- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২০২
হাসান ও নেকড়ে
একসময় এক মহাপ্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন। প্রচুর ধনসম্পদ তাঁর কোষাগারে, তিনটি ছেলে তাঁর বেড়ে উঠেছে। কিন্তু ধনসম্পদ বা তিন ছেলে কোনোকিছুই বাদশাহর মনে আনন্দ দিতে পারে না।
সব সময়ই মন খারাপ তাঁর। তাঁর সভাসদরা বা ছেলেরা যত চেষ্টাই করুক না কেন তাঁর মনে খুশী আসার কিছুতেই কিছু হয় না।
একদিন তাঁর কাছে প্রধান উজির এসে বলল: ‘তোমার এই বিষাদ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মনেও। তোমার এত ক্ষমতা—যা চাও বল, আদেশ দাও, আমোদে মাত।’
‘নিজেই বুঝি না আমি কেন আমার এ বিষাদ, কিছুই ইচ্ছা করে না আমার।’ উত্তর দিল বাদশাহ।
উজীর বলল: ‘তাহলে তোমার সেরা ঘোড়াগুলোকে সাজাতে বল। নিজের পারিষদের দল নিয়ে আপনার রাজ্যের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ কর। হয়ত পথে পড়বে এমন কোন জিনিস যাতে আগ্রহ জাগবে মনের বিষাদ দূর হবে।’
প্রধান উজীরের উপদেশ মেনে বাদশাহ পারিষদদের এক বিরাট দল নিয়ে, তিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজের রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণে বেরোলেন।
শহর প্রদক্ষিণ করে সব মাঠবসতি ঘুরে, নিজের ঊনচল্লিশটা বাগান দেখলেন, কিন্তু এমন কিছু দেখতে পেলেন না যা দূর করতে পারে তাঁর মনের বিষাদ।
প্রাসাদে ফিরে যেতে চাইলেন তিনি, কিন্তু উজীর তাঁকে বলল চল্লিশতম বাগানটিতেও যেতে: হয়ত সেখানে তিনি বিশেষ কোন কিছু দেখতে পাবেন!
চল্লিশতম বাগানটি সব বাগানের চেয়ে সুন্দর। সেখানের ঘাস পাতা, ফুল অন্যান্য বাগানের চেয়ে আরও সুন্দর।
বাগানের মাঝখানে সবুজ ঘাসঢাকা মাটিতে উঠেছে একটা বড় গাছ, একটাও পাতা নেই সে গাছে। বাদশাহর জানতে ইচ্ছা হল কি গাছ সেটা।
‘এ গাছটি অতি দুষ্প্রাপ্য ও বিস্ময়কর’, বলল মালী, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যা ছটায় গাছটার চূড়ায় কুঁড়ি ধরে, সাতটার সময়ে গাছটা পাতায় ভরে যায় আর নটা নাগাদ ফুল ফোটে আর বারোটা নাগাদ ফলে পাক ধরে। কিন্তু মাঝরাতে একটা অজানা পাখী উড়ে এসে গাছে বসে, তাড়াতাড়ি ফলটা ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে নিয়ে আবার উড়ে চলে যায়।’
‘কেউ এই গাছের ফলটা পাড়ে যেন আর যে পাখিটা ফল খায় তাকে ধরে।’ বললেন বাদশাহ।
বাদশাহর ছোট ছেলে হাসান বাবার আদেশ পালন করার ভার নিল।
সবাই বাগান ছেড়ে চলে গেলে হাসান একা রইল গাছটার তলায়। গোটা সন্ধ্যাটা গাছ তলায় বসে কাটাল, কিন্তু ফলে যখন ঠিক পাক ধরার সময় তখনই গভীর ঘুমে কখন যে সে চলে পড়ল নিজেই বুঝতে পারল না ছেলেটি।
ভোরবেলায় বাদশাহর দূত বাগানে এসে বলল যে বাদশাহ অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করে আছেন ছেলের ফিরে আসার জন্য।
নিজের ব্যর্থতায় অন্তত মন খারাপ হয়ে গেল শাহজাদার, তার ভীষণ ইচ্ছা হচ্ছিল বাবাকে একটুখানি খুশী করতে যাতে তার মনের ভার দূর হয়। হাসান বাবাকে জানাতে বলল যে পরের দিন রাত্রে সে যেমন করেই হোক পূরণ করবে বাবার ইচ্ছা।
দিনের বেলায় ঘুমিয়ে নিল হাসান, যাতে রাতের বেলায় পাখিটার ওপর চোখ রাখা যায় আর ফলটা পাওয়া যায়, কিন্তু সে রাতেও যখন ফলে পাক ধরল আর পাখি উড়ে এল হাসান আবারও ঘুমিয়ে পড়ল নিজের অলক্ষ্যে, দেখতে পেল না কিছুই।
ভোরবেলায় বাদশাহর দূতরা হাসানকে জানাল যে তার ব্যর্থতার কথা শুনে বাদশাহ আরও ভেঙে পড়েছেন। হাসান ঠিক করল তৃতীয় রাতেও ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখবে সে।
সেদিন ঘুমের সঙ্গে লড়াই করে সে জেগে বসে রইল মাঝরাত পর্যন্ত। দেখল কেমন করে ফুল ফুটল গাছে, তারপর যেই ফলে পাক ধরতে আরম্ভ করল অমনি উড়ে এল একটা পাখি, কিন্তু পাখিটা সেখানে মানুষ দেখতে পেয়েই উড়ে পালিয়ে গেল। পাখিটার দিকে তীর ছুঁড়ল হাসান কিন্তু মেরে ফেলল না কেবল তার পাখনা থেকে খসে পড়ল একটা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments