হাসান ও নেকড়ে

একসময় এক মহাপ্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন। প্রচুর ধনসম্পদ তাঁর কোষাগারে, তিনটি ছেলে তাঁর বেড়ে উঠেছে। কিন্তু ধনসম্পদ বা তিন ছেলে কোনোকিছুই বাদশাহর মনে আনন্দ দিতে পারে না।

সব সময়ই মন খারাপ তাঁর। তাঁর সভাসদরা বা ছেলেরা যত চেষ্টাই করুক না কেন তাঁর মনে খুশী আসার কিছুতেই কিছু হয় না।

একদিন তাঁর কাছে প্রধান উজির এসে বলল: ‘তোমার এই বিষাদ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মনেও। তোমার এত ক্ষমতা—যা চাও বল, আদেশ দাও, আমোদে মাত।’

‘নিজেই বুঝি না আমি কেন আমার এ বিষাদ, কিছুই ইচ্ছা করে না আমার।’ উত্তর দিল বাদশাহ।

উজীর বলল: ‘তাহলে তোমার সেরা ঘোড়াগুলোকে সাজাতে বল। নিজের পারিষদের দল নিয়ে আপনার রাজ্যের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ কর। হয়ত পথে পড়বে এমন কোন জিনিস যাতে আগ্রহ জাগবে মনের বিষাদ দূর হবে।’

প্রধান উজীরের উপদেশ মেনে বাদশাহ পারিষদদের এক বিরাট দল নিয়ে, তিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজের রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণে বেরোলেন।

শহর প্রদক্ষিণ করে সব মাঠবসতি ঘুরে, নিজের ঊনচল্লিশটা বাগান দেখলেন, কিন্তু এমন কিছু দেখতে পেলেন না যা দূর করতে পারে তাঁর মনের বিষাদ।

প্রাসাদে ফিরে যেতে চাইলেন তিনি, কিন্তু উজীর তাঁকে বলল চল্লিশতম বাগানটিতেও যেতে: হয়ত সেখানে তিনি বিশেষ কোন কিছু দেখতে পাবেন!

চল্লিশতম বাগানটি সব বাগানের চেয়ে সুন্দর। সেখানের ঘাস পাতা, ফুল অন্যান্য বাগানের চেয়ে আরও সুন্দর।

বাগানের মাঝখানে সবুজ ঘাসঢাকা মাটিতে উঠেছে একটা বড় গাছ, একটাও পাতা নেই সে গাছে। বাদশাহর জানতে ইচ্ছা হল কি গাছ সেটা।

‘এ গাছটি অতি দুষ্প্রাপ্য ও বিস্ময়কর’, বলল মালী, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যা ছটায় গাছটার চূড়ায় কুঁড়ি ধরে, সাতটার সময়ে গাছটা পাতায় ভরে যায় আর নটা নাগাদ ফুল ফোটে আর বারোটা নাগাদ ফলে পাক ধরে। কিন্তু মাঝরাতে একটা অজানা পাখী উড়ে এসে গাছে বসে, তাড়াতাড়ি ফলটা ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে নিয়ে আবার উড়ে চলে যায়।’

‘কেউ এই গাছের ফলটা পাড়ে যেন আর যে পাখিটা ফল খায় তাকে ধরে।’ বললেন বাদশাহ।

বাদশাহর ছোট ছেলে হাসান বাবার আদেশ পালন করার ভার নিল।

সবাই বাগান ছেড়ে চলে গেলে হাসান একা রইল গাছটার তলায়। গোটা সন্ধ্যাটা গাছ তলায় বসে কাটাল, কিন্তু ফলে যখন ঠিক পাক ধরার সময় তখনই গভীর ঘুমে কখন যে সে চলে পড়ল নিজেই বুঝতে পারল না ছেলেটি।

ভোরবেলায় বাদশাহর দূত বাগানে এসে বলল যে বাদশাহ অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করে আছেন ছেলের ফিরে আসার জন্য।

নিজের ব্যর্থতায় অন্তত মন খারাপ হয়ে গেল শাহজাদার, তার ভীষণ ইচ্ছা হচ্ছিল বাবাকে একটুখানি খুশী করতে যাতে তার মনের ভার দূর হয়। হাসান বাবাকে জানাতে বলল যে পরের দিন রাত্রে সে যেমন করেই হোক পূরণ করবে বাবার ইচ্ছা।

দিনের বেলায় ঘুমিয়ে নিল হাসান, যাতে রাতের বেলায় পাখিটার ওপর চোখ রাখা যায় আর ফলটা পাওয়া যায়, কিন্তু সে রাতেও যখন ফলে পাক ধরল আর পাখি উড়ে এল হাসান আবারও ঘুমিয়ে পড়ল নিজের অলক্ষ্যে, দেখতে পেল না কিছুই।

ভোরবেলায় বাদশাহর দূতরা হাসানকে জানাল যে তার ব্যর্থতার কথা শুনে বাদশাহ আরও ভেঙে পড়েছেন। হাসান ঠিক করল তৃতীয় রাতেও ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখবে সে।

সেদিন ঘুমের সঙ্গে লড়াই করে সে জেগে বসে রইল মাঝরাত পর্যন্ত। দেখল কেমন করে ফুল ফুটল গাছে, তারপর যেই ফলে পাক ধরতে আরম্ভ করল অমনি উড়ে এল একটা পাখি, কিন্তু পাখিটা সেখানে মানুষ দেখতে পেয়েই উড়ে পালিয়ে গেল। পাখিটার দিকে তীর ছুঁড়ল হাসান কিন্তু মেরে ফেলল না কেবল তার পাখনা থেকে খসে পড়ল একটা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice