়ালও চলল তার সঙ্গে, নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে তারাও সাহায্য করতে লাগল মাটি খুঁড়তে।

খুঁড়তে খুঁড়তে শেষে ছেলেটি পেল সিন্দুকটা, সিন্দুকের ঢাকার হাতলটা ধরে টান দিল, কিন্তু নড়াতে পারল না সেটাকে মোটে, যেন মাটিতে গেঁথে গেছে সেটা। তখন ছেলেটি সিন্দুকের ডালায় চাবি পরিয়ে ঘোরাল।

সিন্দুকের ডালাটা তখুনি খুলে গেল সড়াৎ করে আর তার ভিতর থেকে মাথা তুলল একটা মস্ত বড় সাপ। ছেলেটি কোদাল তুলল সাপটাকে আঘাত করবে বলে, কুকুর আর বিড়ালও তাদের প্রভুকে বাঁচবে বলে সাপটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল। কিন্তু সাপটা হিসহিস করে কথা বলে উঠল মানুষের গলায়, ‘শোন যুবক! তুমি আমাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেছ বলে আমি দামী উপহার দোব। সিন্দুকে তুমি পাবে একটা সোনার বাক্স, তাতে আছে একটা ছোট্ট সোনার পাখি তিল্লোগিন। পাখিটা নিয়ে তাকে সাত পরত তুলোয় মুড়ে লুকিয়ে রাখবে নিজের মাথার বালিশের নিচে। যখন তোমার কোন কিছু পেতে ইচ্ছে হবে, তখন পাখিটা নিয়ে হাতের ওপর রেখে তাকে বলবে যা চাও তুমি। পাখিটা পাখা ঝাপটা দেবে আর তখনি তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে।’

এ কথা বলে সাপটা সিন্দুক থেকে বেরিয়ে চলে গেল। ছেলেটি তখন সিন্দুকের ভিতরে দেখল, দেখে সত্যিই সেখানে রয়েছে একটা সোনার বাক্স। বাক্সটা খুলে তার ভিতরে পেল সোনার পাখি তিল্লোগিন। পাখিটা নিয়ে হাতের তেলোর ওপর রেখে বলল, ‘আমার বাবা যেন সুস্থ হয়ে যান আর আমার বাড়িটা নতুন হয়ে যাক!’

নড়েচড়ে উঠল সোনার পাখিটা, ডানা ঝাপটা দিল, তার সোনার পালকগুলের ঝলকে চোখ ঝলসে গেল।

ছেলেটি পোশাকের প্রান্তে পাখিটা ঢেকে নিয়ে ছুটল বাড়ির দিকে।

তাদের পুরোন বাড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন চমৎকার বাড়ি একটা আর বাবা বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সুস্থ, হাসিখুশি।

পাখিটা আবার হাতের তেলোয় বসিয়ে ছেলেটি বলল, ‘আমার কুকুরটা যেন বাতাসের মত দ্রুতগামী হয় আর বেড়ালের চোখ যেন এমন তীক্ষ্ণদৃষ্টি হয় যে যা কিছু লুকান থাকে সব যেন দেখতে পায়!’

নড়েচড়ে উঠল পাখিটা, পাখায় ঝাপটা দিল, সোনার পালকগুলো চোখ বাঁধিয়ে দিল। ছেলেটি তাড়াতাড়ি পাখিটাকে পোশাকের প্রান্তে ঢেকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সাত পরত তুলো দিয়ে মুড়ে রাখল সেটাকে নিজের মাথার বালিশের নিচে। তারপর বাবাকে বলল, ‘কুকুরের পিঠে বস, ও তোমাকে নিয়ে যাবে বাদশাহর প্রাসাদে। প্রাসাদে গেয়ে শাহজাদী সঙ্গে আমার বিয়ের প্রস্তাব কর!’

‘তোর মাথার গোলমাল হয় নি তো, বাছা? শাহজাদীকে বিয়ে করতে যাবি কেন রে তুই?’ অবাক হয়ে বলল বাবা।

কিন্তু

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion