- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ১৯৭
সোনার পাখি তিল্লোগিন
এক ছিল গরীবলোক। দুনিয়ায় তার আপন বলতে ছিল কেবল এক ছেলে। আর সম্পত্তি বলতে ছিল এক পাঁশুটে রংয়ের কুকুর আর একটি বেড়াল।
এক রাতে লোকটি তার ছেলেকে ডেকে বলল, ‘আমার বয়স হল রে, বাবা, রুগ্ন আমি, মরব ক’দিন বাদেই। তোকে এবার জানাতে চাই একটা গোপন কথা। অনেক দিন আগে যখন আমার বয়স কম, উঠোনে একটা চৌবাচ্চা খুঁড়ছিলাম আমি। হঠাৎ আমার কোদালে ঠেকল শক্ত কি একটা। আরও খুঁড়তে লাগলাম, খুঁড়তে খুঁড়তে পেলাম একটা লোহার সিন্দুক আর খুললাম না, ভাবলাম জীবনে যখন খুব কঠিন দিন আসবে তখনই খুলব। জীবনে কত কঠিন দিন এসেছে, কিন্তু কখনও ছুঁই নি সিন্দুকটা। আজ বুড়ো হয়ে গেলাম। সে ধন ভোগ করলাম না। এবার আমি সে ধন ছুঁই নি সিন্দুকটা। আজ বুড়ো হয়ে গেলাম। সে ধন ভোগ করলাম না। এবার আমি সে ধন তুলে দিতে চাই তোর হাতে।’
লোকটি নিজের বিছানার মাথার কাছে হাতড়ে হাতড়ে একটা চাবি পেল, দিল সেটা ছেলের হাতে।
ভোরবেলায় ছেলেটি কোদাল নিয়ে চৌবাচ্চায়ে মাটি খুঁড়তে লাগল। তার কুকুর আর বেড়ালও চলল তার সঙ্গে, নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে তারাও সাহায্য করতে লাগল মাটি খুঁড়তে।
খুঁড়তে খুঁড়তে শেষে ছেলেটি পেল সিন্দুকটা, সিন্দুকের ঢাকার হাতলটা ধরে টান দিল, কিন্তু নড়াতে পারল না সেটাকে মোটে, যেন মাটিতে গেঁথে গেছে সেটা। তখন ছেলেটি সিন্দুকের ডালায় চাবি পরিয়ে ঘোরাল।
সিন্দুকের ডালাটা তখুনি খুলে গেল সড়াৎ করে আর তার ভিতর থেকে মাথা তুলল একটা মস্ত বড় সাপ। ছেলেটি কোদাল তুলল সাপটাকে আঘাত করবে বলে, কুকুর আর বিড়ালও তাদের প্রভুকে বাঁচবে বলে সাপটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল। কিন্তু সাপটা হিসহিস করে কথা বলে উঠল মানুষের গলায়, ‘শোন যুবক! তুমি আমাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেছ বলে আমি দামী উপহার দোব। সিন্দুকে তুমি পাবে একটা সোনার বাক্স, তাতে আছে একটা ছোট্ট সোনার পাখি তিল্লোগিন। পাখিটা নিয়ে তাকে সাত পরত তুলোয় মুড়ে লুকিয়ে রাখবে নিজের মাথার বালিশের নিচে। যখন তোমার কোন কিছু পেতে ইচ্ছে হবে, তখন পাখিটা নিয়ে হাতের ওপর রেখে তাকে বলবে যা চাও তুমি। পাখিটা পাখা ঝাপটা দেবে আর তখনি তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে।’
এ কথা বলে সাপটা সিন্দুক থেকে বেরিয়ে চলে গেল। ছেলেটি তখন সিন্দুকের ভিতরে দেখল, দেখে সত্যিই সেখানে রয়েছে একটা সোনার বাক্স। বাক্সটা খুলে তার ভিতরে পেল সোনার পাখি তিল্লোগিন। পাখিটা নিয়ে হাতের তেলোর ওপর রেখে বলল, ‘আমার বাবা যেন সুস্থ হয়ে যান আর আমার বাড়িটা নতুন হয়ে যাক!’
নড়েচড়ে উঠল সোনার পাখিটা, ডানা ঝাপটা দিল, তার সোনার পালকগুলের ঝলকে চোখ ঝলসে গেল।
ছেলেটি পোশাকের প্রান্তে পাখিটা ঢেকে নিয়ে ছুটল বাড়ির দিকে।
তাদের পুরোন বাড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন চমৎকার বাড়ি একটা আর বাবা বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সুস্থ, হাসিখুশি।
পাখিটা আবার হাতের তেলোয় বসিয়ে ছেলেটি বলল, ‘আমার কুকুরটা যেন বাতাসের মত দ্রুতগামী হয় আর বেড়ালের চোখ যেন এমন তীক্ষ্ণদৃষ্টি হয় যে যা কিছু লুকান থাকে সব যেন দেখতে পায়!’
নড়েচড়ে উঠল পাখিটা, পাখায় ঝাপটা দিল, সোনার পালকগুলো চোখ বাঁধিয়ে দিল। ছেলেটি তাড়াতাড়ি পাখিটাকে পোশাকের প্রান্তে ঢেকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সাত পরত তুলো দিয়ে মুড়ে রাখল সেটাকে নিজের মাথার বালিশের নিচে। তারপর বাবাকে বলল, ‘কুকুরের পিঠে বস, ও তোমাকে নিয়ে যাবে বাদশাহর প্রাসাদে। প্রাসাদে গেয়ে শাহজাদী সঙ্গে আমার বিয়ের প্রস্তাব কর!’
‘তোর মাথার গোলমাল হয় নি তো, বাছা? শাহজাদীকে বিয়ে করতে যাবি কেন রে তুই?’ অবাক হয়ে বলল বাবা।
কিন্তু
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments