সুন্দরী আইসলু

এক গ্রামে তিন ভাই বাস করত। তারা ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী ও অসমসাহসী। সমবয়সীরা তাদের নিয়ে গর্ব করত, মেয়েরা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকত মুগ্ধ চোখে আর বৃদ্ধেরা তাদের প্রশংসা করত। বাচ্চা বয়স থেকেই ভাইয়েদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব: কখনও তাদের ছাড়াছাড়ি হয় নি, কখনও ঝগড়া বা তর্কও হয় নি তাদের মধ্যে।

একদিন তারা বাজপাখী নিয়ে স্তেপের মধ্যে গেল শিকারের উদ্দেশ্যে।

বহুক্ষণ ধরে তাদের চোখে কোন জন্তু বা পাখী পড়ল না। তারা ঘোড়া ফিরিয়ে গ্রামে ফিরে যাবার উদ্যোগ করছে এমন সময় হঠাৎ দেখতে পেল মাটিতে দেহটা প্রায় মিলিয়ে ছুটে গেল একটা শেয়াল, আগুনের মত লাল। ওর চমৎকার চামড়ার জন্য ভাল দাম পাওয়া যাবে! বড় ভাই বাজপাখীটাকে উড়িয়ে দিল, পাখীটা ডানা ছড়িয়ে দিয়ে আকাশে উড়ে গেল, তারপর উঁচু থেকে বিদ্যুৎগতিতে নেমে এল শেয়ালটার ওপরে।

জোরে ঘোড়া ছুটিয়ে ভাইয়েরা এসে পৌঁছল যেখানে পাখীটা নেমেছে, কিন্তু অবাক কাণ্ড! শেয়ালটা নেই, যেন কোন শেয়াল দেখাই যায় নি সেখানে, আর পাখীটা বসে আছে একটা পাথরের ফলকের ওপর, ফলকটাও যেমন তেমন ফলক নয়, কার দক্ষ ছেনীর আঘাতে তার ওপর ফুটে উঠেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। ফলকটির প্রান্তে অলঙ্করণ করে লেখা আছে: ‘যে আমার এই প্রতিকৃতিটা খুঁজে পেয়ে আমায় এনে দিতে পারবে আমি তার আজ্ঞাধীনা হব ও তাকে আমার স্বামী বলে মেনে নেব।’

স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তিন ভাই সেই রহস্যময় ফলকটির সামনে; ফলক থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি যেন জীবন্ত। তার প্রতি ভালবাসার আগুন জ্বলে উঠল তাদের প্রত্যেকেরই হৃদয়ে।

বড় ভাই বলল: ‘এবার কি হবে, কি করা উচিত আমাদের? এই অদ্ভুত পাথরটা খুঁজে পেয়েছি আমরা তিনজনে মিলে।’

মেজ ভাই বলল: ‘ঘুঁটি ফেলে দেখা যাক: ভাগ্যই নির্ধারণ করবে আমাদের মধ্যে কে সুন্দরীর খোঁজে যাবে।’

ছোট ভাই বলল: ‘ভাইয়েরা, আমরা সবাই মিলে পাথরটা পেয়েছি, আমরা সবাই মিলেই সুন্দরীর খোঁজে যাই, যদি আমাদের এমন ভাগ্য হয় যে আমরা চোখে দেখব তাকে তবে আমাদের তিনজনের মধ্য থেকে সে নিজেই তার পছন্দমত স্বামী বেছে নেবে।’

তাই ঠিক হল। পাথরটা তুলে নিল তারা, আর একটা অদ্ভুত ব্যাপার: পাথরটার নীচে চামড়ার থলিতে রাখা আছে তিন হাজার আগেকার দিনের মোহর। মোহরগুলি সমান ভাগে ভাগ করে নিল তারা। গ্রামে আর না ফিরেই সুন্দরীর খোঁজে রওয়ানা দিল তারা।

গোটা স্তেপ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চষে বেড়াল তারা, ঘোড়ার সাজ, জিন ছিঁড়েকুটে গেল, কিন্তু পাথরের ওপরে ক্ষোদিত সেই মেয়েটির খোঁজ পেল না। ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত তারা এসে উপস্থিত হল রাজধানীতে। রাজধানীর প্রান্তে এক বৃদ্ধা মহিলার সঙ্গে দেখা হল তাদের। ভাইয়েরা তাকে পাথরটা দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল, সে জানে কিনা পাথরে ক্ষোদিত ঐ সুন্দরীকে, কোথায় থাকে সে।

‘জানব না আবার,’ বলল মহিলাটি, ‘এ তো আমাদের খানের মেয়ে। ওর নাম আইসলু। ওর মত রূপগুনের অধিকারী আর কোনো মেয়ে নেই পৃথিবীতে।’

এত পথ পেরিয়ে আসার কষ্ট, ক্লান্তি সব ভুলে গিয়ে ভাইয়েরা তখনি রাজপ্রাসাদের দিকে রওনা দিল। পাথরের ফলকের ওপর লেখাটা পড়ে প্রহরীরা শাহজাদীর কক্ষে তাদের প্রবেশ করার অনুমতি দিল।

জীবন্ত আইসলুকে দেখে তারা হতবাক হয়ে গেল: চাঁদের নামে তার নাম[☆]কিন্তু সূর্যের মতই উজ্জ্বল সে।

‘কে আপনারা?’ আইসলু জিজ্ঞাসা করল। ‘কি প্রয়োজনে আমার কাছে আগমন?’

বড় ভাই সবায়ের হয়ে উত্তর দিল: ‘স্তেপের মধ্যে শিকার খুঁজতে খুঁজতে তোমার প্রতিকৃতিসমেত এই পাথরটা আমরা পাই, আর আধখানা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে অবশেষে এটাকে তোমার কাছে নিয়ে এসেছি। এবার প্রতিশ্রুতি পূরণ কর, আইসলু আমাদের মধ্য

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice